০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন বিএনপির মিডিয়া সেলের চেয়ে জামায়াতের বট আইডি কি বেশি সক্রিয় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী সংগঠক জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে কার্যকর পদক্ষেপে মনোযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান বেইজিংয়ের ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ

প্রকাশ্যে আসছে গোপন নথি

জেফরি এপস্টিনের অপরাধ ও তার ভুক্তভোগীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। বহু বছর গোপনে রাখা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন ভুক্তভোগী, অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক চাপ—যা অবশেষে আইনপ্রণেতাদের বাধ্য করেছে নথি প্রকাশে সম্মতি দিতে।

এপস্টিন-বিরোধী সচেতনতার আলোকযাত্রা

১৮ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে এপস্টিনের অপরাধে বেঁচে থাকা নারীদের সম্মানে একটি মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন অ্যানি ফার্মার—যিনি নিজেও এপস্টিনের যৌন নির্যাতনের শিকার। তিনি এই অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন আরেক ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রেকে, যিনি দীর্ঘদিন যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই বছরের এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন। জিউফ্রেকে ‘অবিশ্বাস্য সাহসী’ হিসেবে উল্লেখ করে ফার্মার বলেন, তার গল্প অসংখ্য ভুক্তভোগীর জন্য অনুপ্রেরণা।

কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ভোট

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস—হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট—এপস্টিন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দেয়। এই নথিগুলোতে এপস্টিনের অপরাধচক্র, যোগাযোগ, ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে বহু অজানা তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বহু বছর ধরে যেসব দলিল জনসম্মুখে আনার দাবি উঠছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

ট্রাম্পের অনুমোদন: অবস্থান বদলের ইঙ্গিত

আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিলটিতে সই করেন—যদিও শুরুর দিকে তিনি নথি প্রকাশ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তার স্বাক্ষরের ফলে এখন বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনমত ও ভুক্তভোগীদের চাপ এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন আশার আলো

এই নথি প্রকাশের ফলে ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, বহু বছর ধরে দমন করা সত্য অবশেষে সামনে আসবে। অ্যানি ফার্মার অনুষ্ঠানে বলেন, “এই নথিগুলো শুধু কাগজ নয়—এগুলো আমাদের সত্য, আমাদের লড়াই, আমাদের ন্যায়বিচারের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, ভার্জিনিয়া জিউফ্রের স্মৃতি তাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

এপস্টিন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অন্ধকার অধ্যায়। নথি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের বহু দিক প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসতে চলেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি তাদের ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

#EpsteinCase #VirginiaGiuffre #AnnieFarmer #USPolitics #WashingtonDC #JusticeForSurvivors

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায়

প্রকাশ্যে আসছে গোপন নথি

১১:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

জেফরি এপস্টিনের অপরাধ ও তার ভুক্তভোগীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। বহু বছর গোপনে রাখা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছেন ভুক্তভোগী, অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক চাপ—যা অবশেষে আইনপ্রণেতাদের বাধ্য করেছে নথি প্রকাশে সম্মতি দিতে।

এপস্টিন-বিরোধী সচেতনতার আলোকযাত্রা

১৮ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে এপস্টিনের অপরাধে বেঁচে থাকা নারীদের সম্মানে একটি মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন অ্যানি ফার্মার—যিনি নিজেও এপস্টিনের যৌন নির্যাতনের শিকার। তিনি এই অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন আরেক ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রেকে, যিনি দীর্ঘদিন যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই বছরের এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন। জিউফ্রেকে ‘অবিশ্বাস্য সাহসী’ হিসেবে উল্লেখ করে ফার্মার বলেন, তার গল্প অসংখ্য ভুক্তভোগীর জন্য অনুপ্রেরণা।

কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ভোট

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস—হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট—এপস্টিন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দেয়। এই নথিগুলোতে এপস্টিনের অপরাধচক্র, যোগাযোগ, ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে বহু অজানা তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বহু বছর ধরে যেসব দলিল জনসম্মুখে আনার দাবি উঠছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

ট্রাম্পের অনুমোদন: অবস্থান বদলের ইঙ্গিত

আইনপ্রণেতাদের সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিলটিতে সই করেন—যদিও শুরুর দিকে তিনি নথি প্রকাশ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তার স্বাক্ষরের ফলে এখন বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনমত ও ভুক্তভোগীদের চাপ এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন আশার আলো

এই নথি প্রকাশের ফলে ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, বহু বছর ধরে দমন করা সত্য অবশেষে সামনে আসবে। অ্যানি ফার্মার অনুষ্ঠানে বলেন, “এই নথিগুলো শুধু কাগজ নয়—এগুলো আমাদের সত্য, আমাদের লড়াই, আমাদের ন্যায়বিচারের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, ভার্জিনিয়া জিউফ্রের স্মৃতি তাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

এপস্টিন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এক অন্ধকার অধ্যায়। নথি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের বহু দিক প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসতে চলেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি তাদের ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

#EpsteinCase #VirginiaGiuffre #AnnieFarmer #USPolitics #WashingtonDC #JusticeForSurvivors