১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

তেলের দামে বড় ধস, পাঁচ বছরে সবচেয়ে গভীর বার্ষিক পতন

বছরের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে পুরো বছরে তেলের দামে প্রায় এক পঞ্চমাংশ পতন নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা বাজারকে চাপে রেখেছে ।

দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের রেকর্ড

২০২৫ সালে ব্রেন্ট ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় উনিশ শতাংশ কমেছে। এটি টানা তৃতীয় বছর লোকসান, যা ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলও প্রায় বিশ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বছরের শেষ দিনে বাজার বন্ধের সময় ব্রেন্টের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় একষট্টি ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম নেমে আসে সাতান্ন ডলারের কাছাকাছি।

সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে অতিরিক্ত উৎপাদনই ছিল দামের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ। যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল উৎপাদকরা আগেভাগেই উচ্চ দামে চুক্তি করে রাখায় উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। ফলে দামের ওঠানামায় সরবরাহ খুব একটা কমেনি। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট উৎপাদন বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করায় বাজারে অতিরিক্ত তেল ঢুকেছে।

মজুত ও চাহিদার বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য কমলেও ডিজেল ও পেট্রোলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। ছুটির মৌসুম শেষ হওয়ায় সামনে কয়েক মাস জ্বালানির চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এই বাস্তবতা দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে।

যুদ্ধ ও ভূরাজনীতি

বছরের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি তেলের বাজারে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ঝুঁকি তেলের দামকে মাঝেমধ্যে চাঙা করলেও দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত সরবরাহ সেই প্রভাবকে ঢেকে দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি একেবারে উপেক্ষা করা না গেলেও বাজারের মৌলিক চিত্র এখন সরবরাহের দিকেই ভারী।

সামনের বছরের পূর্বাভাস

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী বছরেও সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকতে পারে। ফলে দাম আরও কিছুটা কমলে উৎপাদক জোট উৎপাদন কমানোর পথে যেতে পারে। তবে যদি বর্তমান দাম স্থির থাকে, তাহলে সাময়িক বিরতির পর আবার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

তেলের দামে বড় ধস, পাঁচ বছরে সবচেয়ে গভীর বার্ষিক পতন

০৬:১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

বছরের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে পুরো বছরে তেলের দামে প্রায় এক পঞ্চমাংশ পতন নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা বাজারকে চাপে রেখেছে ।

দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের রেকর্ড

২০২৫ সালে ব্রেন্ট ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় উনিশ শতাংশ কমেছে। এটি টানা তৃতীয় বছর লোকসান, যা ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলও প্রায় বিশ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বছরের শেষ দিনে বাজার বন্ধের সময় ব্রেন্টের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় একষট্টি ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম নেমে আসে সাতান্ন ডলারের কাছাকাছি।

সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে অতিরিক্ত উৎপাদনই ছিল দামের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ। যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল উৎপাদকরা আগেভাগেই উচ্চ দামে চুক্তি করে রাখায় উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। ফলে দামের ওঠানামায় সরবরাহ খুব একটা কমেনি। একই সঙ্গে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট উৎপাদন বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করায় বাজারে অতিরিক্ত তেল ঢুকেছে।

মজুত ও চাহিদার বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য কমলেও ডিজেল ও পেট্রোলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। ছুটির মৌসুম শেষ হওয়ায় সামনে কয়েক মাস জ্বালানির চাহিদা দুর্বল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এই বাস্তবতা দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে।

যুদ্ধ ও ভূরাজনীতি

বছরের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি তেলের বাজারে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ঝুঁকি তেলের দামকে মাঝেমধ্যে চাঙা করলেও দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত সরবরাহ সেই প্রভাবকে ঢেকে দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি একেবারে উপেক্ষা করা না গেলেও বাজারের মৌলিক চিত্র এখন সরবরাহের দিকেই ভারী।

সামনের বছরের পূর্বাভাস

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী বছরেও সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকতে পারে। ফলে দাম আরও কিছুটা কমলে উৎপাদক জোট উৎপাদন কমানোর পথে যেতে পারে। তবে যদি বর্তমান দাম স্থির থাকে, তাহলে সাময়িক বিরতির পর আবার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।