০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫২)

ব্যারা

ভাদ্রমাস, ভাগীরথী কূলে কূলে পূরিয়াছেন, অনন্তপ্রবাহ সলিলরাশি তটে প্রতিহত হইয়া বেগে- সুবেগে-অতি বেগে-সেই বিরাট্ সাগর-হৃদয়ে আত্মবিসর্জনের জন্য ছুটিয়াছে। দিগন্তপ্রসারিত নীলাকাশ, নিবিড় মেঘমালায় সমাবৃত হইয়া, বিষাদাচ্ছন্নের হাস্যের ন্যায় ক্ষীণ বিদ্যুল্লতার আলোকে মধ্যে মধ্যে আপনার অস্তিত্ব দেখাইতেছে। রাত্রিকাল, নৈশ অন্ধকারে পৃথিবী ঢাকিয়া ফেলিয়াছে, রজনী জ্যোৎস্নাশালিনী হইলেও মেঘাবরণে তাহা অন্ধকারময়ী। চতুদিক্ নীরব, কেবল তটাভিঘাতিনী ভাগীরথীর জলোচ্ছাস ও তটপতনশব্দ মধ্যে মধ্যে গভীর নৈশ নীরবতা ভঙ্গ করিতেছে।

এইরূপ রজনীযোগে, ভাদ্রমাসের শেষ ‘বৃহস্পতিবারে প্রান্তবাহিনী ভাগীরথীবক্ষে এক অপূর্ব্ব আলোক দৃপ্ত নয়নপথে নিপতিত হয়। নিবিড় অন্ধকাররাশিকে দূরদূরান্তরে বিক্ষিপ্ত করিয়া সেই সঞ্চারিণী আলোকমালা ভাগীরথীহৃদয় প্রতিফলিত করিতে করিতে, তরঙ্গে তরঙ্গে প্রতিহত হইয়া যখন গমন করিতে থাকে, তখন সে দৃশ্য বড়ই সুন্দর বলিয়া বোধ হয়।

শত হস্ত পরিমিত আলোকযান অসংখ্য আলোক-মালায় বিভূয়িত হইয়া ভাসমান, চতুদ্দিকে ক্ষুদ্রাকারের সেইরূপ যান, ও শত শত ‘কমল’ • প্রস্ফুটিত কমলের ন্যায় হাসিতে হাসিতে ভাসিতে থাকে। তাহাদিগকে দেখিলে মনে হয় যেন, নীলাকাশস্থ সমস্ত তারকা-রাজি বিরাট অনন্তরাজ্য হইতে আত্মবিসর্জন করিয়া ভাগীরথীবক্ষে পতিত হইয়াছে। মুর্শিদাবাদের সৌধাবলী সেই আলোকমালায় পূর্ব্ব গৌরবের ক্ষণস্মৃতির ন্যায় নিমেষের জন্য হাসিয়া, আবার অন্ধকারে আপনাদিগকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে, ভাগীরথীবক্ষঃস্থিত তরণীনিচয় তাহাতে উদ্ভাসিত হইয়া উঠে।

তরণী ও তীরস্থিত সহস্র সহস্র দর্শকের নয়নগোলক প্রতিবিম্বিত করিয়া, আপনাদিগের ছটা ছুটাইতে ছুটাইতে তাহারা ভাসিয়া চলিয়া যায়। জাহ্নবীসলিলরাশি জ্যোতিল হরীতে প্রতিফলিত হইয়া বোধ হইতে থাকে, যেন নদী-গর্ভে আলোকের তরঙ্গ ছুটাছুটি করিতেছে। মধ্যে মধ্যে আলোকযান হইতে এক এক, প্রকা-রের আতসবাজী সহসা প্রজ্বলিত হইয়া উঠে।

 

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫২)

১১:০০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ব্যারা

ভাদ্রমাস, ভাগীরথী কূলে কূলে পূরিয়াছেন, অনন্তপ্রবাহ সলিলরাশি তটে প্রতিহত হইয়া বেগে- সুবেগে-অতি বেগে-সেই বিরাট্ সাগর-হৃদয়ে আত্মবিসর্জনের জন্য ছুটিয়াছে। দিগন্তপ্রসারিত নীলাকাশ, নিবিড় মেঘমালায় সমাবৃত হইয়া, বিষাদাচ্ছন্নের হাস্যের ন্যায় ক্ষীণ বিদ্যুল্লতার আলোকে মধ্যে মধ্যে আপনার অস্তিত্ব দেখাইতেছে। রাত্রিকাল, নৈশ অন্ধকারে পৃথিবী ঢাকিয়া ফেলিয়াছে, রজনী জ্যোৎস্নাশালিনী হইলেও মেঘাবরণে তাহা অন্ধকারময়ী। চতুদিক্ নীরব, কেবল তটাভিঘাতিনী ভাগীরথীর জলোচ্ছাস ও তটপতনশব্দ মধ্যে মধ্যে গভীর নৈশ নীরবতা ভঙ্গ করিতেছে।

এইরূপ রজনীযোগে, ভাদ্রমাসের শেষ ‘বৃহস্পতিবারে প্রান্তবাহিনী ভাগীরথীবক্ষে এক অপূর্ব্ব আলোক দৃপ্ত নয়নপথে নিপতিত হয়। নিবিড় অন্ধকাররাশিকে দূরদূরান্তরে বিক্ষিপ্ত করিয়া সেই সঞ্চারিণী আলোকমালা ভাগীরথীহৃদয় প্রতিফলিত করিতে করিতে, তরঙ্গে তরঙ্গে প্রতিহত হইয়া যখন গমন করিতে থাকে, তখন সে দৃশ্য বড়ই সুন্দর বলিয়া বোধ হয়।

শত হস্ত পরিমিত আলোকযান অসংখ্য আলোক-মালায় বিভূয়িত হইয়া ভাসমান, চতুদ্দিকে ক্ষুদ্রাকারের সেইরূপ যান, ও শত শত ‘কমল’ • প্রস্ফুটিত কমলের ন্যায় হাসিতে হাসিতে ভাসিতে থাকে। তাহাদিগকে দেখিলে মনে হয় যেন, নীলাকাশস্থ সমস্ত তারকা-রাজি বিরাট অনন্তরাজ্য হইতে আত্মবিসর্জন করিয়া ভাগীরথীবক্ষে পতিত হইয়াছে। মুর্শিদাবাদের সৌধাবলী সেই আলোকমালায় পূর্ব্ব গৌরবের ক্ষণস্মৃতির ন্যায় নিমেষের জন্য হাসিয়া, আবার অন্ধকারে আপনাদিগকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে, ভাগীরথীবক্ষঃস্থিত তরণীনিচয় তাহাতে উদ্ভাসিত হইয়া উঠে।

তরণী ও তীরস্থিত সহস্র সহস্র দর্শকের নয়নগোলক প্রতিবিম্বিত করিয়া, আপনাদিগের ছটা ছুটাইতে ছুটাইতে তাহারা ভাসিয়া চলিয়া যায়। জাহ্নবীসলিলরাশি জ্যোতিল হরীতে প্রতিফলিত হইয়া বোধ হইতে থাকে, যেন নদী-গর্ভে আলোকের তরঙ্গ ছুটাছুটি করিতেছে। মধ্যে মধ্যে আলোকযান হইতে এক এক, প্রকা-রের আতসবাজী সহসা প্রজ্বলিত হইয়া উঠে।