০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কাজের পোশাকে নতুন ঢেউ, তরুণ শ্রমজীবীদের ভরসা এখন আরামদায়ক সুরক্ষিত গিয়ার শিল্পের দ্বন্দ্বে প্রকৃতির জয়: টার্নার ও কনস্টেবলের বিস্ময়কর মুখোমুখি জীবনকে প্রস্ফুটিত করার পাঠ খুঁজে নিলেন এক পরামর্শক ইতালির বিস্তীর্ণ শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন ঘিরে যাতায়াতে মহাসংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে দর্শনার্থীরা থোয়েটস হিমবাহে ভয়াবহ ধাক্কা, বরফে বন্দি যন্ত্রে ও মিলল উষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত চীনের ক্ষমতার অন্দরে হঠাৎ কম্পন, শি জিনপিংয়ের নতুন শুদ্ধি অভিযানে বাড়ছে সন্দেহ ও শঙ্কা দিশা পাটানির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে নীরবতা ভাঙলেন তালবিন্দর, জানালেন সম্পর্কের আসল অবস্থান রাশিয়ার রপ্তানি সংকটে বাজেট চাপ, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারে আপত্তি শীর্ষ চিকিৎসক সংগঠনের মার্কিন অভিজাতদের ‘অশ্লীল ঘনিষ্ঠতা’ ফাঁস, এপস্টিন নথি ঘিরে তীব্র মন্তব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৫)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • 82

আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে।

পনেরো মিনিট স্থায়ী যুদ্ধে আমরা বেদম গোলাগুলি বিনিময় করি, অবশ্য খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের সঙ্গে বারোটি বোমারু বিমান এবং বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়‍্যার ছিল। ওরা সামনের দিক থেকে আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে এবং আমাদের কাছাকাছিও চলে এসেছে- কিন্তু সত্যিকার অর্থে কখনোই আমাদেরকে আঘাত হানার ভয় প্রদর্শনের জন্য খুব কাছে আসেনি। তাদের ছিল মাত্র চারটি প্লেন। তবু বলি যে ভাগ্যিস ওরা আমাদের চেয়েও অধিকতর ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিল”।

আরেকবার, বি-২৫-তে বসা ইভো বার্মার আকাশে একা একা উড়ছিলেন, ধারে কাছে আর কোনো বি-২৫ ছিল না। নিঃসঙ্গ বিচরণকালে যে ঘটনাটি ঘটে ইভো-র স্মৃতির পাতায় বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে: “হঠাৎ করেই দু দুটো ‘জিরো’ (জাপানিদের, মিৎসুবিশি’র তৈরি ফাইটার “এইচ৬এম”) আমাদের দিকে তেড়ে আসল এবং প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। সেদিনটি মেঘলা ছিল দেখেছিল নিশ্চয়, লুকোচুরি খেলার কায়দায় কখনো মেঘের আড়ালে কখনোবা বলে আমরা মেঘের উপর দিয়ে উড়ছিলাম। ওরা আমাদেরকে আগেভাগেই মেঘের বাইরে উড়ে উড়ে আমাদেরকে অনুসরণ করছিল।

তাই ওদেরকে আমরা সনাক্ত করি তখনই যখন ওরা আমাদের চেয়েও উচ্চতর উচ্চতা থেকে একটি করে দুই ‘জিরো’-কে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিই, এবং আমাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার গানার ও আমি মাথাপিছ ‘জিরো’-দুটোকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করি। কিন্তু ওরা তো দমে না। তাই গুলি চালাতে থাকি। আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি যে আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে। ওরা দ্রুত নিজেদের ফাইটারের “নোজ গান” আমাদের দিকে তাক করে গুলি করা শুরু করে।

ভাগ্যক্রমে আমাদের পাইলট মেঘের আবরণে একটি ‘ফাঁকা ছিদ্র’ দেখতে পায়, সে তখন শাঁ করে সেই ছিদ্রের মধ্যে ঢুকে মেঘের আড়াল নিয়ে উড়তে থাকে। কো-পাইলটের উত্তেজিত চীৎকার শুনতে পাই আমি, বলছে ‘হেই বস! দেখ, দেখ- আমাদের সামনে পর্বতমালা। প্লেন যে দিক পরিবর্তন করছে অনুভব করছিলাম আছি এবং তাকিয়ে দেখি যে আমাদের বিমানটি বামদিকে পর্বতমালার খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজের পোশাকে নতুন ঢেউ, তরুণ শ্রমজীবীদের ভরসা এখন আরামদায়ক সুরক্ষিত গিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৫)

০৯:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে।

পনেরো মিনিট স্থায়ী যুদ্ধে আমরা বেদম গোলাগুলি বিনিময় করি, অবশ্য খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের সঙ্গে বারোটি বোমারু বিমান এবং বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়‍্যার ছিল। ওরা সামনের দিক থেকে আমাদের দিকে ধেয়ে এসেছে এবং আমাদের কাছাকাছিও চলে এসেছে- কিন্তু সত্যিকার অর্থে কখনোই আমাদেরকে আঘাত হানার ভয় প্রদর্শনের জন্য খুব কাছে আসেনি। তাদের ছিল মাত্র চারটি প্লেন। তবু বলি যে ভাগ্যিস ওরা আমাদের চেয়েও অধিকতর ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিল”।

আরেকবার, বি-২৫-তে বসা ইভো বার্মার আকাশে একা একা উড়ছিলেন, ধারে কাছে আর কোনো বি-২৫ ছিল না। নিঃসঙ্গ বিচরণকালে যে ঘটনাটি ঘটে ইভো-র স্মৃতির পাতায় বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে: “হঠাৎ করেই দু দুটো ‘জিরো’ (জাপানিদের, মিৎসুবিশি’র তৈরি ফাইটার “এইচ৬এম”) আমাদের দিকে তেড়ে আসল এবং প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। সেদিনটি মেঘলা ছিল দেখেছিল নিশ্চয়, লুকোচুরি খেলার কায়দায় কখনো মেঘের আড়ালে কখনোবা বলে আমরা মেঘের উপর দিয়ে উড়ছিলাম। ওরা আমাদেরকে আগেভাগেই মেঘের বাইরে উড়ে উড়ে আমাদেরকে অনুসরণ করছিল।

তাই ওদেরকে আমরা সনাক্ত করি তখনই যখন ওরা আমাদের চেয়েও উচ্চতর উচ্চতা থেকে একটি করে দুই ‘জিরো’-কে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিই, এবং আমাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার গানার ও আমি মাথাপিছ ‘জিরো’-দুটোকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করি। কিন্তু ওরা তো দমে না। তাই গুলি চালাতে থাকি। আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি যে আমাদের ‘গুলির বদলা আমাদের কাছাকাছি আসতে না আসতেই আমরা ওদেরকে দমাদ্দম আচ্ছামতো গুলি’ করার জন্য ওরা অপেক্ষা করছে। ওরা দ্রুত নিজেদের ফাইটারের “নোজ গান” আমাদের দিকে তাক করে গুলি করা শুরু করে।

ভাগ্যক্রমে আমাদের পাইলট মেঘের আবরণে একটি ‘ফাঁকা ছিদ্র’ দেখতে পায়, সে তখন শাঁ করে সেই ছিদ্রের মধ্যে ঢুকে মেঘের আড়াল নিয়ে উড়তে থাকে। কো-পাইলটের উত্তেজিত চীৎকার শুনতে পাই আমি, বলছে ‘হেই বস! দেখ, দেখ- আমাদের সামনে পর্বতমালা। প্লেন যে দিক পরিবর্তন করছে অনুভব করছিলাম আছি এবং তাকিয়ে দেখি যে আমাদের বিমানটি বামদিকে পর্বতমালার খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৬৪)