০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে নীরব বিপ্লব: ঘরোয়া অ্যাপে প্রেমের নতুন ভাষা ডেনমার্কে চিঠির শেষ যাত্রা: ৪০১ বছরের ঐতিহ্যে ইতি এক দশকের ছিনতাই ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই বিরল রোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওষুধ: ব্রিটেনের সাহসী সিদ্ধান্তে খুলছে নতুন চিকিৎসার দিগন্ত জাপানে আগাম ভোটের বড় বাজি, তাকাইচির ক্ষমতা পরীক্ষার দিনক্ষণ সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন

অ্যামনেস্টির নিন্দা: হাসিনার রায় ও ট্রায়ালের গতি-প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ রায়কে কেন্দ্র করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কঠোর উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি, আর অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


অ্যামনেস্টির অবস্থান: পক্ষপাতমুক্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার দাবি

কালামার্ড জানান, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি বিচারব্যবস্থা—যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সন্দেহের ঊর্ধ্বে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় নেয় না। অ্যামনেস্টি বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের কঠোর বিরোধিতা করে এবং এর বিলুপ্তির দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে।

তার ভাষায়,
“শুধুমাত্র পক্ষপাতহীন ও স্বচ্ছ বিচারই সত্য, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।”


অ্যামনেস্টির কঠোর প্রতিক্রিয়া

সোমবার ঘোষিত রায়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রতিক্রিয়ায় কালামার্ড বলেন:

“এ বিচার ন্যায়সঙ্গত নয়। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রয়োজন, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি নিষ্ঠুর, অপমানজনক এবং অমানবিক শাস্তি—যা কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই নয়।”


২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট: সহিংসতার ব্যাপক বিস্তার

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত হন। কালামার্ডের মতে, এসব গুরুতর ঘটনার জন্য দায়ীদের স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।


ট্রায়ালের গতি ও কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

অ্যামনেস্টির পর্যবেক্ষণ—

• আদালত দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার অভাব ও অন্যায্য কার্যক্রমের অভিযোগে সমালোচিত।
• এত বৃহৎ ও জটিল মামলায় দ্রুত তদন্ত, বিচার ও রায় ন্যায়বিচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

কালামার্ড আরও যোগ করেন:

“যদিও শেখ হাসিনার পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন, তবে প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ সময় দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ প্রমাণ নিয়ে জেরা করার সুযোগও মিলেনি বলে জানা গেছে।”


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের দাবি

অ্যামনেস্টি জোর দিয়ে বলছে—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া অপরিহার্য।


মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অ্যামনেস্টির অবস্থান

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব ক্ষেত্রেই—বিনা ব্যতিক্রমে—মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।

• অপরাধের প্রকৃতি যেমনই হোক,
• অভিযুক্ত দোষী বা নির্দোষ যাই হোন না কেন,
• রায় যেভাবেই কার্যকর হোক না কেন।

তাদের মতে, মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত রূপ এবং কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই।


#tags: #AmnestyInternational #BangladeshTribunal #HumanRights #SheikhHasina #DeathPenalty #JusticeSystem #InternationalStandards

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বাভাবিক ল্যাব রিপোর্ট দেখেই কি ভয় পাওয়া জরুরি

অ্যামনেস্টির নিন্দা: হাসিনার রায় ও ট্রায়ালের গতি-প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

১১:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ রায়কে কেন্দ্র করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কঠোর উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি, আর অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


অ্যামনেস্টির অবস্থান: পক্ষপাতমুক্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার দাবি

কালামার্ড জানান, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি বিচারব্যবস্থা—যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সন্দেহের ঊর্ধ্বে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় নেয় না। অ্যামনেস্টি বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের কঠোর বিরোধিতা করে এবং এর বিলুপ্তির দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে।

তার ভাষায়,
“শুধুমাত্র পক্ষপাতহীন ও স্বচ্ছ বিচারই সত্য, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।”


অ্যামনেস্টির কঠোর প্রতিক্রিয়া

সোমবার ঘোষিত রায়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রতিক্রিয়ায় কালামার্ড বলেন:

“এ বিচার ন্যায়সঙ্গত নয়। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রয়োজন, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি নিষ্ঠুর, অপমানজনক এবং অমানবিক শাস্তি—যা কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই নয়।”


২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট: সহিংসতার ব্যাপক বিস্তার

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং হাজারো মানুষ আহত হন। কালামার্ডের মতে, এসব গুরুতর ঘটনার জন্য দায়ীদের স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।


ট্রায়ালের গতি ও কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

অ্যামনেস্টির পর্যবেক্ষণ—

• আদালত দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার অভাব ও অন্যায্য কার্যক্রমের অভিযোগে সমালোচিত।
• এত বৃহৎ ও জটিল মামলায় দ্রুত তদন্ত, বিচার ও রায় ন্যায়বিচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

কালামার্ড আরও যোগ করেন:

“যদিও শেখ হাসিনার পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন, তবে প্রতিরক্ষার জন্য যথাযথ সময় দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ প্রমাণ নিয়ে জেরা করার সুযোগও মিলেনি বলে জানা গেছে।”


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের দাবি

অ্যামনেস্টি জোর দিয়ে বলছে—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া অপরিহার্য।


মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অ্যামনেস্টির অবস্থান

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব ক্ষেত্রেই—বিনা ব্যতিক্রমে—মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।

• অপরাধের প্রকৃতি যেমনই হোক,
• অভিযুক্ত দোষী বা নির্দোষ যাই হোন না কেন,
• রায় যেভাবেই কার্যকর হোক না কেন।

তাদের মতে, মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত রূপ এবং কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই।


#tags: #AmnestyInternational #BangladeshTribunal #HumanRights #SheikhHasina #DeathPenalty #JusticeSystem #InternationalStandards