মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র কয়েকটি অল্প ব্যবধানের আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে রাজ্যের পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে, ফলে ভোটের সামান্য ওঠানামাও এবার বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে বারিসান ন্যাশনাল (বিএন), পাকাতান হারাপান (পিএইচ) এবং পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন)-এর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অল্প ব্যবধানের আসনগুলোতে নজর
টাংকাক, সেরোম, বুকিত নানিং, পারিত ইয়ানি এবং কেমেলাহ আসনগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এসব আসনে বিজয়ীরা দুই হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। এছাড়া কেম্পাস, তিরাম, পারমাস, কোটা ইস্কান্দার এবং বেন্তায়ানকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব মিশ্র ও আধা-শহুরে এলাকায় বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ার কারণে আগের নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। এবারও তিনটি প্রধান জোট শক্ত অবস্থানে থাকায় ভোটারদের মনোভাবের সামান্য পরিবর্তনও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
টাংকাকে অনিশ্চয়তা
একসময় ডিএপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টাংকাক আসনটি গত নির্বাচনে মাত্র ৩৭২ ভোটের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়েছিল। পাঁচ প্রার্থীর লড়াইয়ে ডিএপির ই চিন লি জয়ী হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএন বা পিএনের শক্তিশালী প্রচারণা এবার ফলাফল বদলে দিতে পারে।
সেরোম ও বুকিত নানিংয়েও কঠিন লড়াই
সেরোমে বিএন প্রার্থী খাইরিন নিসা ইসমাইল মাত্র ৬৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। একইভাবে বুকিত নানিংয়ে বিএন জিতলেও ব্যবধান ছিল মাত্র ১,৫৩৫ ভোট। ফলে দুই আসনই আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পারিত ইয়ানি ও কেমেলাহে বাড়তি গুরুত্ব
পারিত ইয়ানিতে বিএন মাত্র ২৯৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, যা ছিল নির্বাচনের অন্যতম কাছাকাছি ফলাফল। এই আসনটি আগে পিএইচের রাজ্য প্রধান আমিনোলহুদা হাসানের দখলে ছিল। তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কেমেলাহে বিএন প্রায় ১,৬০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। মালয় ও ভারতীয় ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় এই আসনে ভোটার উপস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
চ্যালেঞ্জের মুখে ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি
প্রধানত চীনা ভোটার অধ্যুষিত বেন্তায়ান দীর্ঘদিন ধরে ডিএপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএন ও পিএনের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
কেম্পাসও নজরকাড়া একটি আসন। দীর্ঘদিন ধরে এটি উমনোর শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওসমান সাপিয়ানের মৃত্যুর পর আসনটি বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ২০২২ সালের আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি করে।
ভোটের ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা
তিরাম আসনেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর। এক লাখের বেশি ভোটার নিয়ে এই আসনটি দক্ষিণ জোহরের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। কর্মজীবী ও যাতায়াতনির্ভর জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এখানে নির্বাচনী সমীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
কোটা ইস্কান্দার ও পারমাসও দেখিয়েছে কীভাবে বিরোধী ভোট বিভক্ত হলে বিএন সুবিধা পায়। আগের নির্বাচনে কোটা ইস্কান্দারে বিএন প্রার্থী পান্দাক আহমাদ একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ৪,৩৬০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে কয়েকটি অল্প ব্যবধানের আসনই জোহরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। দলগুলো বিশ্বাস করছে, এসব আসনের সামান্য সাফল্যও নির্বাচনের পর ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
জোহরের অল্প ব্যবধানের আসনগুলোতে ত্রিমুখী লড়াই রাজ্যের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















