০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি ‘ফেডএক্স পার্সেলে মাদক’-ফোনকলেই ফাঁদে পড়লেন ভারতীয় কৌতুকশিল্পী চীন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র: নতুন এক ত্রিভুজ রাজনীতির সূচনা? গাজার নীরব কারাগার আর বিশ্বের বিবেকহীনতা রুপির সংকট শুধু মুদ্রার নয়, আস্থারও পরীক্ষা ঢাকার পশুর হাট ইজারায় বিএনপির প্রাধান্য, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে জামায়াত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা শান্তিনগরের শপিং মলে আগুন, দগ্ধ চারজন হাসপাতালে ভারতে ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অচল বান্দা, সকাল ১০টার পরই থেমে যায় জনজীবন তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে বড় শঙ্কা

থাই হোটেল গ্রুপ ‘দুসিত থানি’তে উত্তরাধিকারীদের দ্বন্দ্ব

পারিবারিক দ্বন্দ্বে নতুন অধ্যায়

থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ হোটেল গ্রুপ দুসিত থানি জানিয়েছে, প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চানুত পিয়াউইয়ের পারিবারিক অফিস থেকে বোর্ড অব ডিরেক্টরস থেকে অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান চানিন দোনাভানিককে অপসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চানিন প্রতিষ্ঠাতার তিন সন্তানের একজন।

চানুত অ্যান্ড চিলড্রেন নামের ওই পারিবারিক অফিসটি তার দুই কন্যার নিয়ন্ত্রণে। তারা কোম্পানির বোর্ডে মোট ১০ জন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে ছয়জন নতুন।

শেয়ারহোল্ডারদের জরুরি সভা

দুসিত থানির বোর্ড মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হবে। ওই সভায় চেয়ারম্যান অপসারণ প্রস্তাব ছাড়াও ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। এ প্রতিবেদন চলতি বছরের এপ্রিলের বার্ষিক সভায় অনুমোদিত হয়নি।

মালিকানা কাঠামো

প্রতিষ্ঠাতা চানুত পিয়াউইয়ের মৃত্যু পর তার সম্পদ এই পারিবারিক অফিস দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৯.৭৪ শতাংশ শেয়ার তাদের হাতে। অপরদিকে সেন্ট্রাল গ্রুপের রিয়েল এস্টেট শাখা সেন্ট্রাল পাত্তানার হাতে রয়েছে ১৭.০৯ শতাংশ শেয়ার।

চেয়ারম্যান চানিনের অভিযোগ

বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চানিন অভিযোগ করেন, সেন্ট্রাল গ্রুপ তার দুই বোনের সঙ্গে মিলে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি, আমার দুই বোন সেন্ট্রাল গ্রুপের সঙ্গে বারবার বৈঠক করছে অতিরিক্ত শেয়ার কেনার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘দুসিত’কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।”

চানিন আরও অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে তাদের মায়ের মৃত্যুর পর তার মতামত না নিয়েই তাকে পারিবারিক অফিসের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার সরাসরি বোর্ড থেকে অপসারণ করে বহিরাগতদের আনতে চাইছে, যা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করবে এবং পরিবার নয়, বাইরের লোকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেবে।

সেন্ট্রাল গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

সেন্ট্রাল পাত্তানা জানায়, তারা ২০১৮ সাল থেকে দুসিত থানির শেয়ারহোল্ডার। তবে পারিবারিক অফিসের সিদ্ধান্তে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে বলে, “আমরা সর্বদা প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের ব্যবস্থাপনাকে সম্মান করি এবং এতে কোনোভাবে জড়িত নই।”

বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পক্ষের মতামত

দুসিত থানির বোর্ড বলেছে, শেয়ারহোল্ডারদের সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের মতে, চানিন হোটেল ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং দুসিতের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। তার অপসারণ কোম্পানির কার্যক্রম ও বিশেষ করে দুসিত সেন্ট্রাল পার্ক প্রকল্পে প্রভাব ফেলতে পারে।

দুসিত থানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সূপাজি সুতাম্পুন, যিনি পরিবারের বাইরের, এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যবস্থাপনা টিম এবং কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি

থাই হোটেল গ্রুপ ‘দুসিত থানি’তে উত্তরাধিকারীদের দ্বন্দ্ব

১১:০০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পারিবারিক দ্বন্দ্বে নতুন অধ্যায়

থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ হোটেল গ্রুপ দুসিত থানি জানিয়েছে, প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চানুত পিয়াউইয়ের পারিবারিক অফিস থেকে বোর্ড অব ডিরেক্টরস থেকে অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান চানিন দোনাভানিককে অপসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চানিন প্রতিষ্ঠাতার তিন সন্তানের একজন।

চানুত অ্যান্ড চিলড্রেন নামের ওই পারিবারিক অফিসটি তার দুই কন্যার নিয়ন্ত্রণে। তারা কোম্পানির বোর্ডে মোট ১০ জন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে ছয়জন নতুন।

শেয়ারহোল্ডারদের জরুরি সভা

দুসিত থানির বোর্ড মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হবে। ওই সভায় চেয়ারম্যান অপসারণ প্রস্তাব ছাড়াও ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। এ প্রতিবেদন চলতি বছরের এপ্রিলের বার্ষিক সভায় অনুমোদিত হয়নি।

মালিকানা কাঠামো

প্রতিষ্ঠাতা চানুত পিয়াউইয়ের মৃত্যু পর তার সম্পদ এই পারিবারিক অফিস দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৯.৭৪ শতাংশ শেয়ার তাদের হাতে। অপরদিকে সেন্ট্রাল গ্রুপের রিয়েল এস্টেট শাখা সেন্ট্রাল পাত্তানার হাতে রয়েছে ১৭.০৯ শতাংশ শেয়ার।

চেয়ারম্যান চানিনের অভিযোগ

বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চানিন অভিযোগ করেন, সেন্ট্রাল গ্রুপ তার দুই বোনের সঙ্গে মিলে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি, আমার দুই বোন সেন্ট্রাল গ্রুপের সঙ্গে বারবার বৈঠক করছে অতিরিক্ত শেয়ার কেনার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘দুসিত’কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।”

চানিন আরও অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে তাদের মায়ের মৃত্যুর পর তার মতামত না নিয়েই তাকে পারিবারিক অফিসের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার সরাসরি বোর্ড থেকে অপসারণ করে বহিরাগতদের আনতে চাইছে, যা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করবে এবং পরিবার নয়, বাইরের লোকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেবে।

সেন্ট্রাল গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

সেন্ট্রাল পাত্তানা জানায়, তারা ২০১৮ সাল থেকে দুসিত থানির শেয়ারহোল্ডার। তবে পারিবারিক অফিসের সিদ্ধান্তে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে বলে, “আমরা সর্বদা প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের ব্যবস্থাপনাকে সম্মান করি এবং এতে কোনোভাবে জড়িত নই।”

বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পক্ষের মতামত

দুসিত থানির বোর্ড বলেছে, শেয়ারহোল্ডারদের সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের মতে, চানিন হোটেল ব্যবসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং দুসিতের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। তার অপসারণ কোম্পানির কার্যক্রম ও বিশেষ করে দুসিত সেন্ট্রাল পার্ক প্রকল্পে প্রভাব ফেলতে পারে।

দুসিত থানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সূপাজি সুতাম্পুন, যিনি পরিবারের বাইরের, এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যবস্থাপনা টিম এবং কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”