০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
মস্তিষ্কের বিকাশেই লুকিয়ে কিশোর বিষণ্নতার ইঙ্গিত, মেয়েদের ঝুঁকি ছেলেদের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জনকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি নওগাঁয় প্রতি মৌসুমে ৩০০-৪০০ কোটি টাকার আম নষ্ট, প্রক্রিয়াজাত শিল্পের দাবিতে কৃষকদের সোচ্চার সোনার দামে বড় পতন, ভরি ২২ ক্যারেট নেমে এলো ২ লাখ ২৯ হাজার টাকায় মিরপুরে গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ যুবক শান্তির শেষ সুযোগ, নাকি আরেকটি বিরতির যুদ্ধ? একটি পাকিস্তানি পরিবারের দুবাই-যাত্রার গল্প গ্রীষ্মে নীল রঙ আর টো-রিংয়ে মুগ্ধ অনন্যা পান্ডে ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে প্রথমবার মিরা আন্দ্রেয়েভা, কোস্তিউককে উড়িয়ে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে হরমুজ প্রণালি: বিকল্পের কল্পনা আর বাস্তবতার সীমারেখা

বৈরী আবহাওয়ায় কাঁচামরিচ আটকে গেলো হিলি বন্দরে

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরে কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত থেকে আসা শত শত ট্রাক বন্দরের বিভিন্ন সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে দিনভর বেকার সময় কাটাচ্ছেন, বিশেষ করে যারা দিনমজুর — তারা উপার্জন থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

বন্দর কার্যক্রমে স্থবিরতা

বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক অসিতকুমার স্যানাল জানান, হিলি বন্দরে মোট ১৬টি খালাস শেড রয়েছে। একসঙ্গে ১৬টি ট্রাক থেকে পণ্য নামানো সম্ভব হলেও টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির ফলে বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে কাঁচামরিচ, শাকসবজি ও খাদ্যপণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা এসব পণ্যের মধ্যে অনেক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিকদের দুর্ভোগ

একজন শ্রমিক বলেন, “গতকাল আমরা কাঁচামরিচ বোঝাই একটি ট্রাক খালাস করেছি, কিন্তু সেদিন পুরো দিনের জন্য মাত্র ১২০ টাকা পেয়েছি। আজ আবার বৃষ্টি, তাই কাজও নেই।”

এমন পরিস্থিতিতে শত শত শ্রমিক বন্দরে বসে সময় পার করছেন। অনেকে বৃষ্টির কারণে আশ্রয় নিচ্ছেন অস্থায়ী টিনের ছাউনি বা গুদামঘরে।

বাণিজ্য ও রাজস্বে প্রভাব

বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে হিলি বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি বেড়েই চলেছে।

বন্দরের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, চাল-গম, খৈল, ভুষি, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে শুল্কমুক্ত খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ বেশি। তবে, শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক কমে গেছে।

সম্ভাব্য ক্ষতি

  • দীর্ঘ সময় ট্রাক আটকে থাকায় আমদানিকারক ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ব্যয়ে পড়ছেন।
  • শ্রমিকরা উপার্জন হারাচ্ছেন, ফলে তাদের জীবিকা ঝুঁকিতে।
  • বৃষ্টির কারণে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামরিচ ও অন্যান্য দ্রুত পচনশীল পণ্য।
  • বন্দরের রাজস্ব প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই যদি পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এর ক্ষতি শুধু ব্যবসায়ী নয়, পুরো অর্থনৈতিক প্রবাহে প্রভাব ফেলবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিকল্পনা ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণই এখন সময়ের দাবি—নইলে “কাঁচামরিচে আটকে থাকা হিলি বন্দর” শুধু আবহাওয়ার দোষ নয়, ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্তিষ্কের বিকাশেই লুকিয়ে কিশোর বিষণ্নতার ইঙ্গিত, মেয়েদের ঝুঁকি ছেলেদের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি

বৈরী আবহাওয়ায় কাঁচামরিচ আটকে গেলো হিলি বন্দরে

০৪:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরে কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত থেকে আসা শত শত ট্রাক বন্দরের বিভিন্ন সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে দিনভর বেকার সময় কাটাচ্ছেন, বিশেষ করে যারা দিনমজুর — তারা উপার্জন থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

বন্দর কার্যক্রমে স্থবিরতা

বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক অসিতকুমার স্যানাল জানান, হিলি বন্দরে মোট ১৬টি খালাস শেড রয়েছে। একসঙ্গে ১৬টি ট্রাক থেকে পণ্য নামানো সম্ভব হলেও টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির ফলে বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে কাঁচামরিচ, শাকসবজি ও খাদ্যপণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা এসব পণ্যের মধ্যে অনেক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিকদের দুর্ভোগ

একজন শ্রমিক বলেন, “গতকাল আমরা কাঁচামরিচ বোঝাই একটি ট্রাক খালাস করেছি, কিন্তু সেদিন পুরো দিনের জন্য মাত্র ১২০ টাকা পেয়েছি। আজ আবার বৃষ্টি, তাই কাজও নেই।”

এমন পরিস্থিতিতে শত শত শ্রমিক বন্দরে বসে সময় পার করছেন। অনেকে বৃষ্টির কারণে আশ্রয় নিচ্ছেন অস্থায়ী টিনের ছাউনি বা গুদামঘরে।

বাণিজ্য ও রাজস্বে প্রভাব

বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে হিলি বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি বেড়েই চলেছে।

বন্দরের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, চাল-গম, খৈল, ভুষি, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে শুল্কমুক্ত খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ বেশি। তবে, শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক কমে গেছে।

সম্ভাব্য ক্ষতি

  • দীর্ঘ সময় ট্রাক আটকে থাকায় আমদানিকারক ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ব্যয়ে পড়ছেন।
  • শ্রমিকরা উপার্জন হারাচ্ছেন, ফলে তাদের জীবিকা ঝুঁকিতে।
  • বৃষ্টির কারণে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামরিচ ও অন্যান্য দ্রুত পচনশীল পণ্য।
  • বন্দরের রাজস্ব প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই যদি পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এর ক্ষতি শুধু ব্যবসায়ী নয়, পুরো অর্থনৈতিক প্রবাহে প্রভাব ফেলবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিকল্পনা ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণই এখন সময়ের দাবি—নইলে “কাঁচামরিচে আটকে থাকা হিলি বন্দর” শুধু আবহাওয়ার দোষ নয়, ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে।