১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
শান্তি নাকি কঠোর নিরাপত্তা? কলম্বিয়ার নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জ ইসরায়েল-লেবানন উত্তেজনা কমাতে নতুন মার্কিন প্রস্তাব, যুদ্ধবিরতির পথে কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্বের ইউরেনিয়াম সরবরাহ কার হাতে? পারমাণবিক শক্তির দৌড়ে বাড়ছে কয়েক দেশের প্রভাব তেলবাজারে নতুন উত্তেজনা, ইরান ইস্যুতে মার্কিন অবস্থান কঠোর হওয়ায় দাম বাড়ল অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে নতুন আশার আলো, নতুন ওষুধে দ্বিগুণ হলো রোগীদের বেঁচে থাকার সময় ওয়াকা ফ্লকা ফ্লেমের ঘরে আসছে প্রথম সন্তান, ছেলে সন্তানের অপেক্ষায় র‌্যাপ তারকা গ্রাহাম প্ল্যাটনারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ‘গসিপ’ বলে উড়িয়ে দিলেন স্ত্রী ইরানের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা ভার্জিনিয়ার ডেপুটি হত্যাকাণ্ডের পর নাটকীয় অভিযান, বন্যপ্রাণী ক্যামেরায় ধরা পড়ে অবশেষে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন লেবাননে আরও গভীরে ইসরায়েলি অভিযান, হিজবুল্লাহকে চাপে রাখতে নতুন নির্দেশ নেতানিয়াহুর

বারিশালে বাস চলাচল বন্ধ: সংঘর্ষের পর ১৫০ যানবাহন ভাঙচুর

শনিবার নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর রবিবার সকাল থেকে বারিশালের সঙ্গে দেশের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫০টির বেশি বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণ
মুলাদী থেকে বারিশালগামী একটি বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএম কলেজ ছাত্রের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ১০০টির বেশি বাস ভাঙচুর করেছে, টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং টিকিট কাউটার ভেঙে টাকা লুট করেছে। একটি বাসে আগুনও দেওয়া হয়, যদিও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ২০-২৫ জন আহত হয়েছে এবং টিকিট কাউন্টারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রমিকরাই বাসগুলো ভাঙচুর করেছে এবং একটি বাসে আগুন দিয়ে দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র
রবিবার সকাল টার্মিনাল পরিদর্শনে দেখা যায়, সারি সারি বাসের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের মোট ১৯০টি বাসের মধ্যে ১৫০টিই টার্মিনালে ছিল এবং সবগুলোই ভাঙচুর করা হয়েছে। বাকি ৪০টি বাস ঘটনাস্থলে ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো বাসই বড় মেরামত ছাড়া রাস্তায় নামার উপযোগী নয়।

বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধর্মঘট ডাকা না হলেও সব রুটেই তারা বাস চালানো বন্ধ রেখেছে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকেও বারিশালমুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা সরকারি কর্মচারী আহসান মোহাম্মদ বলেন, এত দূর যাত্রার জন্য বিকল্প কোনো পরিবহন নেই।

মালিকদের বক্তব্য
বারিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা কোনো ধর্মঘট ডাকিনি। কিন্তু একটি বাসও অক্ষত নেই—আমরা কি চালাব?” তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসমালিকরাও নিরাপত্তার কারণে চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার মতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তি নাকি কঠোর নিরাপত্তা? কলম্বিয়ার নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জ

বারিশালে বাস চলাচল বন্ধ: সংঘর্ষের পর ১৫০ যানবাহন ভাঙচুর

০৪:১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

শনিবার নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের পর রবিবার সকাল থেকে বারিশালের সঙ্গে দেশের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫০টির বেশি বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণ
মুলাদী থেকে বারিশালগামী একটি বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএম কলেজ ছাত্রের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ১০০টির বেশি বাস ভাঙচুর করেছে, টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং টিকিট কাউটার ভেঙে টাকা লুট করেছে। একটি বাসে আগুনও দেওয়া হয়, যদিও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ২০-২৫ জন আহত হয়েছে এবং টিকিট কাউন্টারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পাল্টা অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রমিকরাই বাসগুলো ভাঙচুর করেছে এবং একটি বাসে আগুন দিয়ে দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছে।

ঘটনাস্থলের চিত্র
রবিবার সকাল টার্মিনাল পরিদর্শনে দেখা যায়, সারি সারি বাসের কাঁচ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের মোট ১৯০টি বাসের মধ্যে ১৫০টিই টার্মিনালে ছিল এবং সবগুলোই ভাঙচুর করা হয়েছে। বাকি ৪০টি বাস ঘটনাস্থলে ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো বাসই বড় মেরামত ছাড়া রাস্তায় নামার উপযোগী নয়।

বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধর্মঘট ডাকা না হলেও সব রুটেই তারা বাস চালানো বন্ধ রেখেছে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকেও বারিশালমুখী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য টার্মিনালে আসা সরকারি কর্মচারী আহসান মোহাম্মদ বলেন, এত দূর যাত্রার জন্য বিকল্প কোনো পরিবহন নেই।

মালিকদের বক্তব্য
বারিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা কোনো ধর্মঘট ডাকিনি। কিন্তু একটি বাসও অক্ষত নেই—আমরা কি চালাব?” তিনি জানান, দূরপাল্লার বাসমালিকরাও নিরাপত্তার কারণে চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার মতো।