০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বয়সের বিরুদ্ধে লড়াই, নাকি সমাজের কাছে আত্মসমর্পণ? ম্যাডোনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার চ্যাটবটের অতিরিক্ত সহমর্মিতা কি বাড়াচ্ছে বিভ্রান্তি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ যে ছবিগুলো বদলে দিয়েছে আমেরিকার ইতিহাস, গড়ে তুলেছে জাতির স্মৃতি বয়স বাড়লে কেন কমে যায় ক্ষুধা? দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার কতটা নিরাপদ? করপোরেট মুনাফার রেকর্ডে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নতুন পণ্য ও কম দামে ক্রেতা ফেরাতে বড় পরিকল্পনা জেনারেল মিলসের আগামী দিনের বাড়ি কেমন হবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দেবে রান্নাঘর থেকে বাথরুম পর্যন্ত থাইল্যান্ডে তীর্থযাত্রায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ১১ বছরের চালকের পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষু সিকিমে ‘সুবোধ’-এর আবির্ভাব: সীমান্ত পেরিয়ে নতুন বার্তা দিলেন রহস্যময় শিল্পী HOBEKI?

২০২৫ রসায়ন নোবেল: হার্মিয়নের হ্যান্ডব্যাগ ধরনের উপকরণ নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি

জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তিন বিজ্ঞানী — সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াগহি — ২০২৫ সালের রসায়ন নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOFs) — এমন অণু কাঠামো, যার মাধ্যমে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ সহজে প্রবাহিত হতে পারে। এই প্রযুক্তি দিয়ে মরু অঞ্চলের বায়ু থেকে পানি আহরণ, কার্বন ডাই অক্সাইড সংরক্ষণ কিংবা বিষাক্ত গ্যাস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।

পুরস্কার কমিটির মতে, কিছু MOF-এর গঠন এমন যে, একটি চিনি কিউবের আকারের অংশের অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠতল একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান। কমিটির এক সদস্য রসিকতার ছলে বলেন, “এই উপাদান প্রায় হার্মিয়নের হ্যান্ডব্যাগের মতো — ছোট জায়গায় বিশাল পরিমাণ গ্যাস ধারণ করতে সক্ষম।”


নতুন উপকরণ: ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

পুরস্কারপ্রাপ্তরা এমন এক নতুন ধরনের অণু কাঠামো উদ্ভাবন করেছেন, যা ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উপকরণগুলো দিয়ে মরুভূমির হাওয়া থেকে জল সংগ্রহ, পরিবেশে থাকা ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ PFAS অপসারণ, এমনকি ওষুধের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করা সম্ভব।

ইতিমধ্যে সিমেন্ট উৎপাদনসহ নানা শিল্পে কার্বন বন্দী করার পরীক্ষায় MOF ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিতাগাওয়া জানান, তাঁর স্বপ্ন—বায়ু থেকে CO₂, অক্সিজেন ও জল আলাদা করে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উপকারী পদার্থ তৈরি করা। ইয়াগহির ভাষায়, “এটা কোনো হাইপ নয়, বরং বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ যা সরাসরি সমাজে প্রভাব ফেলবে।”


বিজ্ঞান, মানুষের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

নোবেল একাডেমি জানিয়েছে, এই আবিষ্কারের পর থেকেই শতাধিক ভিন্ন ধরনের MOF তৈরি হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু মানবজাতির বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারে। পানি থেকে PFAS অপসারণ বা পরিবেশে ওষুধের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ ধ্বংস—এসব কাজেও MOF-এর সম্ভাবনা বিশাল।


পুরস্কার ও অর্থমূল্য

“রয়্যাল সুইডিশ বিজ্ঞান একাডেমি” প্রতিবছর রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি বিষয়ে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। এ বছর রসায়ন পুরস্কারের অর্থমূল্য ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন, যা তিন বিজয়ীর মধ্যে ভাগ হবে।

এটি ২০২৫ সালের নোবেল সিরিজের তৃতীয় পুরস্কার; এর আগে চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।


পুরস্কারপ্রাপ্তদের পরিচয় ও বক্তব্য

সুসুমু কিতাগাওয়া

জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিতাগাওয়া পুরস্কার ঘোষণার পর বলেন, তিনি “গভীরভাবে সম্মানিত” বোধ করছেন।

রিচার্ড রবসন

ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া রবসন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি বলেন, “রাতে আমি মাছ রান্না ও পরিষ্কার করছিলাম, তখনই পুরস্কারের খবর পেলাম।”
স্বাস্থ্যের কারণে মদ্যপান বন্ধ করলেও, “পুরস্কারের রাতে এক গ্লাস সস্তা মদ্যের” স্বাদ নিতে ভুলেননি তিনি।

ওমর ইয়াগহি

জর্ডানে জন্ম নেওয়া ইয়াগহি একজন শরণার্থী পরিবারের সন্তান। তাঁর শৈশব কেটেছে গৃহপালিত পশুর সঙ্গে একই ঘরে। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সমতা আনতে পারে।”
মাত্র ১০ বছর বয়সে এক গ্রন্থাগার থেকে রসায়নের বই পেয়ে তিনি বিজ্ঞানের প্রেমে পড়েন। তাঁর কথায়, “যত গভীরে খুঁজো, তত সুন্দরভাবে গঠন দেখা যায়।”


এই নোবেল পুরস্কার প্রমাণ করেছে, রসায়ন শুধু তত্ত্ব নয়—বরং বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
MOF প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে পানি উৎপাদন, কার্বন বন্দী এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী দিগন্ত খুলে যেতে পারে।
বিজ্ঞানের এই অর্জন শুধু তিন গবেষকের সম্মান নয়, বরং মানবজাতির টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এক নতুন আলোকরেখা।


#নোবেল_পুরস্কার #রসায়ন_নোবেল #বিজ্ঞান #হার্মিয়নের_হ্যান্ডব্যাগ #MOF #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

বয়সের বিরুদ্ধে লড়াই, নাকি সমাজের কাছে আত্মসমর্পণ? ম্যাডোনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

২০২৫ রসায়ন নোবেল: হার্মিয়নের হ্যান্ডব্যাগ ধরনের উপকরণ নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি

০৩:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তিন বিজ্ঞানী — সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াগহি — ২০২৫ সালের রসায়ন নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOFs) — এমন অণু কাঠামো, যার মাধ্যমে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ সহজে প্রবাহিত হতে পারে। এই প্রযুক্তি দিয়ে মরু অঞ্চলের বায়ু থেকে পানি আহরণ, কার্বন ডাই অক্সাইড সংরক্ষণ কিংবা বিষাক্ত গ্যাস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।

পুরস্কার কমিটির মতে, কিছু MOF-এর গঠন এমন যে, একটি চিনি কিউবের আকারের অংশের অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠতল একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান। কমিটির এক সদস্য রসিকতার ছলে বলেন, “এই উপাদান প্রায় হার্মিয়নের হ্যান্ডব্যাগের মতো — ছোট জায়গায় বিশাল পরিমাণ গ্যাস ধারণ করতে সক্ষম।”


নতুন উপকরণ: ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

পুরস্কারপ্রাপ্তরা এমন এক নতুন ধরনের অণু কাঠামো উদ্ভাবন করেছেন, যা ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উপকরণগুলো দিয়ে মরুভূমির হাওয়া থেকে জল সংগ্রহ, পরিবেশে থাকা ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ PFAS অপসারণ, এমনকি ওষুধের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করা সম্ভব।

ইতিমধ্যে সিমেন্ট উৎপাদনসহ নানা শিল্পে কার্বন বন্দী করার পরীক্ষায় MOF ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিতাগাওয়া জানান, তাঁর স্বপ্ন—বায়ু থেকে CO₂, অক্সিজেন ও জল আলাদা করে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে উপকারী পদার্থ তৈরি করা। ইয়াগহির ভাষায়, “এটা কোনো হাইপ নয়, বরং বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ যা সরাসরি সমাজে প্রভাব ফেলবে।”


বিজ্ঞান, মানুষের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

নোবেল একাডেমি জানিয়েছে, এই আবিষ্কারের পর থেকেই শতাধিক ভিন্ন ধরনের MOF তৈরি হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু মানবজাতির বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারে। পানি থেকে PFAS অপসারণ বা পরিবেশে ওষুধের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ ধ্বংস—এসব কাজেও MOF-এর সম্ভাবনা বিশাল।


পুরস্কার ও অর্থমূল্য

“রয়্যাল সুইডিশ বিজ্ঞান একাডেমি” প্রতিবছর রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি বিষয়ে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। এ বছর রসায়ন পুরস্কারের অর্থমূল্য ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন, যা তিন বিজয়ীর মধ্যে ভাগ হবে।

এটি ২০২৫ সালের নোবেল সিরিজের তৃতীয় পুরস্কার; এর আগে চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।


পুরস্কারপ্রাপ্তদের পরিচয় ও বক্তব্য

সুসুমু কিতাগাওয়া

জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিতাগাওয়া পুরস্কার ঘোষণার পর বলেন, তিনি “গভীরভাবে সম্মানিত” বোধ করছেন।

রিচার্ড রবসন

ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া রবসন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি বলেন, “রাতে আমি মাছ রান্না ও পরিষ্কার করছিলাম, তখনই পুরস্কারের খবর পেলাম।”
স্বাস্থ্যের কারণে মদ্যপান বন্ধ করলেও, “পুরস্কারের রাতে এক গ্লাস সস্তা মদ্যের” স্বাদ নিতে ভুলেননি তিনি।

ওমর ইয়াগহি

জর্ডানে জন্ম নেওয়া ইয়াগহি একজন শরণার্থী পরিবারের সন্তান। তাঁর শৈশব কেটেছে গৃহপালিত পশুর সঙ্গে একই ঘরে। তিনি বলেন, “বিজ্ঞানই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সমতা আনতে পারে।”
মাত্র ১০ বছর বয়সে এক গ্রন্থাগার থেকে রসায়নের বই পেয়ে তিনি বিজ্ঞানের প্রেমে পড়েন। তাঁর কথায়, “যত গভীরে খুঁজো, তত সুন্দরভাবে গঠন দেখা যায়।”


এই নোবেল পুরস্কার প্রমাণ করেছে, রসায়ন শুধু তত্ত্ব নয়—বরং বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
MOF প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে পানি উৎপাদন, কার্বন বন্দী এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী দিগন্ত খুলে যেতে পারে।
বিজ্ঞানের এই অর্জন শুধু তিন গবেষকের সম্মান নয়, বরং মানবজাতির টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এক নতুন আলোকরেখা।


#নোবেল_পুরস্কার #রসায়ন_নোবেল #বিজ্ঞান #হার্মিয়নের_হ্যান্ডব্যাগ #MOF #সারাক্ষণ_রিপোর্ট