যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবারের এক বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে, যা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
দক্ষিণ লেবাননের মারাকে এলাকায় হামলা
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের টাইর জেলার মারাকে পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হন। হামলার লক্ষ্য ছিল ওই এলাকার নির্দিষ্ট স্থাপনা ও অবস্থান।
একই দিনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। হামলার মধ্যে এমন এলাকাও ছিল, যা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর উত্তরে অবস্থিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই নতুন হামলা
নতুন এই হামলার সময়ই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ভাষা নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের সঙ্গে কাজ করছেন যাতে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

শান্তি প্রচেষ্টার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও সেখানে ইসরায়েল সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না।
এদিকে ইসরায়েলি নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি সংঘর্ষ
চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়।
তবে চুক্তির পরও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, বিমান হামলা এবং নিরাপত্তা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আগামী ২২ জুন দুই পক্ষের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধ এবং আরও বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫ জন; যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা এবং শান্তি প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















