০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
অস্কারের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ল ‘সিনার্স’, ১৬ মনোনয়নে শীর্ষে ভ্যাম্পায়ার থ্রিলার নার্সদের পাশে নেই ইউনিয়ন, পরিচয় রাজনীতির কাছে হার মানল কর্মজীবী নারীর মর্যাদা ওডিশায় যাজকের ওপর হামলা ঘিরে উত্তাল রাজনীতি, ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের রব রেইনার: শোবিজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, বিশ্বকূটনীতির রাশ তাঁর হাতেই আমেরিকার ২৫০ বছরের ব্যবসায়িক শক্তি যেভাবে বিশ্ব সংস্কৃতি গড়েছে মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারপ্রধান ও প্রেস সচিবের বক্তব্যে সন্দেহ অনিবার্য: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বাগেরহাটে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার

চীনা অনলাইন সাহিত্য, গেম, অ্যানিমেশন ও পপ কালচারের স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তার কীভাবে দেশের সফট পাওয়ারকে বদলে দিচ্ছে

একটি ছোট মার্কিন শহরে থাকেন ৪৭ বছর বয়সী ন্যাটালি হাবল—সাবেক সেনাসদস্য। সন্ধ্যা হলেই তিনি ডুবে থাকেন চীনা ফ্যান্টাসি গল্পের জাদুকরী জগতে। কখনো চীনে যাননি, তবু চীনা মিথ, কিংবদন্তি ও চরিত্রগুলোর বর্ণনা দিতে তিনি অনন্য।

হাবল মনে করেন, চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছিল এক ধরনের স্বাভাবিক যাত্রা। তিনি বছরে দেড় শতাধিক বই পড়েন এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সুপারিশ গ্রহণ করেন। তাঁর প্রিয় উপন্যাস মো শিয়াং তং শিউ-এর ‘গ্র্যান্ডমাস্টার অব ডেমনিক কাল্টিভেশন’—একটি সমকামী রোমান্সভিত্তিক ফ্যান্টাসি। হাবলের মতে, গল্পের সকল সূত্র শেষে যে নিখুঁতভাবে মিলেছে—এটাই সবচেয়ে আনন্দদায়ক।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর দুই দশক জাতীয় কবরস্থানে কাজ করা হাবল এখন চীনা প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র ‘গুচিন’ বাজাতে শিখছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘রেডনোট’-এর শিক্ষকদের কাছেই তিনি পাঠ নেন।

হাবলসহ অসংখ্য মানুষের কাছে ইন্টারনেট-ই এখন চীনের দূরের সংস্কৃতি দেখার জানালা।


বিদেশে চীনা সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ভিডিও গেম ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’ থেকে শুরু করে ওয়েব নভেল, কমিক, ফ্যান্টাসি অ্যানিমেশন—চীনের তৃণমূল সংস্কৃতির প্রভাব এখন বৈশ্বিক। অ্যানিমেশন ‘নে ঝা ২’ এবং সফল উপন্যাসগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লিউৎসিশিনের লেখাও বিশ্বজুড়ে পুরস্কার জিতেছে।

এই সাফল্যগুলো এসেছে সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে—রাষ্ট্রীয় প্রচারণা বা সফট পাওয়ার কর্মসূচির চেয়ে বহুগুণ কার্যকর হয়ে।

জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জেসিকা ইম্বাখ বলেন, চীনের আন্তর্জাতিক ইমেজ কিছুটা উন্নত হলেও এর পেছনে সরকারি প্রচারণার অবদান খুব কম। তাঁর মতে, এর আসল চালিকা শক্তি চীনের বৈচিত্র্যময়, প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক শিল্প—যেখানে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের তৃণমূল সংস্কৃতি—বিশেষত অনলাইন সাহিত্য—একটি প্রাণবন্ত ও বহুস্তরীয় শিল্পধারা। এগুলোর মাধ্যমে নানা ধরনের ‘চীন’কে দেখা যায়, যা সরকারি ভাষ্য থেকে আলাদা।

China's soft power paradox: Censorship vs cultural exports

অনলাইন সাহিত্য: ২০ কোটি আন্তর্জাতিক পাঠক

পিপলস ডেইলির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা অনলাইন সাহিত্য এখন বিশ্বজুড়ে ২০ কোটিরও বেশি পাঠক পেয়েছে। এর বেশিরভাগ এশিয়ার হলেও, উত্তর আমেরিকায় ৩০ শতাংশেরও বেশি এবং ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় দ্রুত বাড়ছে।

উত্তর আমেরিকার পাঠকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ‘সিয়ানশিয়া’—অমর বীর, পুরাণ, প্রাচীন ধর্মীয় ধারণা ও মার্শাল আর্ট মিলিয়ে তৈরি ফ্যান্টাসি গল্প।

নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং শৌরেন বলেন, চীনা ফ্যান্টাসি সাহিত্যে ঐতিহ্য, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের কল্পনা মিলেমিশে এক বৈশ্বিক আকর্ষণ তৈরি করে। তাঁর মতে, চীনা সায়েন্স ফিকশনের উত্থানও দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।


রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা বনাম তৃণমূল সৃজনশীলতা

২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘চীনের গল্প ভালোভাবে বলার’ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অনেকগুলোই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচিত হয়েছে।

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মতো প্রকল্পগুলোও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বহু দেশে বন্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে কোভিড-১৯–পরবর্তী সময়ে জরিপে দেখা যায়, চীন সম্পর্কে বৈশ্বিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও তা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের প্রভাবে।

International Museum Day: how China is aiming for cultural superpower  status | South China Morning Post

সৃজনশীল শিল্পে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

পুরস্কারপ্রাপ্ত সায়েন্স ফিকশন লেখক চেন ছিউফান মনে করেন, সৃজনশীলতায় সরকার ভূমিকা রাখতে পারে—কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাস্তবে যেসব কাজ সরকারি অনুমোদন পায় সেগুলোকেই বিদেশে বেশি প্রচার দেওয়া হয়, আর সেগুলো সবসময় আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

চেনের মতে, স্বতঃস্ফূর্ত তৃণমূল সংস্কৃতিই চীনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রতিনিধি। সরকার চাইলে তহবিল, অনুবাদসহ সহায়তা দিতে পারে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য থাকা জরুরি।


কেন তৃণমূল সংস্কৃতি বৈশ্বিকভাবে সফল?

• সৃজনশীলতার স্বাধীনতা
• প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
• অনুবাদ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার
• আন্তর্জাতিক পাঠকের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিলমিশ
• বাস্তব জীবনের সাধারণ মানুষের গল্প

এই প্রাণশক্তি ও বৈচিত্র্যই ন্যাটালি হাবলের মতো বহু বিদেশিকে চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে রেখেছে।

চীনে যেতে পারবেন কি না—জিজ্ঞেস করলে হাবল বলেন, দীর্ঘ ফ্লাইটে ভ্রমণ তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু গল্প, সংগীত ও গেমের মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতি উপভোগ করতেই তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, ‘‘ধারাবাহিক নাটক বা বইয়ের ভেতরকার দৃশ্যগুলো কল্পনাতেই আমার কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে।’’


#tags: চীন_সংস্কৃতি তৃণমূল_সংস্কৃতি অনলাইন_সাহিত্য চীনা_ফ্যান্টাসি সফট_পাওয়ার বৈশ্বিক_সংস্কৃতি সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্কারের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ল ‘সিনার্স’, ১৬ মনোনয়নে শীর্ষে ভ্যাম্পায়ার থ্রিলার

চীনা অনলাইন সাহিত্য, গেম, অ্যানিমেশন ও পপ কালচারের স্বতঃস্ফূর্ত বিস্তার কীভাবে দেশের সফট পাওয়ারকে বদলে দিচ্ছে

১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

একটি ছোট মার্কিন শহরে থাকেন ৪৭ বছর বয়সী ন্যাটালি হাবল—সাবেক সেনাসদস্য। সন্ধ্যা হলেই তিনি ডুবে থাকেন চীনা ফ্যান্টাসি গল্পের জাদুকরী জগতে। কখনো চীনে যাননি, তবু চীনা মিথ, কিংবদন্তি ও চরিত্রগুলোর বর্ণনা দিতে তিনি অনন্য।

হাবল মনে করেন, চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছিল এক ধরনের স্বাভাবিক যাত্রা। তিনি বছরে দেড় শতাধিক বই পড়েন এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সুপারিশ গ্রহণ করেন। তাঁর প্রিয় উপন্যাস মো শিয়াং তং শিউ-এর ‘গ্র্যান্ডমাস্টার অব ডেমনিক কাল্টিভেশন’—একটি সমকামী রোমান্সভিত্তিক ফ্যান্টাসি। হাবলের মতে, গল্পের সকল সূত্র শেষে যে নিখুঁতভাবে মিলেছে—এটাই সবচেয়ে আনন্দদায়ক।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর দুই দশক জাতীয় কবরস্থানে কাজ করা হাবল এখন চীনা প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র ‘গুচিন’ বাজাতে শিখছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘রেডনোট’-এর শিক্ষকদের কাছেই তিনি পাঠ নেন।

হাবলসহ অসংখ্য মানুষের কাছে ইন্টারনেট-ই এখন চীনের দূরের সংস্কৃতি দেখার জানালা।


বিদেশে চীনা সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ভিডিও গেম ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’ থেকে শুরু করে ওয়েব নভেল, কমিক, ফ্যান্টাসি অ্যানিমেশন—চীনের তৃণমূল সংস্কৃতির প্রভাব এখন বৈশ্বিক। অ্যানিমেশন ‘নে ঝা ২’ এবং সফল উপন্যাসগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লিউৎসিশিনের লেখাও বিশ্বজুড়ে পুরস্কার জিতেছে।

এই সাফল্যগুলো এসেছে সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে—রাষ্ট্রীয় প্রচারণা বা সফট পাওয়ার কর্মসূচির চেয়ে বহুগুণ কার্যকর হয়ে।

জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জেসিকা ইম্বাখ বলেন, চীনের আন্তর্জাতিক ইমেজ কিছুটা উন্নত হলেও এর পেছনে সরকারি প্রচারণার অবদান খুব কম। তাঁর মতে, এর আসল চালিকা শক্তি চীনের বৈচিত্র্যময়, প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক শিল্প—যেখানে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের তৃণমূল সংস্কৃতি—বিশেষত অনলাইন সাহিত্য—একটি প্রাণবন্ত ও বহুস্তরীয় শিল্পধারা। এগুলোর মাধ্যমে নানা ধরনের ‘চীন’কে দেখা যায়, যা সরকারি ভাষ্য থেকে আলাদা।

China's soft power paradox: Censorship vs cultural exports

অনলাইন সাহিত্য: ২০ কোটি আন্তর্জাতিক পাঠক

পিপলস ডেইলির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা অনলাইন সাহিত্য এখন বিশ্বজুড়ে ২০ কোটিরও বেশি পাঠক পেয়েছে। এর বেশিরভাগ এশিয়ার হলেও, উত্তর আমেরিকায় ৩০ শতাংশেরও বেশি এবং ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় দ্রুত বাড়ছে।

উত্তর আমেরিকার পাঠকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ‘সিয়ানশিয়া’—অমর বীর, পুরাণ, প্রাচীন ধর্মীয় ধারণা ও মার্শাল আর্ট মিলিয়ে তৈরি ফ্যান্টাসি গল্প।

নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং শৌরেন বলেন, চীনা ফ্যান্টাসি সাহিত্যে ঐতিহ্য, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের কল্পনা মিলেমিশে এক বৈশ্বিক আকর্ষণ তৈরি করে। তাঁর মতে, চীনা সায়েন্স ফিকশনের উত্থানও দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।


রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা বনাম তৃণমূল সৃজনশীলতা

২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘চীনের গল্প ভালোভাবে বলার’ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অনেকগুলোই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচিত হয়েছে।

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মতো প্রকল্পগুলোও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বহু দেশে বন্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে কোভিড-১৯–পরবর্তী সময়ে জরিপে দেখা যায়, চীন সম্পর্কে বৈশ্বিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও তা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের প্রভাবে।

International Museum Day: how China is aiming for cultural superpower  status | South China Morning Post

সৃজনশীল শিল্পে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

পুরস্কারপ্রাপ্ত সায়েন্স ফিকশন লেখক চেন ছিউফান মনে করেন, সৃজনশীলতায় সরকার ভূমিকা রাখতে পারে—কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাস্তবে যেসব কাজ সরকারি অনুমোদন পায় সেগুলোকেই বিদেশে বেশি প্রচার দেওয়া হয়, আর সেগুলো সবসময় আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

চেনের মতে, স্বতঃস্ফূর্ত তৃণমূল সংস্কৃতিই চীনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রতিনিধি। সরকার চাইলে তহবিল, অনুবাদসহ সহায়তা দিতে পারে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য থাকা জরুরি।


কেন তৃণমূল সংস্কৃতি বৈশ্বিকভাবে সফল?

• সৃজনশীলতার স্বাধীনতা
• প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
• অনুবাদ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার
• আন্তর্জাতিক পাঠকের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিলমিশ
• বাস্তব জীবনের সাধারণ মানুষের গল্প

এই প্রাণশক্তি ও বৈচিত্র্যই ন্যাটালি হাবলের মতো বহু বিদেশিকে চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে রেখেছে।

চীনে যেতে পারবেন কি না—জিজ্ঞেস করলে হাবল বলেন, দীর্ঘ ফ্লাইটে ভ্রমণ তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু গল্প, সংগীত ও গেমের মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতি উপভোগ করতেই তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, ‘‘ধারাবাহিক নাটক বা বইয়ের ভেতরকার দৃশ্যগুলো কল্পনাতেই আমার কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে।’’


#tags: চীন_সংস্কৃতি তৃণমূল_সংস্কৃতি অনলাইন_সাহিত্য চীনা_ফ্যান্টাসি সফট_পাওয়ার বৈশ্বিক_সংস্কৃতি সারাক্ষণ_রিপোর্ট