তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বরাদ্দ ৫,৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি তোলে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
শিল্পের নাজুক পরিস্থিতি
বিজিএমইএ বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নাজুক’ বলে উল্লেখ করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রণোদনা ছাড়ে বিলম্ব, কার্যকরী মূলধনের ঘাটতি এবং ব্যবসা পরিচালনায় নানা জটিলতা শিল্পকে চাপে ফেলেছে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নগদ প্রণোদনা লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আটকে আছে। ফলে অনেক কারখানা তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে।
তিনি প্রণোদনা ছাড়ের বিদ্যমান ত্রৈমাসিক পদ্ধতির পরিবর্তে আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিজিএমইএর দাবিকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করেন। তিনি প্রক্রিয়াটি আধুনিক ও সহজ করে দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঋণ পুনঃতফসিল ও কার্যকরী মূলধন সংকট

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী ঋণ পুনঃতফসিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণ পুনঃতফসিল করে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কারখানা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন সরবরাহ করে না।
তিনি প্রস্তাব দেন, ঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো যেন কার্যকরী মূলধন সরবরাহ করে—এতে ব্যাংক ও শিল্প উভয়েরই লাভ হবে। অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাবের প্রতিও সমর্থন জানান।
অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পোশাক শিল্প
তৈরি পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বিজিএমইএকে এক সপ্তাহের মধ্যে খাতটির প্রধান প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পূর্ণ নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি বিদ্যা আমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















