০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

এফবিসিসিআইর স্বাগত বাজেট, তবে রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে যে রাজস্ব আদায় এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ।

শনিবার এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে। বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বড়। এফবিসিসিআই বলেছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

সংগঠনটির মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এর বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আশাবাদ

সরকারের ঘোষিত ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’ এবং ‘রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ভিত্তিক অর্থনৈতিক কৌশলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, এই নীতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকেও সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের আশা, শৃঙ্খলাপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

রাজস্ব আদায় ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সতর্কতা

এফবিসিসিআই বলেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বর্তমান দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এনবিআরে কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

একনজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পুরো বাজেট বক্তব্য

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য স্বল্প সুদের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যয়কে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের আহ্বান

বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল সক্রিয় করা, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজার শক্তিশালী করা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়ানো, সুদের হার কমানো, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় ইতিবাচক পদক্ষেপ

অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন, ত্রৈমাসিক ভ্যাট দাখিল, অনলাইন আয়কর রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থা এবং একক ডিজিটাল সেবা চালুর মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করাকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৫ শতাংশ করহার বহাল রাখা এবং সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো এবং সর্বনিম্ন টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।

প্রযুক্তি, নারী উদ্যোক্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সমর্থন

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, কৃষিপণ্যের উৎসে কর হ্রাস, খেজুর ও রান্নার মসলা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং শিল্প বিনিয়োগে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতিকেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, এসএমই উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য কর ও ভ্যাট সুবিধা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাকেও সমর্থন জানানো হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণ ও গয়না খাতে স্বস্তি

স্বর্ণ আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং গয়না সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে অর্থ বিল, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে সরকারকে বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।

এফবিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়া

এফবিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক বলা হলেও রাজস্ব আদায় ও কার্যকর বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাজেটে এফবিসিসিআইর সন্তুষ্টি, তবে রাজস্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানালেও রাজস্ব আদায়, বাজেট বাস্তবায়ন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

এফবিসিসিআইর স্বাগত বাজেট, তবে রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

০৬:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে যে রাজস্ব আদায় এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ।

শনিবার এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে। বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এটি ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বড়। এফবিসিসিআই বলেছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

সংগঠনটির মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এর বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আশাবাদ

সরকারের ঘোষিত ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’ এবং ‘রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ভিত্তিক অর্থনৈতিক কৌশলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, এই নীতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকেও সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের আশা, শৃঙ্খলাপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

রাজস্ব আদায় ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সতর্কতা

এফবিসিসিআই বলেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বর্তমান দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এনবিআরে কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

একনজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পুরো বাজেট বক্তব্য

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এফবিসিসিআই। তাদের মতে, অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য স্বল্প সুদের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যয়কে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের আহ্বান

বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল সক্রিয় করা, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজার শক্তিশালী করা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়ানো, সুদের হার কমানো, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় ইতিবাচক পদক্ষেপ

অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন, ত্রৈমাসিক ভ্যাট দাখিল, অনলাইন আয়কর রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থা এবং একক ডিজিটাল সেবা চালুর মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করাকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৫ শতাংশ করহার বহাল রাখা এবং সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো এবং সর্বনিম্ন টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।

প্রযুক্তি, নারী উদ্যোক্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সমর্থন

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, কৃষিপণ্যের উৎসে কর হ্রাস, খেজুর ও রান্নার মসলা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং শিল্প বিনিয়োগে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতিকেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, এসএমই উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য কর ও ভ্যাট সুবিধা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাকেও সমর্থন জানানো হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণ ও গয়না খাতে স্বস্তি

স্বর্ণ আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং গয়না সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে অর্থ বিল, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে সরকারকে বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।

এফবিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়া

এফবিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক বলা হলেও রাজস্ব আদায় ও কার্যকর বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাজেটে এফবিসিসিআইর সন্তুষ্টি, তবে রাজস্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানালেও রাজস্ব আদায়, বাজেট বাস্তবায়ন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।