চার বছর পেরিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মোট মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বড় শক্তি এত বিপুল প্রাণহানির মুখে পড়েনি। যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির দাবি করলেও রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির নতুন হিসাব
স্বাধীন রুশ সংবাদমাধ্যম ও বিবিসির রুশ বিভাগ যৌথভাবে নিহত রুশ সেনাদের নাম-পরিচয় যাচাই করে যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা দুই লাখের বেশি। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, বরং ন্যূনতম হিসাব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৌশল বিশ্লেষণা সংস্থার মতে, রাশিয়ার মোট নিহতের সংখ্যা তিন লাখ পঁচিশ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। আহত ও নিহত মিলিয়ে রুশ ক্ষয়ক্ষতি বারো লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় পরিসরে কোনো প্রধান শক্তি এ ধরনের প্রাণহানি দেখেনি। এই তুলনা যুদ্ধের তীব্রতা ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসের চিত্র স্পষ্ট করে।

ইউক্রেনের গোপনীয়তা ও বাস্তবতা
ইউক্রেনও তাদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রকাশে সংযত অবস্থান নিয়েছে। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা কয়েক দশ হাজার বলা হলেও বহু পর্যবেক্ষক মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পাঁচ থেকে ছয় লাখ সেনা আহত, নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা এক লাখ থেকে এক লাখ চল্লিশ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
জনসংখ্যার অনুপাতে ইউক্রেনের ক্ষতি বেশি হলেও মোট সংখ্যায় রাশিয়ার প্রাণহানি অনেক বড়। যুদ্ধের চতুর্থ বছরে এসে ইউক্রেন সেনাবাহিনী জনবল সংকটে পড়েছে। বাধ্যতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ছে, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে প্রতিরক্ষা লাইনে পূর্ণ শক্তি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার কৌশল ও রাজনৈতিক বার্তা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে ভাষণে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেন এবং ইউক্রেনের হামলা প্রতিহত করতে গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময়ে তিনি নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে ভাষণে জাতির সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ
যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার মূল্য বাড়িয়ে তুলতে চায় ইউক্রেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে চলতি বছরেই মোট নিহতের সংখ্যা অর্ধলক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। অনেক হিসাব বলছে, সেই সীমা হয়তো ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে।
এই যুদ্ধ এখন শুধু ভূখণ্ডের লড়াই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, যার মানবিক মূল্য ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















