নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষপাতিত্বের কারণেই তাকে ঢাকায় আসতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে লিখিত ব্যাখ্যা
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে তিনজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়েছেন। তার অভিযোগ, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। এ কারণেই তিনি নির্বাচন কমিশনে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে এসেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ ও অভিযোগ
গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচার কমিটি। ওই আসনের সারাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন এই নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানে তিনি বিচারিক কাজে বাধা দেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেন এবং অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। এ বিষয়ে ২২ জানুয়ারি দুপুর দুইটার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল তাকে। রুমিন ফারহানা জানান, তিনি ইতোমধ্যে লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
রুমিন ফারহানা আরও অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকজন মাথায় আঘাত পেয়েছেন। পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই
নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতি জানাতে এসেছেন উল্লেখ করে রুমিন বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বিপক্ষে নির্বাচন করছেন। এ বাস্তবতায় সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের জানাবেন
তিনি জানান, একই দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছেও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। রুমিন ফারহানার ভাষায়, কোনো রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচন নিয়ে কারসাজির সাহস না দেখায়। টানা পনেরো বছর ধরে মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম করেছে এবং সেই অর্জন নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
নির্বাচনে থাকার অঙ্গীকার
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন এবং প্রচার চালিয়ে যাবেন। তার লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত তথ্য জানাবেন বলেও জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন ও প্রার্থীর চিত্র
নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে এসব ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে।
বর্তমানে পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসন বাদে ২৯৮টি আসনে মোট এক হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই দুটি আসনের প্রার্থী যুক্ত হলে সংখ্যা আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৮১ জনে, যার মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৩২ জন এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















