০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে? গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ বড় পরিবর্তন, আসছে ‘আল্ট্রা’ সংস্করণ আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর হওয়ার দৌড়ে থাকা তরুণ রাজনীতিবিদ আবদুল এল সাইদ কে? টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল? যোগ্যতার সরকার: পাকিস্তানের গণতন্ত্রে এখন প্রয়োজন দক্ষতার নতুন কাঠামো তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’

পেঁয়াজ নিয়ে নতুন আতঙ্ক , সবজির দামে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে

মিরপুরের বাজারের সকাল

শুক্রবার সকালে মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে ঢুকতেই ভেসে আসে গরম ধোঁয়ার মতো ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস—
“আজও দাম কমেনি!”
সবজির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল হক মাথা নাড়লেন। হাতে একটা ব্যাগ, যার ভেতরে মাত্র কয়েকটা ফুলকপি আর কিছু বেগুন। তিনি বললেন,
“ছোট একটা ফুলকপি ৬০ টাকা, বেগুন ৮০! দোকানদাররা বলে দাম নাকি কমেছে। এই যদি কম হয়, তাহলে বেশি কাকে বলে?”

পাশেই বসে আছেন সবজি বিক্রেতা শাহ আলম। হাসিমুখে উত্তর দিলেন,
“দাম কিছুটা কমেছে ভাই, শীত আসছে। দুই সপ্তাহ পর দেখবেন, দাম নামবে।”
কিন্তু কথার ভেতরেও টের পাওয়া যায়, বাজারের টান টান অবস্থা তিনিও বুঝতে পারছেন।

সবজির নাগালের বাইরে দাম

টমেটো, গাজর, বেগুন, শসা—সব কিছুর দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে।
ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা, দেশি টমেটো ১৪০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১৬০, আর বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
ধনেপাতার কেজি ৩০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০—এই হিসাব শুনে অনেকেই চোখ কচলাচ্ছেন নিয়ে।

বাজারে এক বৃদ্ধা ময়না বেগম ক্ষোভভরে বললেন,
“আমার ছেলের বেতন ১২ হাজার। এই দামে বাজার করলে ঘরে ভাত রান্না হবে কীভাবে?”

পেঁয়াজ নিয়ে নতুন আতঙ্ক

সবজির দামে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই আঘাত হেনেছে পেঁয়াজ।
ক্রস আর দেশি—দুই ধরনের পেঁয়াজই এখন ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
বিক্রেতা ইউসুফ জানালেন,
“নতুন পেঁয়াজ আসার আগ পর্যন্ত দাম কমবে না। এখন সিজন শেষ, মজুত কম।”

তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্রেতা, নাম বললেন না, শুধু হেসে বললেন,
“আমরা তো ২৫০ টাকায়ও পেঁয়াজ কিনেছি এক সময়। এখন দেখি আবার সেই পথেই যাচ্ছি।”

মুরগি ও মাছের বাজারেও চাপ

মাংসের দোকানে ঢুকতেই গরুর মাংস ৭৮০ টাকা, খাসির ১২০০ টাকা।
মুরগির দামও বাড়তি—ব্রয়লার ১৮০, লেয়ার ৩০০, দেশি ৫৫০ টাকা কেজি।
তবে কক মুরগির দাম একটু কমেছে, বিক্রেতা বললেন,
“গত সপ্তাহে কক ছিল ৩০০, আজ ২৮০। কিন্তু শীতেও এবার দাম কেমন যাবে, কেউ বলতে পারছে না।”

মাছের বাজারেও গল্পটা প্রায় একই। ইলিশ কেজি ৯০০ থেকে ২৯০০, রুই ৪০০ থেকে ৬৫০।
চিংড়ি, টেংরা, বোয়াল—সবই হাজার টাকার ঘরে ঘুরছে।

মুদি পণ্যে সামান্য স্বস্তি

একটু স্বস্তির খবর আছে কেবল মুদি দোকানগুলোতে।
খোলা চিনির দাম ৫ টাকা কমেছে, মসুর ডাল কমেছে ১৫ টাকা।
তবে তেল, ঘি, চাল—সবকিছুর দাম অপরিবর্তিত।

দোকানদার রফিক মিয়া বললেন,
“চালের দাম যেমন ছিল, তেমনই আছে। তেলের দামও কমেনি। শুধু চিনি আর ডাল একটু কমেছে।”

সাধারণ মানুষের মন খারাপ

বাজার থেকে বের হতে হতে সাইফুল হক আবার বললেন,
“প্রতিদিন এমন বাজারে আসা মানে মানসিক যন্ত্রণা। পেঁয়াজ, মরিচ, সবজি—সব যেন সোনার দাম।”

বাজারের ভেতর হালকা শীতের হাওয়া বয়ে যায়, কিন্তু সেই হাওয়ায় নেই স্বস্তি।
মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—
এমন বাজারে ঘরের চুলা জ্বলবে কেমন করে?”

#পেঁয়াজের_দাম #সবজির_বাজার #দামবৃদ্ধি #ঢাকার_বাজার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে?

পেঁয়াজ নিয়ে নতুন আতঙ্ক , সবজির দামে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে

০৯:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

মিরপুরের বাজারের সকাল

শুক্রবার সকালে মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারে ঢুকতেই ভেসে আসে গরম ধোঁয়ার মতো ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস—
“আজও দাম কমেনি!”
সবজির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল হক মাথা নাড়লেন। হাতে একটা ব্যাগ, যার ভেতরে মাত্র কয়েকটা ফুলকপি আর কিছু বেগুন। তিনি বললেন,
“ছোট একটা ফুলকপি ৬০ টাকা, বেগুন ৮০! দোকানদাররা বলে দাম নাকি কমেছে। এই যদি কম হয়, তাহলে বেশি কাকে বলে?”

পাশেই বসে আছেন সবজি বিক্রেতা শাহ আলম। হাসিমুখে উত্তর দিলেন,
“দাম কিছুটা কমেছে ভাই, শীত আসছে। দুই সপ্তাহ পর দেখবেন, দাম নামবে।”
কিন্তু কথার ভেতরেও টের পাওয়া যায়, বাজারের টান টান অবস্থা তিনিও বুঝতে পারছেন।

সবজির নাগালের বাইরে দাম

টমেটো, গাজর, বেগুন, শসা—সব কিছুর দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে।
ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা, দেশি টমেটো ১৪০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১৬০, আর বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
ধনেপাতার কেজি ৩০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০—এই হিসাব শুনে অনেকেই চোখ কচলাচ্ছেন নিয়ে।

বাজারে এক বৃদ্ধা ময়না বেগম ক্ষোভভরে বললেন,
“আমার ছেলের বেতন ১২ হাজার। এই দামে বাজার করলে ঘরে ভাত রান্না হবে কীভাবে?”

পেঁয়াজ নিয়ে নতুন আতঙ্ক

সবজির দামে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই আঘাত হেনেছে পেঁয়াজ।
ক্রস আর দেশি—দুই ধরনের পেঁয়াজই এখন ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
বিক্রেতা ইউসুফ জানালেন,
“নতুন পেঁয়াজ আসার আগ পর্যন্ত দাম কমবে না। এখন সিজন শেষ, মজুত কম।”

তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্রেতা, নাম বললেন না, শুধু হেসে বললেন,
“আমরা তো ২৫০ টাকায়ও পেঁয়াজ কিনেছি এক সময়। এখন দেখি আবার সেই পথেই যাচ্ছি।”

মুরগি ও মাছের বাজারেও চাপ

মাংসের দোকানে ঢুকতেই গরুর মাংস ৭৮০ টাকা, খাসির ১২০০ টাকা।
মুরগির দামও বাড়তি—ব্রয়লার ১৮০, লেয়ার ৩০০, দেশি ৫৫০ টাকা কেজি।
তবে কক মুরগির দাম একটু কমেছে, বিক্রেতা বললেন,
“গত সপ্তাহে কক ছিল ৩০০, আজ ২৮০। কিন্তু শীতেও এবার দাম কেমন যাবে, কেউ বলতে পারছে না।”

মাছের বাজারেও গল্পটা প্রায় একই। ইলিশ কেজি ৯০০ থেকে ২৯০০, রুই ৪০০ থেকে ৬৫০।
চিংড়ি, টেংরা, বোয়াল—সবই হাজার টাকার ঘরে ঘুরছে।

মুদি পণ্যে সামান্য স্বস্তি

একটু স্বস্তির খবর আছে কেবল মুদি দোকানগুলোতে।
খোলা চিনির দাম ৫ টাকা কমেছে, মসুর ডাল কমেছে ১৫ টাকা।
তবে তেল, ঘি, চাল—সবকিছুর দাম অপরিবর্তিত।

দোকানদার রফিক মিয়া বললেন,
“চালের দাম যেমন ছিল, তেমনই আছে। তেলের দামও কমেনি। শুধু চিনি আর ডাল একটু কমেছে।”

সাধারণ মানুষের মন খারাপ

বাজার থেকে বের হতে হতে সাইফুল হক আবার বললেন,
“প্রতিদিন এমন বাজারে আসা মানে মানসিক যন্ত্রণা। পেঁয়াজ, মরিচ, সবজি—সব যেন সোনার দাম।”

বাজারের ভেতর হালকা শীতের হাওয়া বয়ে যায়, কিন্তু সেই হাওয়ায় নেই স্বস্তি।
মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—
এমন বাজারে ঘরের চুলা জ্বলবে কেমন করে?”

#পেঁয়াজের_দাম #সবজির_বাজার #দামবৃদ্ধি #ঢাকার_বাজার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট