০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
গাজায় নারীদের ‘বেঁচে থাকার ন্যূনতম শর্ত’ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে: অ্যামনেস্টি মুন্সীগঞ্জ–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই হরমুজ থেকে মস্কো—বিশ্বের জ্বালানি সংকটের মাঝেও কীভাবে তেল সরবরাহ সামলাচ্ছে ভারত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর, মুক্তিতে আর বাধা নেই রাশিয়ায় খাদ্য শিল্পে নতুন বিলিয়নিয়ারদের উত্থান আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে বৃদ্ধি ২,২১৬ টাকা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব তেল সরবরাহে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কতটা তৈরি ভারত? আলোচনায় কোহিনূর মিয়া,পুলিশ ও প্রশাসনে অবসর-বরখাস্ত থেকে ফেরানোর প্রভাব কেমন হবে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের ভ্যাপ ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইসরায়েলি হাসপাতাল হামলা ও আন্তর্জাতিক ক্ষোভ: ইসরায়েলে বিক্ষোভ-অবরোধ

গাজায় হাসপাতালে হামলায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা
গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক (ডাবল-ট্যাপ) হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও জরুরি সেবাদাতা কর্মী ছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, নিহতদের ছয়জন সন্ত্রাসী এবং হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হামাসের একটি ক্যামেরা, যা তাদের সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এটিকে “দুঃখজনক দুর্ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন এবং তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও কানাডা এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে “অসহনীয়” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “নাগরিক ও সাংবাদিকদের যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দিতে হবে।”

ইসরায়েলে গণবিক্ষোভ ও অবরোধ
মঙ্গলবার দেশজুড়ে “সংগ্রামের দিন” পালিত হয়। রাজধানী তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। আয়োজকদের হিসাবে তেলআবিবের সমাবেশে সাড়ে তিন লাখ মানুষ যোগ দেন। তাদের দাবি— অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করা এবং গাজায় আটক সব জিম্মিকে মুক্ত করা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই যুদ্ধের অবসান সম্ভব। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা জিম্মি মুক্তি নয় বরং গাজা দখলে বেশি আগ্রহী।

সরকারের অবস্থান ও নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠক
নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ক্যাবিনেট মঙ্গলবার বৈঠক করলেও কোনো বড় সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার বিষয় ছিল মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তবে গাজা দখল পরিকল্পনা নিয়ে রবিবারের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সরকারের এই অবস্থানকে “অক্টোবর ৭–এর আরেকটি নৈতিক কলঙ্ক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ম্যাক্রোঁ-নেতানিয়াহু চিঠি বিনিময়
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর চিঠির জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়া কোনোভাবেই ইসরায়েল-বিরোধী বা ইহুদিবিদ্বেষ নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজা দখল, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া ও পশ্চিম তীর দখল— এসব পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরো বিচ্ছিন্ন করবে এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ: ন্যায়ের আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাজ্য: ডাউনিং স্ট্রিট এটিকে “অযৌক্তিক হামলা” বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ঘটনাটি জানেন না, তবে “এটি শেষ হওয়া দরকার।”

জার্মানি: চ্যান্সেলর শলৎস বলেছেন, তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

স্পেন: এটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের “গুরুতর লঙ্ঘন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কানাডা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও কাতারের ভূমিকা
কাতার জানিয়েছে, হামাস প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা মেনে নিয়েছে এবং এটি পূর্ববর্তী ইসরায়েলি দাবির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। কাতারের মুখপাত্র বলেছেন, “এখন বল ইসরায়েলের কোর্টে।”

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুতে বিশ্ব বিভক্তি
বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জার্মানি এতে যোগ দেবে না। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেছেন, এটি ইসরায়েলের জন্য “আত্মহত্যার সমান” হবে।


গাজায় হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা ও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক প্রাণহানি বিশ্বব্যাপী নিন্দা কুড়িয়েছে। ইসরায়েলের ভেতরেও ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যেখানে মানুষ যুদ্ধের অবসান ও জিম্মিদের মুক্তি দাবি করছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু ইসরায়েলি সরকারের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।ণ বাড়ানো ইত্যাদি)?

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় নারীদের ‘বেঁচে থাকার ন্যূনতম শর্ত’ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে: অ্যামনেস্টি

ইসরায়েলি হাসপাতাল হামলা ও আন্তর্জাতিক ক্ষোভ: ইসরায়েলে বিক্ষোভ-অবরোধ

১২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

গাজায় হাসপাতালে হামলায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা
গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক (ডাবল-ট্যাপ) হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও জরুরি সেবাদাতা কর্মী ছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, নিহতদের ছয়জন সন্ত্রাসী এবং হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হামাসের একটি ক্যামেরা, যা তাদের সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এটিকে “দুঃখজনক দুর্ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন এবং তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও কানাডা এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে “অসহনীয়” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “নাগরিক ও সাংবাদিকদের যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দিতে হবে।”

ইসরায়েলে গণবিক্ষোভ ও অবরোধ
মঙ্গলবার দেশজুড়ে “সংগ্রামের দিন” পালিত হয়। রাজধানী তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। আয়োজকদের হিসাবে তেলআবিবের সমাবেশে সাড়ে তিন লাখ মানুষ যোগ দেন। তাদের দাবি— অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করা এবং গাজায় আটক সব জিম্মিকে মুক্ত করা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই যুদ্ধের অবসান সম্ভব। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা জিম্মি মুক্তি নয় বরং গাজা দখলে বেশি আগ্রহী।

সরকারের অবস্থান ও নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠক
নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ক্যাবিনেট মঙ্গলবার বৈঠক করলেও কোনো বড় সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার বিষয় ছিল মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তবে গাজা দখল পরিকল্পনা নিয়ে রবিবারের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সরকারের এই অবস্থানকে “অক্টোবর ৭–এর আরেকটি নৈতিক কলঙ্ক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ম্যাক্রোঁ-নেতানিয়াহু চিঠি বিনিময়
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর চিঠির জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়া কোনোভাবেই ইসরায়েল-বিরোধী বা ইহুদিবিদ্বেষ নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজা দখল, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া ও পশ্চিম তীর দখল— এসব পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরো বিচ্ছিন্ন করবে এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদিদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ: ন্যায়ের আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাজ্য: ডাউনিং স্ট্রিট এটিকে “অযৌক্তিক হামলা” বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ঘটনাটি জানেন না, তবে “এটি শেষ হওয়া দরকার।”

জার্মানি: চ্যান্সেলর শলৎস বলেছেন, তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

স্পেন: এটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের “গুরুতর লঙ্ঘন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কানাডা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেছে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও কাতারের ভূমিকা
কাতার জানিয়েছে, হামাস প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা মেনে নিয়েছে এবং এটি পূর্ববর্তী ইসরায়েলি দাবির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। কাতারের মুখপাত্র বলেছেন, “এখন বল ইসরায়েলের কোর্টে।”

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুতে বিশ্ব বিভক্তি
বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জার্মানি এতে যোগ দেবে না। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেছেন, এটি ইসরায়েলের জন্য “আত্মহত্যার সমান” হবে।


গাজায় হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা ও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক প্রাণহানি বিশ্বব্যাপী নিন্দা কুড়িয়েছে। ইসরায়েলের ভেতরেও ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যেখানে মানুষ যুদ্ধের অবসান ও জিম্মিদের মুক্তি দাবি করছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু ইসরায়েলি সরকারের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।ণ বাড়ানো ইত্যাদি)?