ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের গ্রেপ্তার। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এবং লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক যাত্রা শেষে এবার তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে। অভিযোগ, অতীতে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কারণ, তিনিই ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তার ও অভিযোগের পটভূমি
সোমবার লন্ডনে নিজ বাড়ি থেকে পিটার ম্যান্ডেলসনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি যে নথিপত্র প্রকাশ করেছে, সেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের নানা বার্তা উঠে আসে। এসব নথি প্রকাশের পর থেকেই ব্রিটেনে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। জানা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহুদিনের এবং সেই সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্টারমারের জন্য বাড়তি সংকট
কিয়ার স্টারমার আগেই ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেন, তাঁর সম্মানসূচক উপাধি প্রত্যাহার করেন এবং উচ্চকক্ষ থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ দেন। তবু সমালোচনা থামেনি। লেবার পার্টির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, স্টারমার ঠিক কখন এবং কতটা জানতেন ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে।
আগামী মাসে সরকারকে হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যাবে কী প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

এপস্টেইন নথি ও রাজতন্ত্রেও ধাক্কা
জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশের পর শুধু সরকার নয়, ব্রিটিশ রাজতন্ত্রও চাপে পড়েছে। রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকেও একই ধরনের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফলে সরকার ও রাজতন্ত্র—দুই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের আগে অস্বস্তিকর সময়
এই ঘটনায় লেবার পার্টির সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ম্যানচেস্টারের বাইরে একটি আসনে উপনির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, যেখানে দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে ভরাডুবির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মে মাসে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের নির্বাচন এবং ইংল্যান্ডজুড়ে কাউন্সিল ভোট রয়েছে। জরিপ বলছে, ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টি সমর্থন বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় ম্যান্ডেলসন ইস্যু লেবার সরকারের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















