০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ পদ্মা নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহের অংশ, শরীয়তপুরে চাঞ্চল্য সমাজ বদলে দেওয়া ছয় মানুষকে ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ চীনে বাজার হারাচ্ছে বোয়িং, ট্রাম্পের ২০০ উড়োজাহাজ চুক্তিও দূর করতে পারছে না সংকট ব্রিকস বৈঠকে যৌথ ঘোষণা হয়নি, ইরান-সংকটে প্রকাশ্যে মতভেদ জাপানের সস্তা খাবারের আড়ালে যে কঠিন বাস্তবতা তোহোকুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, থেমে গেল বুলেট ট্রেন চলাচল গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইলেন কারাবন্দি পিটিআই নেতারা

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের কারাবন্দি শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির কাছে চিঠি দিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও আইনগত অধিকার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানের চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন শাহ মাহমুদ কুরেশি, ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ইজাজ চৌধুরী, ওমর সরফরাজ চিমা ও মাহমুদ-উর-রশিদ। তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান খানকে বারবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

চোখের জটিল রোগ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

পাকিস্তানে ভারতের হামলা, যা বললেন ইমরান খান

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। তিনি সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অবস্ট্রাকশন (সিআরভিও) নামের গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত। চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।

সম্প্রতি ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিমস) তার চোখে দ্বিতীয়বারের মতো ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে পিটিআই নেতাদের দাবি, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তার পরিবারকে সময়মতো জানানো হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় দুইটার দিকে ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।

নওয়াজ শরিফের চিকিৎসার সঙ্গে তুলনা

চিঠিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ২০১৯ সালের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। সে সময় রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাকে লাহোরের সার্ভিসেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পিটিআই নেতাদের দাবি, তখন সরকার তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

তারা উল্লেখ করেন, নওয়াজ শরিফের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আদনান চিকিৎসা বোর্ডের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন এবং তার পরিবার ও আইনজীবীরা অবাধে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তাকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।

Panama Papers: Pakistan PM Nawaz Sharif's son defends offshore companies -  BBC News

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার শুরুতে ইমরান খানের অসুস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে সিআরভিও রোগ নির্ণয়ের খবর প্রকাশিত হলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, পুরো বিষয়টি গোপনীয়তা ও সন্দেহজনক আচরণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ইমরান খানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। তার পরামর্শক চিকিৎসকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং পরিবার ও ব্যক্তিগত আইনজীবীর সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জনসমর্থনের অভাব ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আহ্বান

পিটিআই নেতারা প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন আইন অনুযায়ী ইমরান খান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্ণ সুযোগ পান। তারা আশা প্রকাশ করেন, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইলেন কারাবন্দি পিটিআই নেতারা

০৬:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের কারাবন্দি শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির কাছে চিঠি দিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও আইনগত অধিকার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানের চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন শাহ মাহমুদ কুরেশি, ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ইজাজ চৌধুরী, ওমর সরফরাজ চিমা ও মাহমুদ-উর-রশিদ। তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান খানকে বারবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

চোখের জটিল রোগ ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

পাকিস্তানে ভারতের হামলা, যা বললেন ইমরান খান

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। তিনি সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অবস্ট্রাকশন (সিআরভিও) নামের গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত। চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।

সম্প্রতি ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিমস) তার চোখে দ্বিতীয়বারের মতো ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে পিটিআই নেতাদের দাবি, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তার পরিবারকে সময়মতো জানানো হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় দুইটার দিকে ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।

নওয়াজ শরিফের চিকিৎসার সঙ্গে তুলনা

চিঠিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ২০১৯ সালের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। সে সময় রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাকে লাহোরের সার্ভিসেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পিটিআই নেতাদের দাবি, তখন সরকার তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

তারা উল্লেখ করেন, নওয়াজ শরিফের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আদনান চিকিৎসা বোর্ডের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন এবং তার পরিবার ও আইনজীবীরা অবাধে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তাকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।

Panama Papers: Pakistan PM Nawaz Sharif's son defends offshore companies -  BBC News

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার শুরুতে ইমরান খানের অসুস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে সিআরভিও রোগ নির্ণয়ের খবর প্রকাশিত হলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তারা দাবি করেন, পুরো বিষয়টি গোপনীয়তা ও সন্দেহজনক আচরণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ইমরান খানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। তার পরামর্শক চিকিৎসকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং পরিবার ও ব্যক্তিগত আইনজীবীর সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জনসমর্থনের অভাব ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আহ্বান

পিটিআই নেতারা প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন আইন অনুযায়ী ইমরান খান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্ণ সুযোগ পান। তারা আশা প্রকাশ করেন, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।