০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর সোমবার, বিএনপি সরকারের পর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের গ্যাস স্টেশনে গাড়ির লম্বা লাইন – রয়টার্স ঢাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনে পাঁচজন নিহত, আহতদের ১ লাখ টাকা সহায়তা যশোরে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার হীরা নিয়ে ভারতীয় নাগরিক আটক ইরানের পাহাড়ে আটকে পড়া মার্কিন পাইলটকে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হাইফায় সাততলা ভবনে আঘাত, দুজন নিহত, দুজন নিখোঁজ পোপ লিও ইস্টার বার্তায় অস্ত্র সমর্পণ ও শান্তির আহ্বান জানালেন

আমেরিকার দারিদ্র্য রাজনীতি: পরিবর্তনের সম্ভাবনা

সংকটময় সময়

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা এমন একদল মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, যারা কংগ্রেসের উদ্বোধনীতে প্রার্থনা করে কিন্তু পরে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। তবে ভোটারদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ দেখায়, অল্পসংখ্যক দরিদ্র ভোটার যারা নিজেদের ক্ষতি বুঝতে পারছে, তারা চাইলে আমেরিকার রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দিতে পারে।

দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং রাজনীতি

গত চার দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য দ্রুত বেড়েছে। ২০১৮ সালে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের শ্বেতাঙ্গ মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬ মিলিয়নে—যা অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর চেয়ে বড়। এ কারণে অনেক নিম্ন-আয়ের শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায় “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (MAGA)” আন্দোলনের তথাকথিত “জনপ্রিয়তাবাদী” বার্তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের বোঝানো হয়, যদি শ্বেতাঙ্গরা সমস্যায় পড়ে, তবে এর কারণ হলো কৃষ্ণাঙ্গ বা অভিবাসীরা তাদের সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কঠোর অভিবাসন অভিযান (ICE রেইড) চালায়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ নিজেদের স্বার্থবিরোধী ভোট দেয় না। ২০২৪ সালে ট্রাম্প কিছু নিম্ন-আয়ের ভোটারের সমর্থন পেলেও আসল পরিবর্তন ঘটেছিল যারা একেবারেই ভোট দেয়নি তাদের মধ্যে। লেক রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাইডেনকে জেতাতে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ (১৯ মিলিয়ন) দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষ ২০২৪ সালে ভোটকেন্দ্রে যাননি। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছে, ডেমোক্র্যাটদের বার্তা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মেলেনি।

ভুল ধারণা বনাম বাস্তবতা

দরিদ্র জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির চরমপন্থার চালক নয়। ট্রাম্পের আসল ভিত্তি ধনী কর্পোরেশন ও অভিজাতদের জন্য ট্যাক্স ছাড় দেওয়ার নীতি। বরং দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের জনগণই সবচেয়ে বড় সুইং ভোটার। এ কারণে তাদের সংগঠিত করা জরুরি—যাতে তারা এমন প্রার্থীদের দাবি করতে পারে যারা সত্যিই তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

ইতিহাসের শিক্ষা

আমেরিকার ইতিহাসে দরিদ্রদের একত্রিত করার নৈতিক আন্দোলন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। আমাদের বই White Poverty-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ প্রায় ১০% বেড়েছিল—যা ২০০৮ সালের ওবামার ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির চেয়েও বড়। এ বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ছিল নিম্ন-আয়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ, যা “ব্লু ওয়েভ” তৈরি করে ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়।

নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন

একটি শক্তিশালী আন্দোলন প্রার্থীদের ভাষা ও প্রতিশ্রুতির ধরণ পাল্টে দিতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা শুধু জনগণের সেবার ভিশন তুলে ধরবে না, বরং তা বাস্তবায়নে নির্বাহী পদক্ষেপ, বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন ও ক্ষমতার ব্যবহার করবে—যাতে নীতিগুলো নিচ থেকে শুরু হয় এবং সবাই উপকৃত হয়।

নৈতিক সংহতির আন্দোলন

আজ দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষ যদি জাতিগত ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে একত্রিত হয়, তবে তারা আমেরিকার রাজনৈতিক আলোচনার ধারা বদলে দিতে পারে। এ কারণেই দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে “মোরাল মানডেস”—যেখানে স্বাস্থ্যসেবা কাটছাঁটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা নিজেদের প্রতিনিধি ও নৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি দাবি তুলছে।

একটি আন্দোলন যদি দরিদ্রদের নেতৃত্বে, জাতিগত বিভেদ অতিক্রম করে এবং প্রগতিশীল মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, কংগ্রেস ও রাজ্য পর্যায়ের বহু আসনও নির্ধারণ করতে পারে। বর্তমানে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ—আর সুইং অঙ্গরাজ্যে এ হার ৪০% এরও বেশি।

এখন সময় এসেছে দরিদ্র মানুষদের বিভেদ সৃষ্টিকারী মিথকে প্রত্যাখ্যান করার এবং সবাইকে নিয়ে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার, যা সবার জন্য কার্যকর হবে। এই আন্দোলন শুধু দরিদ্রদের জন্য সুসংবাদ নয়—এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য ও সুসংবাদ .

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফর সোমবার, বিএনপি সরকারের পর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর

আমেরিকার দারিদ্র্য রাজনীতি: পরিবর্তনের সম্ভাবনা

১২:৪১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সংকটময় সময়

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা এমন একদল মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, যারা কংগ্রেসের উদ্বোধনীতে প্রার্থনা করে কিন্তু পরে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। তবে ভোটারদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ দেখায়, অল্পসংখ্যক দরিদ্র ভোটার যারা নিজেদের ক্ষতি বুঝতে পারছে, তারা চাইলে আমেরিকার রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দিতে পারে।

দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং রাজনীতি

গত চার দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য দ্রুত বেড়েছে। ২০১৮ সালে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের শ্বেতাঙ্গ মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬ মিলিয়নে—যা অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর চেয়ে বড়। এ কারণে অনেক নিম্ন-আয়ের শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায় “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (MAGA)” আন্দোলনের তথাকথিত “জনপ্রিয়তাবাদী” বার্তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের বোঝানো হয়, যদি শ্বেতাঙ্গরা সমস্যায় পড়ে, তবে এর কারণ হলো কৃষ্ণাঙ্গ বা অভিবাসীরা তাদের সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কঠোর অভিবাসন অভিযান (ICE রেইড) চালায়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ নিজেদের স্বার্থবিরোধী ভোট দেয় না। ২০২৪ সালে ট্রাম্প কিছু নিম্ন-আয়ের ভোটারের সমর্থন পেলেও আসল পরিবর্তন ঘটেছিল যারা একেবারেই ভোট দেয়নি তাদের মধ্যে। লেক রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাইডেনকে জেতাতে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ (১৯ মিলিয়ন) দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষ ২০২৪ সালে ভোটকেন্দ্রে যাননি। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছে, ডেমোক্র্যাটদের বার্তা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মেলেনি।

ভুল ধারণা বনাম বাস্তবতা

দরিদ্র জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির চরমপন্থার চালক নয়। ট্রাম্পের আসল ভিত্তি ধনী কর্পোরেশন ও অভিজাতদের জন্য ট্যাক্স ছাড় দেওয়ার নীতি। বরং দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের জনগণই সবচেয়ে বড় সুইং ভোটার। এ কারণে তাদের সংগঠিত করা জরুরি—যাতে তারা এমন প্রার্থীদের দাবি করতে পারে যারা সত্যিই তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

ইতিহাসের শিক্ষা

আমেরিকার ইতিহাসে দরিদ্রদের একত্রিত করার নৈতিক আন্দোলন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। আমাদের বই White Poverty-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ প্রায় ১০% বেড়েছিল—যা ২০০৮ সালের ওবামার ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির চেয়েও বড়। এ বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ছিল নিম্ন-আয়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ, যা “ব্লু ওয়েভ” তৈরি করে ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়।

নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন

একটি শক্তিশালী আন্দোলন প্রার্থীদের ভাষা ও প্রতিশ্রুতির ধরণ পাল্টে দিতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা শুধু জনগণের সেবার ভিশন তুলে ধরবে না, বরং তা বাস্তবায়নে নির্বাহী পদক্ষেপ, বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন ও ক্ষমতার ব্যবহার করবে—যাতে নীতিগুলো নিচ থেকে শুরু হয় এবং সবাই উপকৃত হয়।

নৈতিক সংহতির আন্দোলন

আজ দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষ যদি জাতিগত ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে একত্রিত হয়, তবে তারা আমেরিকার রাজনৈতিক আলোচনার ধারা বদলে দিতে পারে। এ কারণেই দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে “মোরাল মানডেস”—যেখানে স্বাস্থ্যসেবা কাটছাঁটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা নিজেদের প্রতিনিধি ও নৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি দাবি তুলছে।

একটি আন্দোলন যদি দরিদ্রদের নেতৃত্বে, জাতিগত বিভেদ অতিক্রম করে এবং প্রগতিশীল মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, কংগ্রেস ও রাজ্য পর্যায়ের বহু আসনও নির্ধারণ করতে পারে। বর্তমানে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ—আর সুইং অঙ্গরাজ্যে এ হার ৪০% এরও বেশি।

এখন সময় এসেছে দরিদ্র মানুষদের বিভেদ সৃষ্টিকারী মিথকে প্রত্যাখ্যান করার এবং সবাইকে নিয়ে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার, যা সবার জন্য কার্যকর হবে। এই আন্দোলন শুধু দরিদ্রদের জন্য সুসংবাদ নয়—এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য ও সুসংবাদ .