সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত বট আইডির প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই ও বিএনপি নেতা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ একটি পর্যবেক্ষণ শেয়ার করার পর বিষয়টি রাজনীতি ও অনলাইন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
ফেসবুক পোস্টে বিতর্কের সূত্রপাত
বুধবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ যে পোস্টটি শেয়ার করেন, সেটি লিখেছেন আতিক ইউ এ খান। ওই লেখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়।

তারেক রহমান সংক্রান্ত খবরে ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া
আতিক ইউ এ খান লেখেন, গভীর রাতে ফেসবুকে ঢুকে তিনি লক্ষ্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কর্মসূচি ও বক্তব্যসংক্রান্ত খবরে অস্বাভাবিক হারে ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড ক্যাম্পেইন নিয়ে প্রকাশিত একটি খবরে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে প্রায় সত্তর শতাংশই ছিল ‘হাহা’। একইভাবে কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণার খবরে প্রায় চল্লিশ হাজার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পঁয়ষট্টি শতাংশ ছিল ‘হাহা’।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যেও একই চিত্র
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের একটি বক্তব্যসংক্রান্ত সংবাদেও অধিকাংশ প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যঙ্গাত্মক ‘হাহা’। এতে অনলাইনে বিএনপির প্রতি বিরূপ মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিগ্রি বিতর্ক ও যাচাই
আতিক ইউ এ খান জানান, বিএনপি সমর্থকদের অনেক পোস্টে ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি বলেন, ডিগ্রিটি ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইনফার্টিলিটি বিষয়ে অর্জিত এবং তা ভুয়া নয়। তবে বিদেশি হওয়ায় বাংলাদেশে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নাও হতে পারে।

মিডিয়া সেল নাকি বট আইডির প্রভাব
এই সব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আতিক ইউ এ খান প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির মিডিয়া সেল কি আদৌ দুর্বল, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে জামায়াতের লাখ লাখ বট আইডি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অনলাইন জরিপ ও মাঠের বাস্তবতা
তিনি উল্লেখ করেন, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জরিপে বিএনপি পিছিয়ে থাকলেও একটি জাতীয় দৈনিকের জরিপে দলটি প্রায় সত্তর শতাংশ সমর্থন পেয়েছিল। তার মতে, গ্রাম ও মফস্বলে ধানের শীষ প্রতীকের জনপ্রিয়তা এখনো উল্লেখযোগ্য থাকার কথা।
শেষ মন্তব্য
সবশেষে আতিক ইউ এ খান ধারণা দেন, বিএনপি সমর্থকেরা তুলনামূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সক্রিয় বলেই অনলাইনে এমন প্রতিক্রিয়ার আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা বাস্তব চিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















