১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ জ্বালানি সংকটে নতুন সতর্কবার্তা, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর দেওয়ার আহ্বান ছেলের হামলায় কুমিল্লায় প্রাণ গেল বাবার

আরেকটি ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’: স্পেনের মরুভূমিতে সিনেমার স্মৃতি

মরুভূমিতে চলচ্চিত্র ভ্রমণ

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের টাবেরনাস মরুভূমি ইউরোপের একমাত্র প্রকৃত মরুভূমি। এখানে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ভ্রমণ করলে মনে হয় যেন ক্লিন্ট ইস্টউড বা চার্লস ব্রনসনের চরিত্ররা হেঁটে গেছে এই পথেই। গাইডের ছোট্ট স্পিকারে বাজছিল এনিও মরিকোনের কিংবদন্তি সুর—যেটি শুনলেই মনে পড়ে “দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি”।

লেখক জানালেন, শৈশবের প্রিয় সিনেমাগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্যই তিনি এসেছিলেন এই মরুভূমিতে। এটি উত্তর আমেরিকার নয়, বরং ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত স্পেনের টাবেরনাস এলাকা।

স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্নের জন্মভূমি

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে অসংখ্য ‘স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন’ সিনেমা এখানে শুটিং হয়েছে। ইতালীয় পরিচালক সের্জিও লিওনে এখানে তৈরি করেছিলেন আরিজোনার রেলস্টেশন আর নিউ মেক্সিকোর খনিশহরের কৃত্রিম প্রতিরূপ। আজও অনেক সেট দাঁড়িয়ে আছে, অনেকগুলো আবার রূপান্তরিত হয়েছে থিম পার্কে।

এগুলো আলমেরিয়া শহরের কাছাকাছি, এন-৩৪০ নামের মহাসড়কের পাশে, যেটি ‘স্প্যানিশ রুট ৬৬’ নামেও পরিচিত। পর্যটকেরা সহজেই এক-দুই দিনে এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

মালকামিনোস র‍্যাঞ্চে অভিজ্ঞতা

লেখক বিকেলে পৌঁছে উঠলেন মালকামিনোস র‍্যাঞ্চে। সেখান থেকে পরদিন ভোরে বেরিয়ে পড়লেন ঘোড়ার পিঠে। গাইড বীরগিট কেপেনস তাকে নিয়ে গেলেন এমন সব গিরিখাত আর প্রান্তরে, যেগুলো লিওনের সিনেমা ছাড়াও “লরেন্স অব অ্যারাবিয়া” ও “গেম অব থ্রোনস”-এ দেখা গেছে।

কেপেনস ছোটবেলা থেকে কাউগার্ল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার ভাষায়, “এখানে ঘোড়ায় চড়া মানে স্বপ্নকে বাস্তবে বাঁচা।”

মিনি হলিউড ওয়াসিস

অল্প দূরে আছে মিনি হলিউড ওয়াসিস। “ফর আ ফিউ ডলারস মোর” সিনেমার জন্য তৈরি সেটের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্ক। সেলুন আর শেরিফ অফিসের পেছনে রয়েছে জাদুঘর, সুভেনির শপ আর লাইভ শো, যেখানে নৃত্যশিল্পীরা ক্যান-ক্যান নাচ পরিবেশন করেন। স্থানীয় পারফর্মার ইরেনে রোসালেস মজার ছলে বললেন, “নাচের সময় স্কার্ট বারবার উড়ে মুখে লাগে।”

একসময় এই মরুভূমিতে বিশাল চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে উঠেছিল। আশেপাশের গ্রাম থেকে কাঠমিস্ত্রি, রাঁধুনি ও কারিগররা কাজ পেতেন। যদিও শিল্পটি অনেক আগেই থেমে গেছে, এখনো সেই গ্রামের অনেক সন্তান-নাতি এই থিম পার্কগুলো থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ফোর্ট ব্রাভোর কাহিনি

লেখক পরে গেলেন ফোর্ট ব্রাভোতে, যেখানে কাঠের কেবিন ভাড়া নিয়ে থাকলেন। “দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি”-র জন্য তৈরি এই সেট পরে কিনে নেন স্টান্টম্যান রাফায়েল মোলিনা। বর্তমানে তার ছেলে এটি চালান। এখনো সিনেমা, টিভি, শো এমনকি ভিডিও গেমের দৃশ্য ধারণ করা হয় এখানে।

ছোট মোলিনা বলেন, “মানুষ এখন সুপারহিরো সিনেমা দেখে ক্লান্ত। তারা এখানে আসে কাউবয় স্টান্ট ও মারপিট দেখতে।” সূর্যাস্তের সময় দর্শকেরা ভিড় করেন এই শো দেখার জন্য। অভিনেতারা ধুলোয় লুটিয়ে পড়েন, আবার উঠে দাঁড়িয়ে হাসি-তামাশা করেন।

সিনেমার আবেগ

রাতের অন্ধকারে লিওনের সেই ভূতুড়ে শহরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে লেখক খুঁজে পেলেন সেই আকাঙ্ক্ষিত আবেগ—একটি মিথ্যা জগত, কিন্তু সত্যিকারের অনুভূতি। এটাই তো সিনেমার জাদু।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?

আরেকটি ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’: স্পেনের মরুভূমিতে সিনেমার স্মৃতি

১২:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মরুভূমিতে চলচ্চিত্র ভ্রমণ

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের টাবেরনাস মরুভূমি ইউরোপের একমাত্র প্রকৃত মরুভূমি। এখানে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ভ্রমণ করলে মনে হয় যেন ক্লিন্ট ইস্টউড বা চার্লস ব্রনসনের চরিত্ররা হেঁটে গেছে এই পথেই। গাইডের ছোট্ট স্পিকারে বাজছিল এনিও মরিকোনের কিংবদন্তি সুর—যেটি শুনলেই মনে পড়ে “দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি”।

লেখক জানালেন, শৈশবের প্রিয় সিনেমাগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্যই তিনি এসেছিলেন এই মরুভূমিতে। এটি উত্তর আমেরিকার নয়, বরং ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত স্পেনের টাবেরনাস এলাকা।

স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্নের জন্মভূমি

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে অসংখ্য ‘স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন’ সিনেমা এখানে শুটিং হয়েছে। ইতালীয় পরিচালক সের্জিও লিওনে এখানে তৈরি করেছিলেন আরিজোনার রেলস্টেশন আর নিউ মেক্সিকোর খনিশহরের কৃত্রিম প্রতিরূপ। আজও অনেক সেট দাঁড়িয়ে আছে, অনেকগুলো আবার রূপান্তরিত হয়েছে থিম পার্কে।

এগুলো আলমেরিয়া শহরের কাছাকাছি, এন-৩৪০ নামের মহাসড়কের পাশে, যেটি ‘স্প্যানিশ রুট ৬৬’ নামেও পরিচিত। পর্যটকেরা সহজেই এক-দুই দিনে এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

মালকামিনোস র‍্যাঞ্চে অভিজ্ঞতা

লেখক বিকেলে পৌঁছে উঠলেন মালকামিনোস র‍্যাঞ্চে। সেখান থেকে পরদিন ভোরে বেরিয়ে পড়লেন ঘোড়ার পিঠে। গাইড বীরগিট কেপেনস তাকে নিয়ে গেলেন এমন সব গিরিখাত আর প্রান্তরে, যেগুলো লিওনের সিনেমা ছাড়াও “লরেন্স অব অ্যারাবিয়া” ও “গেম অব থ্রোনস”-এ দেখা গেছে।

কেপেনস ছোটবেলা থেকে কাউগার্ল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার ভাষায়, “এখানে ঘোড়ায় চড়া মানে স্বপ্নকে বাস্তবে বাঁচা।”

মিনি হলিউড ওয়াসিস

অল্প দূরে আছে মিনি হলিউড ওয়াসিস। “ফর আ ফিউ ডলারস মোর” সিনেমার জন্য তৈরি সেটের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্ক। সেলুন আর শেরিফ অফিসের পেছনে রয়েছে জাদুঘর, সুভেনির শপ আর লাইভ শো, যেখানে নৃত্যশিল্পীরা ক্যান-ক্যান নাচ পরিবেশন করেন। স্থানীয় পারফর্মার ইরেনে রোসালেস মজার ছলে বললেন, “নাচের সময় স্কার্ট বারবার উড়ে মুখে লাগে।”

একসময় এই মরুভূমিতে বিশাল চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে উঠেছিল। আশেপাশের গ্রাম থেকে কাঠমিস্ত্রি, রাঁধুনি ও কারিগররা কাজ পেতেন। যদিও শিল্পটি অনেক আগেই থেমে গেছে, এখনো সেই গ্রামের অনেক সন্তান-নাতি এই থিম পার্কগুলো থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ফোর্ট ব্রাভোর কাহিনি

লেখক পরে গেলেন ফোর্ট ব্রাভোতে, যেখানে কাঠের কেবিন ভাড়া নিয়ে থাকলেন। “দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি”-র জন্য তৈরি এই সেট পরে কিনে নেন স্টান্টম্যান রাফায়েল মোলিনা। বর্তমানে তার ছেলে এটি চালান। এখনো সিনেমা, টিভি, শো এমনকি ভিডিও গেমের দৃশ্য ধারণ করা হয় এখানে।

ছোট মোলিনা বলেন, “মানুষ এখন সুপারহিরো সিনেমা দেখে ক্লান্ত। তারা এখানে আসে কাউবয় স্টান্ট ও মারপিট দেখতে।” সূর্যাস্তের সময় দর্শকেরা ভিড় করেন এই শো দেখার জন্য। অভিনেতারা ধুলোয় লুটিয়ে পড়েন, আবার উঠে দাঁড়িয়ে হাসি-তামাশা করেন।

সিনেমার আবেগ

রাতের অন্ধকারে লিওনের সেই ভূতুড়ে শহরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে লেখক খুঁজে পেলেন সেই আকাঙ্ক্ষিত আবেগ—একটি মিথ্যা জগত, কিন্তু সত্যিকারের অনুভূতি। এটাই তো সিনেমার জাদু।