০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
খুলনার বটিয়াঘাটায় ভাঙনের মুখে একাধিক বাঁধ, পানিবৃদ্ধিতে বন্যার শঙ্কা সমুদ্রবন্দরগুলোর সতর্কসংকেত নামানোর নির্দেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবার সুযোগ, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ, টানা বৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন জেলা কেরানীগঞ্জে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে ক্ষতির মুখে আমদানিকৃত পণ্য জাপানের ‘সিলিকন দ্বীপ’ হতে চলেছে হোক্কাইডো, সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবে বদলে যেতে পারে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ শিশু কখন অপরাধী? দায়িত্বের বয়স কমানো নয়, পুনর্বাসনেই সমাধান ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২০ শতাংশ কমাতে পারে একটি টিকা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট: নবজাতকের নামে বিনিয়োগ, বিতর্কের মাঝেও ভবিষ্যতের নতুন অর্থনৈতিক ভাবনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৫)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • 163

আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে।

পনেরো মিনিট স্থায়ী যুদ্ধে আমরা বেদম গোলাগুলি বিনিময় করি, অবশ্য খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের সঙ্গে বারোটি বোমারু বিমান এবং বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়‍্যার ছিল। ওরা সামনের দিক থেকে আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে এবং আমাদের কাছাকাছিও চলে এসেছে- কিন্তু সত্যিকার অর্থে কখনোই আমাদেরকে আঘাত হানার ভয় প্রদর্শনের জন্য খুব কাছে আসেনি। তাদের ছিল মাত্র চারটি প্লেন। তবু বলি যে ভাগ্যিস ওরা আমাদের চেয়েও অধিকতর ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিল”।

আরেকবার, বি-২৫-তে বসা ইভো বার্মার আকাশে একা একা উড়ছিলেন, ধারে কাছে আর কোনো বি-২৫ ছিল না। নিঃসঙ্গ বিচরণকালে যে ঘটনাটি ঘটে ইভো-র স্মৃতির পাতায় বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে: “হঠাৎ করেই দু দুটো ‘জিরো’ (জাপানিদের, মিৎসুবিশি’র তৈরি ফাইটার “এইচ৬এম”) আমাদের দিকে তেড়ে আসল এবং প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। সেদিনটি মেঘলা ছিল দেখেছিল নিশ্চয়, লুকোচুরি খেলার কায়দায় কখনো মেঘের আড়ালে কখনোবা বলে আমরা মেঘের উপর দিয়ে উড়ছিলাম। ওরা আমাদেরকে আগেভাগেই মেঘের বাইরে উড়ে উড়ে আমাদেরকে অনুসরণ করছিল।

তাই ওদেরকে আমরা সনাক্ত করি তখনই যখন ওরা আমাদের চেয়েও উচ্চতর উচ্চতা থেকে একটি করে দুই ‘জিরো’-কে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিই, এবং আমাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার গানার ও আমি মাথাপিছ ‘জিরো’-দুটোকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করি। কিন্তু ওরা তো দমে না। তাই গুলি চালাতে থাকি। আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি যে আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে। ওরা দ্রুত নিজেদের ফাইটারের “নোজ গান” আমাদের দিকে তাক করে গুলি করা শুরু করে।

ভাগ্যক্রমে আমাদের পাইলট মেঘের আবরণে একটি ‘ফাঁকা ছিদ্র’ দেখতে পায়, সে তখন শাঁ করে সেই ছিদ্রের মধ্যে ঢুকে মেঘের আড়াল নিয়ে উড়তে থাকে। কো-পাইলটের উত্তেজিত চীৎকার শুনতে পাই আমি, বলছে ‘হেই বস! দেখ, দেখ- আমাদের সামনে পর্বতমালা। প্লেন যে দিক পরিবর্তন করছে অনুভব করছিলাম আছি এবং তাকিয়ে দেখি যে আমাদের বিমানটি বামদিকে পর্বতমালার খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনার বটিয়াঘাটায় ভাঙনের মুখে একাধিক বাঁধ, পানিবৃদ্ধিতে বন্যার শঙ্কা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৫)

০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে।

পনেরো মিনিট স্থায়ী যুদ্ধে আমরা বেদম গোলাগুলি বিনিময় করি, অবশ্য খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের সঙ্গে বারোটি বোমারু বিমান এবং বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়‍্যার ছিল। ওরা সামনের দিক থেকে আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে এবং আমাদের কাছাকাছিও চলে এসেছে- কিন্তু সত্যিকার অর্থে কখনোই আমাদেরকে আঘাত হানার ভয় প্রদর্শনের জন্য খুব কাছে আসেনি। তাদের ছিল মাত্র চারটি প্লেন। তবু বলি যে ভাগ্যিস ওরা আমাদের চেয়েও অধিকতর ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিল”।

আরেকবার, বি-২৫-তে বসা ইভো বার্মার আকাশে একা একা উড়ছিলেন, ধারে কাছে আর কোনো বি-২৫ ছিল না। নিঃসঙ্গ বিচরণকালে যে ঘটনাটি ঘটে ইভো-র স্মৃতির পাতায় বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে: “হঠাৎ করেই দু দুটো ‘জিরো’ (জাপানিদের, মিৎসুবিশি’র তৈরি ফাইটার “এইচ৬এম”) আমাদের দিকে তেড়ে আসল এবং প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। সেদিনটি মেঘলা ছিল দেখেছিল নিশ্চয়, লুকোচুরি খেলার কায়দায় কখনো মেঘের আড়ালে কখনোবা বলে আমরা মেঘের উপর দিয়ে উড়ছিলাম। ওরা আমাদেরকে আগেভাগেই মেঘের বাইরে উড়ে উড়ে আমাদেরকে অনুসরণ করছিল।

তাই ওদেরকে আমরা সনাক্ত করি তখনই যখন ওরা আমাদের চেয়েও উচ্চতর উচ্চতা থেকে একটি করে দুই ‘জিরো’-কে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিই, এবং আমাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার গানার ও আমি মাথাপিছ ‘জিরো’-দুটোকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করি। কিন্তু ওরা তো দমে না। তাই গুলি চালাতে থাকি। আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি যে আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে। ওরা দ্রুত নিজেদের ফাইটারের “নোজ গান” আমাদের দিকে তাক করে গুলি করা শুরু করে।

ভাগ্যক্রমে আমাদের পাইলট মেঘের আবরণে একটি ‘ফাঁকা ছিদ্র’ দেখতে পায়, সে তখন শাঁ করে সেই ছিদ্রের মধ্যে ঢুকে মেঘের আড়াল নিয়ে উড়তে থাকে। কো-পাইলটের উত্তেজিত চীৎকার শুনতে পাই আমি, বলছে ‘হেই বস! দেখ, দেখ- আমাদের সামনে পর্বতমালা। প্লেন যে দিক পরিবর্তন করছে অনুভব করছিলাম আছি এবং তাকিয়ে দেখি যে আমাদের বিমানটি বামদিকে পর্বতমালার খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)