বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের ধারাবাহিক জাহাজ হামলা এবং প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাহাজে হামলা, আগুনে পুড়ল ট্যাঙ্কার
বুধবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পর ইরাকের জলসীমায় জ্বালানি বহনকারী দুটি বিদেশি ট্যাঙ্কারেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু। এতে একটি ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন এবং অন্তত সাতত্রিশজনকে উদ্ধার করা হয়।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার একমাত্র সমুদ্রপথ। তাই এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক অবস্থান
উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো একাধিকবার জাহাজকে সামরিক পাহারা দেওয়ার অনুরোধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তা মেনে নিচ্ছে না। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, প্রণালীর সংকীর্ণ জলপথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র প্রায় একুশ মাইল প্রশস্ত। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা নৌ মাইন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কার আশঙ্কা
প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একসময় একশ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এতে অনেক দেশে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও বিপাকে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সত্তর লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকটের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ শুধু যুদ্ধ থামলেই হবে না, জাহাজ মালিকদেরও বিশ্বাস করতে হবে যে পথটি আবার নিরাপদ হয়েছে।
এই প্রণালী যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় আটত্রিশ শতাংশ বহন করত। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তেলের বাজারে বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তা বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য বিপর্যয়কর হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গুরুতরভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে তাদের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















