১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
শিক্ষা জীবনে অর্থ যোগ করুক ডেরা ইসমাইল খানে বিয়ের আসরে আত্মঘাতী হামলা, প্রাণ গেল সাতজনের বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান চরম তাপের নাটক পেরিয়ে সিনারের প্রত্যাবর্তন, জোকোভিচের চারশো জয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড, আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ আফ্রিদি ও গিলেস্পির গণভোটে ‘না’ বললেই স্বৈরাচারের দোসর, আর ‘হ্যাঁ’ প্রচার মানেই নাৎসিবাদের সঙ্গী: জিএম কাদের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার উসকানি, নয়াদিল্লীতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ ঢাকা জুড়ে বিবিসির কিংবদন্তি সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, উদ্বেগ জানাল বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন বিএনপি কর্মীদের ভয় নেই, আশ্রয়ের আশ্বাস নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল নিয়ে রায় ২০ নভেম্বর: রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল সংক্রান্ত দুটি রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণার তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগ। আসন্ন রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও জল্পনা তুঙ্গে, কারণ এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কাঠামো ও স্বরূপ।


রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে দায়ের করা দুটি পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত – আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর ২০২৫) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ এ ঘোষণা দেন।


মামলার পটভূমি ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। পরে, ২১ অক্টোবর থেকে এই আপিলের শুনানি শুরু হয়, যেখানে আবেদনকারীরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি তোলেন।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উৎপত্তি ও বিলুপ্তি

বাংলাদেশের সংবিধানে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়।
এর বৈধতা নিয়ে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম. সালিম উল্লাহসহ তিনজন একটি রিট আবেদন করেন। পরে ২০০৫ সালে তারা এ বিষয়ে আপিল দাখিল করেন।

সেই আপিলের শুনানিতে, ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ১৩তম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।
এই রায়ের পর, ১৫তম সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ৩০ জুন ২০১১, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়।


নতুন করে রিভিউ আবেদন

সরকার পরিবর্তনের পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন।
অন্য আবেদনকারীরা হলেন: তোফায়েল আহমেদএম হাফিজউদ্দিন খানজোবায়েরুল হক ভূঁইয়া, এবং জাহরা রহমান

এরপর, ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব প্রফেসর মিয়া গোলাম পারওয়ার পৃথক দুটি রিভিউ আবেদন দাখিল করেন।


রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১১ সালের রায়ের পর থেকেই দেশে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত থাকে। বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, বারবার এই ব্যবস্থার পুনর্বহাল দাবি করে আসছে, যাতে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
এবারের রিভিউ শুনানি এবং ২০ নভেম্বর ঘোষিত হতে যাওয়া রায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কাঠামো ও প্রশাসনিক ধারা নির্ধারিত হতে পারে।


#বাংলাদেশ #তত্ত্বাবধায়ক_সরকার #সুপ্রিম_কোর্ট #রিভিউ_আবেদন #বিএনপি #জামায়াত #সুজন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা জীবনে অর্থ যোগ করুক

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল নিয়ে রায় ২০ নভেম্বর: রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে

০২:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল সংক্রান্ত দুটি রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণার তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগ। আসন্ন রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও জল্পনা তুঙ্গে, কারণ এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কাঠামো ও স্বরূপ।


রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে দায়ের করা দুটি পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত – আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর ২০২৫) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ এ ঘোষণা দেন।


মামলার পটভূমি ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। পরে, ২১ অক্টোবর থেকে এই আপিলের শুনানি শুরু হয়, যেখানে আবেদনকারীরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি তোলেন।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উৎপত্তি ও বিলুপ্তি

বাংলাদেশের সংবিধানে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়।
এর বৈধতা নিয়ে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম. সালিম উল্লাহসহ তিনজন একটি রিট আবেদন করেন। পরে ২০০৫ সালে তারা এ বিষয়ে আপিল দাখিল করেন।

সেই আপিলের শুনানিতে, ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ১৩তম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।
এই রায়ের পর, ১৫তম সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ৩০ জুন ২০১১, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়।


নতুন করে রিভিউ আবেদন

সরকার পরিবর্তনের পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন।
অন্য আবেদনকারীরা হলেন: তোফায়েল আহমেদএম হাফিজউদ্দিন খানজোবায়েরুল হক ভূঁইয়া, এবং জাহরা রহমান

এরপর, ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব প্রফেসর মিয়া গোলাম পারওয়ার পৃথক দুটি রিভিউ আবেদন দাখিল করেন।


রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১১ সালের রায়ের পর থেকেই দেশে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত থাকে। বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি, বারবার এই ব্যবস্থার পুনর্বহাল দাবি করে আসছে, যাতে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
এবারের রিভিউ শুনানি এবং ২০ নভেম্বর ঘোষিত হতে যাওয়া রায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কাঠামো ও প্রশাসনিক ধারা নির্ধারিত হতে পারে।


#বাংলাদেশ #তত্ত্বাবধায়ক_সরকার #সুপ্রিম_কোর্ট #রিভিউ_আবেদন #বিএনপি #জামায়াত #সুজন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট