মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন নথি প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রিটিশ সমাজ সেবক গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং দণ্ডিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে আর্থিক লেনদেনের জটিল সম্পর্ক। নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাক্সওয়েলের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করেছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বৃহৎ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস।

এপস্টেইনের ছায়ায় ব্যাংকিং সম্পর্ক
নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে জেপিমরগ্যান এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কয়েক মাসের মধ্যেই ম্যাক্সওয়েলের জন্য নতুন হিসাব খোলে ইউবিএস। পরবর্তী কয়েক বছরে তার নগদ অর্থ, শেয়ার এবং বিভিন্ন বিনিয়োগসহ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ পরিচালনা করা হয়। ইমেইল ও ব্যাংক বিবরণীতে দেখা যায়, তাকে ধনী গ্রাহকদের মতো বিশেষ সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল।
২০১১ সালেই জেপিমরগ্যান অভ্যন্তরীণভাবে ম্যাক্সওয়েলকে উচ্চ ঝুঁকির গ্রাহক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এপস্টেইনের ২০০৮ সালের দণ্ড এবং পরবর্তী ঝুঁকির মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্যাংকটি শেষ পর্যন্ত তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২৩ সালে এপস্টেইন–সম্পর্কিত মামলায় জেপিমরগ্যান ৭৫ মিলিয়ন ডলার সমঝোতা অর্থ দিতে সম্মত হয়।
ইউবিএসে স্থানান্তর ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা
এক ইমেইল আদান–প্রদানে দেখা যায়, ২০১৩ সালের শেষে এক বিনিয়োগ অংশীদারের মাধ্যমে ম্যাক্সওয়েলের পরিচয় হয় ইউবিএসের সঙ্গে এবং দ্রুত হিসাব স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক একাধিক হিসাব খোলা হয়, যেখানে তার দাতব্য প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ লেনদেন চলত। ২০১৪ সালের শুরুতেই একটি হিসাবে প্রায় ২০ লাখ ডলার জমা ছিল।

পরবর্তী বছরগুলোতে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ ও দিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৬ সালে একবার ২৫ লাখ ডলার পরিশোধের অনুরোধ জানান তিনি, যা তার তৎকালীন স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে এপস্টেইনের গ্রেপ্তারের মাত্র ১৬ দিন পর ও তার অনুরোধে সঞ্চয় হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধ করা হয়।
তদন্ত সংস্থার নজরদারি
এপস্টেইনের গ্রেপ্তারের পরের মাসেই ম্যাক্সওয়েলকে ঘিরে গ্র্যান্ড জুরি সমন পায় ইউবিএস এবং পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থাকে তার আর্থিক লেনদেনের তথ্য সরবরাহ করা হয়। তবে ঠিক কখন বা আদৌ ম্যাক্সওয়েলের হিসাব বন্ধ করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দায় অস্বীকার ও নীরবতা
ইউবিএস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের প্রমাণ ও প্রকাশ পায়নি। ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যৌন পাচার–সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ম্যাক্সওয়েল ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















