০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়? পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবে যুক্তরাজ্য সাইবার হামলায় উৎপাদন ব্যাহত, বার্ষিক লক্ষ্য হারাতে পারে বোস্টন সায়েন্টিফিক বড় এআই চিপ তৈরির সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন প্রযুক্তি আনছে এএসএমএল ভারতের প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি পাঁচ নমুনার একটিতে অনিয়ম এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ভর করে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা

মোদি পূর্বমুখী, ভারতের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে

টোকিও থেকে শুভেচ্ছা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে জাপান সফরে আছেন এবং এই পূর্ব এশীয় দেশের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বৈঠক হওয়ার কথা। মোদির সফরকে ঘিরে বেশ কিছু জাপানি কোম্পানি ভারতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত দ্রুত বৈশ্বিক রপ্তানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাপানে হোন্ডা মোটর ও সুজুকি মোটরের তৈরি ভারতীয় এসইউভি এখন বড় ধরনের জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অ্যাপলও ভারতেই আইফোন উৎপাদন করছে, যা আমেরিকার মতো বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

২০২৩ সালে আমি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়েছিলাম। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সংখ্যা কমতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বরফে ঢাকা ওই স্কি রিসোর্টে চোখে পড়েছিল ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর লোগো এবং সরকারি প্রতিনিধিদের বিশাল উপস্থিতি।

বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্ব আগামী দিনে আরও দ্রুত বাড়তে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইয়োকোহামায় অনুষ্ঠিত টোকিও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট (টিকাড)-এ অনেক জাপানি ব্যবসায়ী আফ্রিকার সম্ভাবনাময় বাজারের জন্য ভারতকে কৌশলগত রপ্তানি ঘাঁটি হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে ভারতের এই অগ্রযাত্রার সামনে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, যা দুই শক্তির মধ্যে সম্পর্ককে জটিল করছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদি গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

জাপান সফর শেষে মোদির চীন যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সাত বছর পর প্রথমবার তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নতুন এক মহাশক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও বেইজিং—দুই পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে মোদির পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

( প্রতিবেদনটি নিক্কেই এশিয়ার এডিটর ইন চিফ এর সম্পাদকীয় নিউজ লেটার থেকে অনূদিত)

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়?

মোদি পূর্বমুখী, ভারতের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে

০৪:৫১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

টোকিও থেকে শুভেচ্ছা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে জাপান সফরে আছেন এবং এই পূর্ব এশীয় দেশের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বৈঠক হওয়ার কথা। মোদির সফরকে ঘিরে বেশ কিছু জাপানি কোম্পানি ভারতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত দ্রুত বৈশ্বিক রপ্তানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাপানে হোন্ডা মোটর ও সুজুকি মোটরের তৈরি ভারতীয় এসইউভি এখন বড় ধরনের জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অ্যাপলও ভারতেই আইফোন উৎপাদন করছে, যা আমেরিকার মতো বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

২০২৩ সালে আমি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়েছিলাম। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সংখ্যা কমতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বরফে ঢাকা ওই স্কি রিসোর্টে চোখে পড়েছিল ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর লোগো এবং সরকারি প্রতিনিধিদের বিশাল উপস্থিতি।

বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্ব আগামী দিনে আরও দ্রুত বাড়তে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইয়োকোহামায় অনুষ্ঠিত টোকিও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট (টিকাড)-এ অনেক জাপানি ব্যবসায়ী আফ্রিকার সম্ভাবনাময় বাজারের জন্য ভারতকে কৌশলগত রপ্তানি ঘাঁটি হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে ভারতের এই অগ্রযাত্রার সামনে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, যা দুই শক্তির মধ্যে সম্পর্ককে জটিল করছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদি গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

জাপান সফর শেষে মোদির চীন যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সাত বছর পর প্রথমবার তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নতুন এক মহাশক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও বেইজিং—দুই পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে মোদির পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

( প্রতিবেদনটি নিক্কেই এশিয়ার এডিটর ইন চিফ এর সম্পাদকীয় নিউজ লেটার থেকে অনূদিত)