১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ইরান এখনো সিদ্ধান্তহীন: মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেলের বাজারে চাপ শোকাবহ স্মরণসভা: প্রয়াত আফচার উদ্দিন শেখের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ‘না হারাই জয়’—অসম যুদ্ধের ভেতরের কঠিন বাস্তবতা না হারলেও কেন হার—ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ভিন্ন বাস্তবতার বিশ্লেষণ রহস্যে ঢাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা: কৃত্রিম ছবি, ভয়েসওভারে বার্তা, বাড়ছে জল্পনা ট্রাম্পের কটূভাষা রাজনীতি: ভদ্রতার সংকট না নতুন কৌশল? ইরান যুদ্ধ: কূটনৈতিক ভুলে জটিল সংঘাত, বাড়ছে ঝুঁকি ও বৈশ্বিক চাপ শিশুর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ে নতুন কৌশল, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ ইরানের কূটনীতির নতুন মুখ: আপসহীন বার্তায় সামনে আব্বাস আরাঘচি সেবার দাম বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কমছে না—চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বারিশালে বাস চলাচল বন্ধ: সংঘর্ষের পর ১৫০ যানবাহন ভাঙচুর

শনিবার নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর রবিবার সকাল থেকে বারিশালের সঙ্গে দেশের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫০টির বেশি বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণ
মুলাদী থেকে বারিশালগামী একটি বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএম কলেজ ছাত্রের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ১০০টির বেশি বাস ভাঙচুর করেছে, টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং টিকিট কাউটার ভেঙে টাকা লুট করেছে। একটি বাসে আগুনও দেওয়া হয়, যদিও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ২০-২৫ জন আহত হয়েছে এবং টিকিট কাউন্টারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রমিকরাই বাসগুলো ভাঙচুর করেছে এবং একটি বাসে আগুন দিয়ে দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র
রবিবার সকাল টার্মিনাল পরিদর্শনে দেখা যায়, সারি সারি বাসের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের মোট ১৯০টি বাসের মধ্যে ১৫০টিই টার্মিনালে ছিল এবং সবগুলোই ভাঙচুর করা হয়েছে। বাকি ৪০টি বাস ঘটনাস্থলে ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো বাসই বড় মেরামত ছাড়া রাস্তায় নামার উপযোগী নয়।

বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধর্মঘট ডাকা না হলেও সব রুটেই তারা বাস চালানো বন্ধ রেখেছে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকেও বারিশালমুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা সরকারি কর্মচারী আহসান মোহাম্মদ বলেন, এত দূর যাত্রার জন্য বিকল্প কোনো পরিবহন নেই।

মালিকদের বক্তব্য
বারিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা কোনো ধর্মঘট ডাকিনি। কিন্তু একটি বাসও অক্ষত নেই—আমরা কি চালাব?” তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসমালিকরাও নিরাপত্তার কারণে চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার মতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান এখনো সিদ্ধান্তহীন: মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেলের বাজারে চাপ

বারিশালে বাস চলাচল বন্ধ: সংঘর্ষের পর ১৫০ যানবাহন ভাঙচুর

০৪:১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

শনিবার নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর রবিবার সকাল থেকে বারিশালের সঙ্গে দেশের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫০টির বেশি বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণ
মুলাদী থেকে বারিশালগামী একটি বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএম কলেজ ছাত্রের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ১০০টির বেশি বাস ভাঙচুর করেছে, টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং টিকিট কাউটার ভেঙে টাকা লুট করেছে। একটি বাসে আগুনও দেওয়া হয়, যদিও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ২০-২৫ জন আহত হয়েছে এবং টিকিট কাউন্টারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রমিকরাই বাসগুলো ভাঙচুর করেছে এবং একটি বাসে আগুন দিয়ে দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র
রবিবার সকাল টার্মিনাল পরিদর্শনে দেখা যায়, সারি সারি বাসের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের মোট ১৯০টি বাসের মধ্যে ১৫০টিই টার্মিনালে ছিল এবং সবগুলোই ভাঙচুর করা হয়েছে। বাকি ৪০টি বাস ঘটনাস্থলে ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো বাসই বড় মেরামত ছাড়া রাস্তায় নামার উপযোগী নয়।

বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধর্মঘট ডাকা না হলেও সব রুটেই তারা বাস চালানো বন্ধ রেখেছে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকেও বারিশালমুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা সরকারি কর্মচারী আহসান মোহাম্মদ বলেন, এত দূর যাত্রার জন্য বিকল্প কোনো পরিবহন নেই।

মালিকদের বক্তব্য
বারিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা কোনো ধর্মঘট ডাকিনি। কিন্তু একটি বাসও অক্ষত নেই—আমরা কি চালাব?” তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসমালিকরাও নিরাপত্তার কারণে চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার মতো।