০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তার জামিন সিলিকন ভ্যালি কেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না দানবের স্বর্গে ক্ষমতার মুখোশ উন্মোচন, ব্যঙ্গ ও ট্র্যাজেডির মিশেলে নতুন অপেরা আলোচনায় ইরানে মৃতের হিসাব যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে শাসনের ভয়াবহ আতঙ্ক কাজের পোশাকে নতুন ঢেউ, তরুণ শ্রমজীবীদের ভরসা এখন আরামদায়ক সুরক্ষিত গিয়ার শিল্পের দ্বন্দ্বে প্রকৃতির জয়: টার্নার ও কনস্টেবলের বিস্ময়কর মুখোমুখি জীবনকে প্রস্ফুটিত করার পাঠ খুঁজে নিলেন এক পরামর্শক ইতালির বিস্তীর্ণ শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে যাতায়াতে মহাসংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে দর্শনার্থীরা থোয়েটস হিমবাহে ভয়াবহ ধাক্কা, বরফে বন্দি যন্ত্রে ও মিলল উষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত চীনের ক্ষমতার অন্দরে হঠাৎ কম্পন, শি জিনপিংয়ের নতুন শুদ্ধি অভিযানে বাড়ছে সন্দেহ ও শঙ্কা

অভিজাত রিসোর্ট জীবনে “বোট-টক্স”: হ্যাম্পটনসে ধনীদের নতুন চিকিৎসা প্রবণতা

বিলাসবহুল ইয়টে চিকিৎসা সেবা

নিউইয়র্কের স্যাগ হারবারে এক গ্রীষ্মের শনিবার, ডা. আলেকজান্ডার গোলবার্গ তাঁর রোগী দম্পতি এবে এবং জিওভানা হারুভির চিকিৎসা করছিলেন তাঁদের ইয়টের ডেকে বসে। একদিকে এবের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অন্যদিকে জিওভানার কপালে বোটক্স। এই চিকিৎসক নিজের নাম রেখেছেন “ডক্টর হ্যাম্পটনস”। ওষুধ রাখেন ক্যাভিয়ার কুলারে, আর যন্ত্রপাতি বহন করেন লুই ভুইতোঁর ব্যাগে—একজন রোগীর উপহার। তাঁর ছেলে মার্ক মজা করে বলেন, “আমরা একে বলি বোট-টক্স—নৌকায় বোটক্স।”

জরুরি থেকে সৌন্দর্য চিকিৎসা, সবই বাড়ি বা ইয়টে

ধনীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কনসিয়ার্জ চিকিৎসা। রোগীরা চাইলে ফোন দিয়ে ডাকেন, কখনো নৌকায়, কখনো সুইমিং পুলের ধারে, এমনকি ভোররাতের পার্টিতেও। কারও গোড়ালি মচকালে বা বাচ্চাকে টিকপোকা কামড়ালে তাঁরা জরুরি বিভাগে না গিয়ে সরাসরি ডাকেন কনসিয়ার্জ ডাক্তারকে। হ্যাম্পটনস বুটিক মেডিসিনের ডা. আসমা রশিদ বলেন, “এটি এমন এক চিকিৎসা ব্যবস্থা যা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।”

ব্যয়বহুল ও সদস্যপদভিত্তিক চিকিৎসা

দক্ষিণ ফ্লোরিডা, বে এরিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের মতো ধনীদের এলাকায় এই সেবার বিস্তার ঘটেছে। এখানে ডাক্তাররা বছরে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত সদস্যপদ ফি নেন। তার বাইরে প্রতিটি ভিজিট প্রায় হাজার ডলার থেকে শুরু। বীমা সাধারণত নেওয়া হয় না। ডা. রশিদ বলেন, “টাকা কোনো বাধা নয়। এতে দ্রুত সেবা মেলে, উন্নত চিকিৎসাও মেলে।”

 

মহামারির সময় থেকে শুরু

২০২০ সালে মহামারি চলাকালে যখন ধনী পরিবারগুলো সমুদ্রতীরে বসে দূর থেকে কাজ করছিল, তখনই শুরু হয় এই কনসিয়ার্জ চিকিৎসার প্রসার। তখন রোগীরা দ্রুত কোভিড টেস্ট ও চিকিৎসা চাইতেন। গোলবার্গ সেই সময় থেকেই হ্যাম্পটনে সক্রিয় হন। তাঁর অনুপ্রেরণা আসে টিভি সিরিজ রয়্যাল পেইন্স থেকে, যেখানে দেখানো হয়েছিল কনসিয়ার্জ ডাক্তারদের জীবন।

চিকিৎসার বহুমুখী সেবা

এই ডাক্তাররা শুধু সাধারণ চিকিৎসা নন, সৌন্দর্য বৃদ্ধির নানা পদ্ধতিও করেন। যেমন—নন-সার্জিক্যাল ফেসলিফট, নাক ও শরীরের আকৃতি পরিবর্তন, অ্যান্টি এজিং চিকিৎসা। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা হলো NAD ইনজেকশন, যা শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রোগীর চাহিদা ও গোপনীয়তা

অনেক সময় তুচ্ছ কারণে ডাক পড়ে, যেমন মাতাল অবস্থা থেকে সেরে উঠতে আইভি চাওয়া। আবার অনেক ক্রীড়াবিদ গোপনে চোট সারাতে চান যাতে দলের ডাক্তারদের অজানা থাকে। গোপনীয়তা বজায় রাখা ধনীদের জন্য বড় বিষয়, কারণ তথ্য ফাঁস হলে আর্থিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পার্টি, আসক্তি ও ডাক্তারদের ভূমিকা

হ্যাম্পটনের পার্টি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই চিকিৎসা সেবা। পার্টির পর প্রায়শই ডাক পড়ে ডাক্তারদের—কখনো ইয়টে গিয়ে সেলাই করা, কখনো ম্যানশনে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া। ডা. রশিদ বলেন, তাঁরা অনেক সময় “ক্লিনআপ ক্রু” হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এর সঙ্গে বড় সমস্যা হলো মাদক—বিশেষ করে কোকেইন ও মিশ্রিত ড্রাগ, যা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিলাসিতার সঙ্গে চিকিৎসার মিলন

ডা. রশিদ বলেন, “আমরা এক অর্থে চলমান হাসপাতাল, আবার রোগীদের ইয়টে তাদের সঙ্গে সময়ও কাটাই। এতে মনে হয় আমরা তাঁদের পরিবারেরই অংশ।” হ্যাম্পটনের এই ধনী সমাজে চিকিৎসকরা শুধু ডাক্তার নন, সামাজিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গীও হয়ে উঠেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তার জামিন

অভিজাত রিসোর্ট জীবনে “বোট-টক্স”: হ্যাম্পটনসে ধনীদের নতুন চিকিৎসা প্রবণতা

০৪:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিলাসবহুল ইয়টে চিকিৎসা সেবা

নিউইয়র্কের স্যাগ হারবারে এক গ্রীষ্মের শনিবার, ডা. আলেকজান্ডার গোলবার্গ তাঁর রোগী দম্পতি এবে এবং জিওভানা হারুভির চিকিৎসা করছিলেন তাঁদের ইয়টের ডেকে বসে। একদিকে এবের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অন্যদিকে জিওভানার কপালে বোটক্স। এই চিকিৎসক নিজের নাম রেখেছেন “ডক্টর হ্যাম্পটনস”। ওষুধ রাখেন ক্যাভিয়ার কুলারে, আর যন্ত্রপাতি বহন করেন লুই ভুইতোঁর ব্যাগে—একজন রোগীর উপহার। তাঁর ছেলে মার্ক মজা করে বলেন, “আমরা একে বলি বোট-টক্স—নৌকায় বোটক্স।”

জরুরি থেকে সৌন্দর্য চিকিৎসা, সবই বাড়ি বা ইয়টে

ধনীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কনসিয়ার্জ চিকিৎসা। রোগীরা চাইলে ফোন দিয়ে ডাকেন, কখনো নৌকায়, কখনো সুইমিং পুলের ধারে, এমনকি ভোররাতের পার্টিতেও। কারও গোড়ালি মচকালে বা বাচ্চাকে টিকপোকা কামড়ালে তাঁরা জরুরি বিভাগে না গিয়ে সরাসরি ডাকেন কনসিয়ার্জ ডাক্তারকে। হ্যাম্পটনস বুটিক মেডিসিনের ডা. আসমা রশিদ বলেন, “এটি এমন এক চিকিৎসা ব্যবস্থা যা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।”

ব্যয়বহুল ও সদস্যপদভিত্তিক চিকিৎসা

দক্ষিণ ফ্লোরিডা, বে এরিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের মতো ধনীদের এলাকায় এই সেবার বিস্তার ঘটেছে। এখানে ডাক্তাররা বছরে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত সদস্যপদ ফি নেন। তার বাইরে প্রতিটি ভিজিট প্রায় হাজার ডলার থেকে শুরু। বীমা সাধারণত নেওয়া হয় না। ডা. রশিদ বলেন, “টাকা কোনো বাধা নয়। এতে দ্রুত সেবা মেলে, উন্নত চিকিৎসাও মেলে।”

 

মহামারির সময় থেকে শুরু

২০২০ সালে মহামারি চলাকালে যখন ধনী পরিবারগুলো সমুদ্রতীরে বসে দূর থেকে কাজ করছিল, তখনই শুরু হয় এই কনসিয়ার্জ চিকিৎসার প্রসার। তখন রোগীরা দ্রুত কোভিড টেস্ট ও চিকিৎসা চাইতেন। গোলবার্গ সেই সময় থেকেই হ্যাম্পটনে সক্রিয় হন। তাঁর অনুপ্রেরণা আসে টিভি সিরিজ রয়্যাল পেইন্স থেকে, যেখানে দেখানো হয়েছিল কনসিয়ার্জ ডাক্তারদের জীবন।

চিকিৎসার বহুমুখী সেবা

এই ডাক্তাররা শুধু সাধারণ চিকিৎসা নন, সৌন্দর্য বৃদ্ধির নানা পদ্ধতিও করেন। যেমন—নন-সার্জিক্যাল ফেসলিফট, নাক ও শরীরের আকৃতি পরিবর্তন, অ্যান্টি এজিং চিকিৎসা। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা হলো NAD ইনজেকশন, যা শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

রোগীর চাহিদা ও গোপনীয়তা

অনেক সময় তুচ্ছ কারণে ডাক পড়ে, যেমন মাতাল অবস্থা থেকে সেরে উঠতে আইভি চাওয়া। আবার অনেক ক্রীড়াবিদ গোপনে চোট সারাতে চান যাতে দলের ডাক্তারদের অজানা থাকে। গোপনীয়তা বজায় রাখা ধনীদের জন্য বড় বিষয়, কারণ তথ্য ফাঁস হলে আর্থিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পার্টি, আসক্তি ও ডাক্তারদের ভূমিকা

হ্যাম্পটনের পার্টি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই চিকিৎসা সেবা। পার্টির পর প্রায়শই ডাক পড়ে ডাক্তারদের—কখনো ইয়টে গিয়ে সেলাই করা, কখনো ম্যানশনে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া। ডা. রশিদ বলেন, তাঁরা অনেক সময় “ক্লিনআপ ক্রু” হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এর সঙ্গে বড় সমস্যা হলো মাদক—বিশেষ করে কোকেইন ও মিশ্রিত ড্রাগ, যা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিলাসিতার সঙ্গে চিকিৎসার মিলন

ডা. রশিদ বলেন, “আমরা এক অর্থে চলমান হাসপাতাল, আবার রোগীদের ইয়টে তাদের সঙ্গে সময়ও কাটাই। এতে মনে হয় আমরা তাঁদের পরিবারেরই অংশ।” হ্যাম্পটনের এই ধনী সমাজে চিকিৎসকরা শুধু ডাক্তার নন, সামাজিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গীও হয়ে উঠেছেন।