১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
এক দশকের অপহরণ আকাশপথে সন্ত্রাস থেকে আদর্শিক সহিংসতার উত্তরাধিকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টালমাটাল মুহূর্ত পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে মাদিসন কিস ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন বিএনপির মিডিয়া সেলের চেয়ে জামায়াতের বট আইডি কি বেশি সক্রিয় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী সংগঠক জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায়

আগামী মাসের নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসের সেরা ফল করার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায়, দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আসে শেখ হাসিনার শাসনামলে। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এই কঠোর প্রধানমন্ত্রী শাসনামলেই দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছে এবং নারীদের ‘সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সহায়তা’র যুক্তিতে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবি তুলেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তাদের প্রকাশ্য ভাবমূর্তি নরম করার চেষ্টা করছে এবং সমর্থনভিত্তি বাড়াতে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে আনছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকরা পুনরুত্থানশীল এই ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বন্ধ দরজার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামমুখী হয়ে উঠেছে’ এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ফল’ করতে পারে। এই মন্তব্যগুলোর অডিও রেকর্ডিং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে এসেছে।

কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, দলটির প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিজেদের অনুষ্ঠানে আনার ব্যাপারে তারা আগ্রহী কি না—‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তারা কি আপনার অনুষ্ঠানে আসবে?’

মওদূদীর ইসলাম' বলে স্বতন্ত্র কোন ইসলাম নেই: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | খবর | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি। তিনি জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশে ইসলামী আইন চাপিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা খাটো করে দেখান। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের হাতে এমন প্রভাব আছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে।’ দলটির নেতারা উদ্বেগজনক কিছু করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ’ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত, অফ-দ্য-রেকর্ড বৈঠক’। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ উঠেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’

এর আগে প্রকাশ না পাওয়া এসব মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেখানে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। শেখ হাসিনাবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের দীর্ঘ অস্থিরতার পর একটি নির্ণায়ক গণতান্ত্রিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ‘আরও একটি ফাটল’ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতোমধ্যে তলানিতে—পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত, রুশ তেল কেনা, অসম্পূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি এবং বহু ভারতীয় পণ্যের ওপর কঠোর মার্কিন শুল্ক নিয়ে মতবিরোধের কারণে।

কুগেলম্যান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয় জামায়াত।’ ভারতের দৃষ্টিতে দলটি পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি।

সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা - BBC News বাংলা

তবে মনিকা শাই তার বিবৃতিতে লেখেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রভাব’ ফেলবে না। তার মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ‘নিজ নিজ ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে’।

মূলধারায় জামায়াত

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এরপর থেকে দেশটি সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন এবং শক্তভাবে গাঁথা রাজনৈতিক দলগুলোর—বিশেষ করে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—অস্থির শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে।

চীন ও ভারতের মতো বড় আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষাও বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় আড়াই হাজার মাইল দীর্ঘ।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন প্রায় তলানিতে। শেখ হাসিনা ভারতের সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন। নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ, তিনি অন্তত ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীর হত্যার তত্ত্বাবধান করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণ করেনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে 'প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও হুকুমদাতা' হিসেবে অভিযোগ ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার - BBC News বাংলা

ডিসেম্বরের বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘হাসিনার দণ্ডাদেশ রাজনৈতিকভাবে চমৎকার।’ তিনি স্বীকার করেন, ট্রাইব্যুনাল ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ন্যায্য’ ছিল না, কিন্তু যোগ করেন, ‘তিনি দোষী, এবং তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যেই তা প্রমাণ করেছে—যা ছিল প্রশংসনীয়।’

সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার ঢেউ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপের পর ভারত সেখানে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লিতে ডানপন্থী হিন্দু বিক্ষোভকারীরা ইউনূসের ছবি পোড়ালে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে বাংলাদেশও তাদের দূতাবাসে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকার শৃঙ্খলা ফেরানো ও রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের এটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সময়মতো এবং সুষ্ঠু হবে। ‘যে যাই বলুক, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এক দিনও আগে নয়, এক দিনও পরে নয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান নিতে পারে। শেখ হাসিনার আমলে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ থাকার পর প্রচারণাকালে দলটি গতি পেয়েছে এবং এখন ‘মূলধারায়’ রয়েছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলাদেশ রাজনীতির বিশেষজ্ঞ মুবাশার হাসান।

জামায়াতে ইসলামির মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি ‘দুর্নীতিবিরোধিতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন’-এর অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব এখনো ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ রয়েছে এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটি জয়ী হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান—যিনি দীর্ঘ নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন—সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বিএনপির কৌশল সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন জামায়াত ভালো ফল করবে, তবে সম্ভাব্য জোট সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।

বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করা হয়েছে: জামায়াত আমীর

তবে জামায়াতে ইসলামির আমির বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে রয়টার্সকে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দলগুলো এক হলে আমরা একসঙ্গেই সরকার চালাব।’ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত ছিল জুনিয়র অংশীদার।

২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে এবং ঢাকায় ‘একাধিক’ বৈঠক হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ রহমান। শুক্রবার দলটির নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়াশিংটনের বৈঠকগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ঢাকায় জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম’ হিসেবে বর্ণনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

গত আগস্টে ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ঢাকায় জামায়াতের আমিরের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ওপেন হার্ট সার্জারি থেকে সেরে উঠছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

ঢাকায় দূতাবাসের ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জামায়াতে ইসলামির পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে আমরা ফোন তুলে বলতে পারি—তোমরা যেটা বলেছ, তার পরিণতি হবে এমন।’

কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় এসে ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য নীতি নিলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহৎ পোশাকশিল্পকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

The U.S. Department of State's Headquarters in Washington, D.C. - United States Department of State

তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার ২০ শতাংশ রপ্তানি—সামাজিকভাবে উদার পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যদি বাংলাদেশ বলে নারীরা শুধু পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে, বা তাদের বের করে দেয়, কিংবা শরিয়া চাপিয়ে দেয়—তাহলে আর কোনো অর্ডার থাকবে না। আর অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’

তবে তিনি যোগ করেন, ‘জামায়াত এটা করবে না। এখানে খুব বেশি শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ আছে। আমরা তাদের কাছে খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেব, কী হলে কী হবে।’

তবুও নয়াদিল্লির উদ্বেগ কমবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। ভারত ২০১৯ সালে ভারতশাসিত কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামির শাখাকে ‘অবৈধ সংগঠন’ ঘোষণা করে এবং ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করে।

কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যদি ‘আরও ভালো অবস্থায়’ থাকত, তবে নির্বাচনের আগে জামায়াত নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিত। কিন্তু এখন ‘অংশীদারিত্ব পুরোপুরি এলোমেলো’, তাই মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতের উদ্বেগের প্রতি অতটা সংবেদনশীল বোধ করছেন না।

এই প্রতিবেদনে সুপ্রিয়া কুমার সহায়তা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক দশকের অপহরণ আকাশপথে সন্ত্রাস থেকে আদর্শিক সহিংসতার উত্তরাধিকার

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায়

০৯:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী মাসের নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসের সেরা ফল করার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায়, দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আসে শেখ হাসিনার শাসনামলে। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এই কঠোর প্রধানমন্ত্রী শাসনামলেই দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছে এবং নারীদের ‘সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সহায়তা’র যুক্তিতে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবি তুলেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি তাদের প্রকাশ্য ভাবমূর্তি নরম করার চেষ্টা করছে এবং সমর্থনভিত্তি বাড়াতে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে আনছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকরা পুনরুত্থানশীল এই ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বন্ধ দরজার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামমুখী হয়ে উঠেছে’ এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ফল’ করতে পারে। এই মন্তব্যগুলোর অডিও রেকর্ডিং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে এসেছে।

কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, দলটির প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিজেদের অনুষ্ঠানে আনার ব্যাপারে তারা আগ্রহী কি না—‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তারা কি আপনার অনুষ্ঠানে আসবে?’

মওদূদীর ইসলাম' বলে স্বতন্ত্র কোন ইসলাম নেই: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | খবর | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি। তিনি জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশে ইসলামী আইন চাপিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা খাটো করে দেখান। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের হাতে এমন প্রভাব আছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে।’ দলটির নেতারা উদ্বেগজনক কিছু করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ’ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের ওই আলোচনা ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত, অফ-দ্য-রেকর্ড বৈঠক’। তিনি জানান, সেখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ উঠেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচন করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গেই কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’

এর আগে প্রকাশ না পাওয়া এসব মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেখানে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। শেখ হাসিনাবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের দীর্ঘ অস্থিরতার পর একটি নির্ণায়ক গণতান্ত্রিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ‘আরও একটি ফাটল’ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতোমধ্যে তলানিতে—পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত, রুশ তেল কেনা, অসম্পূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি এবং বহু ভারতীয় পণ্যের ওপর কঠোর মার্কিন শুল্ক নিয়ে মতবিরোধের কারণে।

কুগেলম্যান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয় জামায়াত।’ ভারতের দৃষ্টিতে দলটি পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি।

সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা - BBC News বাংলা

তবে মনিকা শাই তার বিবৃতিতে লেখেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রভাব’ ফেলবে না। তার মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ‘নিজ নিজ ভিত্তিতেই দাঁড়িয়ে আছে’।

মূলধারায় জামায়াত

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এরপর থেকে দেশটি সামরিক অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন এবং শক্তভাবে গাঁথা রাজনৈতিক দলগুলোর—বিশেষ করে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—অস্থির শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে।

চীন ও ভারতের মতো বড় আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষাও বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় আড়াই হাজার মাইল দীর্ঘ।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন প্রায় তলানিতে। শেখ হাসিনা ভারতের সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন। নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ, তিনি অন্তত ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীর হত্যার তত্ত্বাবধান করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণ করেনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে 'প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও হুকুমদাতা' হিসেবে অভিযোগ ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার - BBC News বাংলা

ডিসেম্বরের বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘হাসিনার দণ্ডাদেশ রাজনৈতিকভাবে চমৎকার।’ তিনি স্বীকার করেন, ট্রাইব্যুনাল ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ন্যায্য’ ছিল না, কিন্তু যোগ করেন, ‘তিনি দোষী, এবং তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যেই তা প্রমাণ করেছে—যা ছিল প্রশংসনীয়।’

সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার ঢেউ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপের পর ভারত সেখানে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লিতে ডানপন্থী হিন্দু বিক্ষোভকারীরা ইউনূসের ছবি পোড়ালে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে বাংলাদেশও তাদের দূতাবাসে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকার শৃঙ্খলা ফেরানো ও রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের এটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সময়মতো এবং সুষ্ঠু হবে। ‘যে যাই বলুক, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এক দিনও আগে নয়, এক দিনও পরে নয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান নিতে পারে। শেখ হাসিনার আমলে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ থাকার পর প্রচারণাকালে দলটি গতি পেয়েছে এবং এখন ‘মূলধারায়’ রয়েছে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বাংলাদেশ রাজনীতির বিশেষজ্ঞ মুবাশার হাসান।

জামায়াতে ইসলামির মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি ‘দুর্নীতিবিরোধিতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন’-এর অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব এখনো ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ রয়েছে এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটি জয়ী হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান—যিনি দীর্ঘ নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন—সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বিএনপির কৌশল সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন জামায়াত ভালো ফল করবে, তবে সম্ভাব্য জোট সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।

বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করা হয়েছে: জামায়াত আমীর

তবে জামায়াতে ইসলামির আমির বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে রয়টার্সকে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দলগুলো এক হলে আমরা একসঙ্গেই সরকার চালাব।’ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত ছিল জুনিয়র অংশীদার।

২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে এবং ঢাকায় ‘একাধিক’ বৈঠক হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ রহমান। শুক্রবার দলটির নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়াশিংটনের বৈঠকগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ঢাকায় জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম’ হিসেবে বর্ণনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

গত আগস্টে ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ঢাকায় জামায়াতের আমিরের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি ওপেন হার্ট সার্জারি থেকে সেরে উঠছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

ঢাকায় দূতাবাসের ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জামায়াতে ইসলামির পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে আমরা ফোন তুলে বলতে পারি—তোমরা যেটা বলেছ, তার পরিণতি হবে এমন।’

কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় এসে ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য নীতি নিলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহৎ পোশাকশিল্পকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

The U.S. Department of State's Headquarters in Washington, D.C. - United States Department of State

তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার ২০ শতাংশ রপ্তানি—সামাজিকভাবে উদার পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যদি বাংলাদেশ বলে নারীরা শুধু পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে, বা তাদের বের করে দেয়, কিংবা শরিয়া চাপিয়ে দেয়—তাহলে আর কোনো অর্ডার থাকবে না। আর অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’

তবে তিনি যোগ করেন, ‘জামায়াত এটা করবে না। এখানে খুব বেশি শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ আছে। আমরা তাদের কাছে খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেব, কী হলে কী হবে।’

তবুও নয়াদিল্লির উদ্বেগ কমবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। ভারত ২০১৯ সালে ভারতশাসিত কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামির শাখাকে ‘অবৈধ সংগঠন’ ঘোষণা করে এবং ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করে।

কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যদি ‘আরও ভালো অবস্থায়’ থাকত, তবে নির্বাচনের আগে জামায়াত নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিত। কিন্তু এখন ‘অংশীদারিত্ব পুরোপুরি এলোমেলো’, তাই মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতের উদ্বেগের প্রতি অতটা সংবেদনশীল বোধ করছেন না।

এই প্রতিবেদনে সুপ্রিয়া কুমার সহায়তা করেছেন।