০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া হাঁড়কাপানো শীতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশু, নিষ্ঠুর বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ অনলাইন ব্যবস্থায় ইউটিলাইজেশন পারমিশন চালু করল এনবিআর গাজীপুরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত চার পুলিশ সদস্য পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ধাপে ধাপে টাকা তুলতে পারছেন গ্রাহকরা ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন বছরের শুরু শান্ত, গাড়ি খাতের উত্থানে সামলাল তামাক শেয়ারের ধাক্কা মসজিদভিত্তিক শিক্ষায় নতুন বছরের বই পেল ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের একশ তেইশতম জন্মবার্ষিকী আজ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের জানাজায় মানুষের ঢল ২০২৫ সালের বাজার কাঁপানো বছর: শুল্ক, ডলার, স্বর্ণ আর শক্তির দোলাচল

মার্কিন কৃষিতে বারো বিলিয়ন ডলারের সহায়তা, তবু সয়াবিন চাষিদের উদ্বেগ কাটছে না

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে বড় অঙ্কের সরকারি সহায়তা ঘোষণা করা হলেও সয়াবিন চাষিদের দুশ্চিন্তা কমছে না। নতুন এই সহায়তা প্যাকেজে ধান ও তুলা চাষিরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কম দামের ফসল, বাণিজ্যিক বিরোধ আর উৎপাদন খরচের চাপে থাকা সয়াবিন চাষিরা বলছেন, ঘোষিত অর্থ তাদের ক্ষতি সামাল দিতে যথেষ্ট নয়।

সহায়তা কর্মসূচির কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষক সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এককালীন মোট এগারো বিলিয়ন ডলার সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছাবে। যেসব কৃষক নির্ধারিত উনিশটি পণ্য ফসলের যেকোনো একটি চাষ করেছেন, তারা আবাদ করা জমির পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ পাবেন। হিসাব করা হয়েছে আগের বছরের আবাদ, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে।

কোন ফসলে কত সহায়তা
এই কর্মসূচিতে ধান চাষিরা একরপ্রতি সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন। তুলা ও ওটস চাষিরাও উল্লেখযোগ্য হারে সহায়তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ভুট্টা, গম এবং বিশেষ করে সয়াবিন চাষিরা তুলনামূলক কম অর্থের জন্য যোগ্য হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের মতে, বাজারের বর্তমান অবস্থা এবং খরচের হিসাব ধরেই এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সয়াবিন চাষিদের ক্ষোভ
সয়াবিন চাষিরা বলছেন, চলতি বছরে তাদের ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে এই সহায়তা তা সামাল দিতে পারবে না। চীনের বাজার হারানো, বৈশ্বিক শস্য উদ্বৃত্ত এবং দাম পড়ে যাওয়ায় সয়াবিন খাতে আর্থিক চাপ বেড়েছে। চাষিদের সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সহায়তা নিয়ে অনেক খামারই আগামী মৌসুমে টিকে থাকতে পারবে না।

বাণিজ্য সংকটের প্রভাব
বিশ্ববাজারে শস্যের জোগান বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম কমেছে। এর ওপর চীনের মতো বড় ক্রেতা দেশ দক্ষিণ আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ায় সয়াবিন রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগে। এই প্রেক্ষাপটে কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সহায়তা প্যাকেজটি স্বস্তি দেবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান করবে না।

অন্যান্য ফসল ও ভবিষ্যৎ সময়সূচি
চিনাবাদাম, জোয়ার, যব, সূর্যমুখী, ডালজাতীয় ফসল সহ আরও বেশ কিছু পণ্য এই সহায়তার আওতায় রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ কৃষকেরা অর্থ হাতে পাবেন। পুরো প্যাকেজের বাকি এক বিলিয়ন ডলার বিশেষ ফসল ও চিনি চাষিদের জন্য রাখা হয়েছে, তবে সেই অর্থ কীভাবে ও কবে দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ডিসেম্বরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। কৃষক সংগঠন ও কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোর আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বীজ, সার ও উৎপাদন খরচ মেটাতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া

মার্কিন কৃষিতে বারো বিলিয়ন ডলারের সহায়তা, তবু সয়াবিন চাষিদের উদ্বেগ কাটছে না

০৫:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে বড় অঙ্কের সরকারি সহায়তা ঘোষণা করা হলেও সয়াবিন চাষিদের দুশ্চিন্তা কমছে না। নতুন এই সহায়তা প্যাকেজে ধান ও তুলা চাষিরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কম দামের ফসল, বাণিজ্যিক বিরোধ আর উৎপাদন খরচের চাপে থাকা সয়াবিন চাষিরা বলছেন, ঘোষিত অর্থ তাদের ক্ষতি সামাল দিতে যথেষ্ট নয়।

সহায়তা কর্মসূচির কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষক সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এককালীন মোট এগারো বিলিয়ন ডলার সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছাবে। যেসব কৃষক নির্ধারিত উনিশটি পণ্য ফসলের যেকোনো একটি চাষ করেছেন, তারা আবাদ করা জমির পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ পাবেন। হিসাব করা হয়েছে আগের বছরের আবাদ, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে।

কোন ফসলে কত সহায়তা
এই কর্মসূচিতে ধান চাষিরা একরপ্রতি সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন। তুলা ও ওটস চাষিরাও উল্লেখযোগ্য হারে সহায়তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ভুট্টা, গম এবং বিশেষ করে সয়াবিন চাষিরা তুলনামূলক কম অর্থের জন্য যোগ্য হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের মতে, বাজারের বর্তমান অবস্থা এবং খরচের হিসাব ধরেই এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সয়াবিন চাষিদের ক্ষোভ
সয়াবিন চাষিরা বলছেন, চলতি বছরে তাদের ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বড় যে এই সহায়তা তা সামাল দিতে পারবে না। চীনের বাজার হারানো, বৈশ্বিক শস্য উদ্বৃত্ত এবং দাম পড়ে যাওয়ায় সয়াবিন খাতে আর্থিক চাপ বেড়েছে। চাষিদের সংগঠনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সহায়তা নিয়ে অনেক খামারই আগামী মৌসুমে টিকে থাকতে পারবে না।

বাণিজ্য সংকটের প্রভাব
বিশ্ববাজারে শস্যের জোগান বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম কমেছে। এর ওপর চীনের মতো বড় ক্রেতা দেশ দক্ষিণ আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ায় সয়াবিন রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগে। এই প্রেক্ষাপটে কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সহায়তা প্যাকেজটি স্বস্তি দেবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান করবে না।

অন্যান্য ফসল ও ভবিষ্যৎ সময়সূচি
চিনাবাদাম, জোয়ার, যব, সূর্যমুখী, ডালজাতীয় ফসল সহ আরও বেশ কিছু পণ্য এই সহায়তার আওতায় রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ কৃষকেরা অর্থ হাতে পাবেন। পুরো প্যাকেজের বাকি এক বিলিয়ন ডলার বিশেষ ফসল ও চিনি চাষিদের জন্য রাখা হয়েছে, তবে সেই অর্থ কীভাবে ও কবে দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত ডিসেম্বরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। কৃষক সংগঠন ও কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোর আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বীজ, সার ও উৎপাদন খরচ মেটাতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।