০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাজুক জুঁই

গাজার মানুষ: “আমার ছোট সন্তান ফলের স্বাদও জানে না”

দুর্ভিক্ষের ঘোষণা ও বাস্তবতা
জাতিসংঘ সমর্থিত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গাজা উপত্যকার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষুধার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
গাজা সিটির ৪১ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা রীম তাওফিক খাদের বলেন, “দুর্ভিক্ষ ঘোষণাটা অনেক দেরিতে এলেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পাঁচ মাস ধরে কোনো প্রোটিন খাইনি। আমার চার বছরের ছোট সন্তান জানেই না ফল বা সবজি দেখতে বা খেতে কেমন।”

ইসরায়েলের অস্বীকার ও জাতিসংঘের তথ্য
জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েল গাজায় সাহায্য প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করেছে, যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানায়, গাজা সিটি ও আশপাশে ‘সম্পূর্ণ মানুষ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ চলছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, গাজার অর্ধ মিলিয়নের বেশি মানুষ ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যু’র মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে।

জীবনের উপর ক্ষুধার প্রভাব
৪৭ বছরের রাজা তালবেহ, ছয় সন্তানের মা, জানিয়েছেন তিনি ২৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। এক মাস আগে গাজা সিটির জায়তুন এলাকা থেকে পালিয়ে এসে এখন সমুদ্রতটে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। গ্লুটেন অসহিষ্ণুতায় ভুগছেন তিনি, কিন্তু বাজারে নিজের জন্য খাবার পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “যুদ্ধের আগে একটি দাতব্য সংস্থা গ্লুটেন-মুক্ত খাবার জোগাতো। এখন কিছুই পাওয়া যায় না। প্রতিদিন বোমাবর্ষণ, গৃহচ্যুতি, গরম ও শীতে অরক্ষিত জীবনযাপন — এর সঙ্গে এখন দুর্ভিক্ষও যোগ হলো।”

শিশুদের করুণ অবস্থা
২৯ বছরের রিদা হিজেহ জানিয়েছেন, তার পাঁচ বছরের মেয়ে লামিয়ার ওজন ১৯ কেজি থেকে নেমে ১০.৫ কেজিতে এসেছে। আগে সে একদম সুস্থ ছিল। এখন পায়ে ফোলা, চুল ঝরা ও স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছে। তিনি বলেন, “ডাক্তাররা সবাই বলেছেন, এটা অপুষ্টির ফল। কিন্তু কেউ কোনো চিকিৎসা বা সহায়তা দেয়নি।”

মায়েদের জন্য সংকট
গাজায় কাজ করা ব্রিটিশ নার্স ম্যান্ডি ব্ল্যাকম্যান জানিয়েছেন, তাদের মাতৃস্বাস্থ্য ক্লিনিকে আসা ৭০ শতাংশ মা অপুষ্টিতে ভুগছেন। এর ফলে নবজাতকেরা জন্ম নিচ্ছে ছোট ও দুর্বল হয়ে।

হতাহতের সংখ্যা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২৭১ জন, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে মারা গেছে।

বেঁচে থাকার লড়াই
গাজার নারী আসিল জানান, পাঁচ মাসে তার ওজন ৫৬ কেজি থেকে ৪৬ কেজিতে নেমেছে। তিনি বলেন, “কয়েক মাস ধরে ফল বা মাংস খাইনি। বেঁচে থাকার জন্য প্রায় সব সঞ্চয় খরচ করেছি।” আসিলের ভাসুরবধূর এক মাস বয়সী সন্তান রয়েছে, যার জন্য তারা ফর্মুলা দুধ খুঁজছেন। কিন্তু বাজারে এ দুধ পাওয়া গেলে এক ক্যানের দাম প্রায় ১৮০ শেকেল (৩৯ পাউন্ড)।
তিনি বলেন, “আমার কাছে এক সপ্তাহের জন্যও খাবার মজুত নেই। হাজার হাজার মানুষের মতো আমরাও দিন গুনে বেঁচে আছি।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ

গাজার মানুষ: “আমার ছোট সন্তান ফলের স্বাদও জানে না”

১২:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

দুর্ভিক্ষের ঘোষণা ও বাস্তবতা
জাতিসংঘ সমর্থিত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গাজা উপত্যকার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষুধার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
গাজা সিটির ৪১ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা রীম তাওফিক খাদের বলেন, “দুর্ভিক্ষ ঘোষণাটা অনেক দেরিতে এলেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পাঁচ মাস ধরে কোনো প্রোটিন খাইনি। আমার চার বছরের ছোট সন্তান জানেই না ফল বা সবজি দেখতে বা খেতে কেমন।”

ইসরায়েলের অস্বীকার ও জাতিসংঘের তথ্য
জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েল গাজায় সাহায্য প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করেছে, যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানায়, গাজা সিটি ও আশপাশে ‘সম্পূর্ণ মানুষ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ চলছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, গাজার অর্ধ মিলিয়নের বেশি মানুষ ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যু’র মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে।

জীবনের উপর ক্ষুধার প্রভাব
৪৭ বছরের রাজা তালবেহ, ছয় সন্তানের মা, জানিয়েছেন তিনি ২৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। এক মাস আগে গাজা সিটির জায়তুন এলাকা থেকে পালিয়ে এসে এখন সমুদ্রতটে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। গ্লুটেন অসহিষ্ণুতায় ভুগছেন তিনি, কিন্তু বাজারে নিজের জন্য খাবার পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “যুদ্ধের আগে একটি দাতব্য সংস্থা গ্লুটেন-মুক্ত খাবার জোগাতো। এখন কিছুই পাওয়া যায় না। প্রতিদিন বোমাবর্ষণ, গৃহচ্যুতি, গরম ও শীতে অরক্ষিত জীবনযাপন — এর সঙ্গে এখন দুর্ভিক্ষও যোগ হলো।”

শিশুদের করুণ অবস্থা
২৯ বছরের রিদা হিজেহ জানিয়েছেন, তার পাঁচ বছরের মেয়ে লামিয়ার ওজন ১৯ কেজি থেকে নেমে ১০.৫ কেজিতে এসেছে। আগে সে একদম সুস্থ ছিল। এখন পায়ে ফোলা, চুল ঝরা ও স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছে। তিনি বলেন, “ডাক্তাররা সবাই বলেছেন, এটা অপুষ্টির ফল। কিন্তু কেউ কোনো চিকিৎসা বা সহায়তা দেয়নি।”

মায়েদের জন্য সংকট
গাজায় কাজ করা ব্রিটিশ নার্স ম্যান্ডি ব্ল্যাকম্যান জানিয়েছেন, তাদের মাতৃস্বাস্থ্য ক্লিনিকে আসা ৭০ শতাংশ মা অপুষ্টিতে ভুগছেন। এর ফলে নবজাতকেরা জন্ম নিচ্ছে ছোট ও দুর্বল হয়ে।

হতাহতের সংখ্যা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২৭১ জন, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে মারা গেছে।

বেঁচে থাকার লড়াই
গাজার নারী আসিল জানান, পাঁচ মাসে তার ওজন ৫৬ কেজি থেকে ৪৬ কেজিতে নেমেছে। তিনি বলেন, “কয়েক মাস ধরে ফল বা মাংস খাইনি। বেঁচে থাকার জন্য প্রায় সব সঞ্চয় খরচ করেছি।” আসিলের ভাসুরবধূর এক মাস বয়সী সন্তান রয়েছে, যার জন্য তারা ফর্মুলা দুধ খুঁজছেন। কিন্তু বাজারে এ দুধ পাওয়া গেলে এক ক্যানের দাম প্রায় ১৮০ শেকেল (৩৯ পাউন্ড)।
তিনি বলেন, “আমার কাছে এক সপ্তাহের জন্যও খাবার মজুত নেই। হাজার হাজার মানুষের মতো আমরাও দিন গুনে বেঁচে আছি।”