উদ্ধার কাজ শেষ, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
হংকংয়ের তাই পো এলাকার উচ্চ ভবনসমৃদ্ধ ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। এখনও প্রায় ২০০ মানুষের কোনো খোঁজ নেই। শহরটির গত প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও ভবনের ভেতরে আরও মৃতদেহ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন, তাদের মধ্যে ১২ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল
হংকংয়ের নিরাপত্তা প্রধান ক্রিস ট্যাং জানান, ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছিল না। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংস্কারকাজের কারণে আটটি ৩২ তলা ব্লকের সাতটিই বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ও সবুজ সুরক্ষা জালে মোড়ানো ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি করে।
দুর্নীতির তদন্তে বিশেষ টাস্কফোর্স
অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারকাজে দুর্নীতির অভিযোগে হংকংয়ের দুর্নীতি দমন কমিশন (আইসিএসি) ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শক, স্ক্যাফোল্ডিং সাব-কন্ট্রাক্টর এবং এক মধ্যস্থতাকারী।
পুলিশ বৃহস্পতিবার ‘প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন’ কোম্পানির দুই পরিচালক ও একজন ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, তারা অগ্নিনিরাপত্তা-বিপজ্জনক দাহ্য ফোম বোর্ড ব্যবহার করেছিলেন, যা জানালা বন্ধ করে দিয়েছিল। কোম্পানিটি সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিল।
নিহতদের সনাক্তকরণে স্বজনদের দুর্বিষহ অপেক্ষা
ঘটনার পরদিন স্বজনদের শনাক্ত করতে শোকাহত পরিবারগুলোকে উদ্ধারকর্মীদের তোলা মৃতদেহের ছবি দেখে খোঁজ চালাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১২৮ জনের মধ্যে মাত্র ৩৯ জনকে শনাক্ত করা গেছে।
অনেকেই ভগ্ন হৃদয়ে নিজের ঘরের ধ্বংসস্তূপ দেখছিলেন। এক বাসিন্দা মিস ইউ বলেন,
“ওটাই আমার বাড়ি ছিল… আমি ফিরে যেতে চাই, কিন্তু আর কিছুই বাকি নেই।”
আরেক বাসিন্দা জানান, তার বন্ধুর স্ত্রী এখনও নিখোঁজ।
“বাস্তবতা হলো, আর বাঁচার আশা নেই। তবুও দেহগুলো তো খুঁজে পেতেই হবে।”
স্বেচ্ছাসেবকদের মানবিক সহায়তা
শত শত স্বেচ্ছাসেবক দ্রুত মাঠে নেমে খাবার, পোশাক, ডায়াপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন। কাছের একটি শপিং মলের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে বৃহৎ সহায়তা শিবির, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঘটনাটি ১৯৪৮ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে এটিকে লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করছেন।
সংস্কারকাজ নিয়ে আগের অভিযোগই এখন বড় প্রশ্ন
গত বছর ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা সংস্কারকাজের ঝুঁকি নিয়ে বারবার অভিযোগ করেছিলেন। ব্যবহৃত সুরক্ষা জালের দাহ্যতা নিয়েও তারা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, “আগুনের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।”
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় স্টেশনগুলোয় শত শত লিফলেট বিতরণ হচ্ছে—নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা, পুনর্বাসন এবং ভবন নির্মাণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে।
ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার গৃহকর্মীও নিহত
ঘটনায় বহু বিদেশি গৃহকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফিলিপাইনের ১৯ জন গৃহকর্মী এখনও নিখোঁজ। ইন্দোনেশিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কনসুলেট।
হংকংয়ে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার গৃহকর্মী কাজ করেন, যাদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের এশীয় দেশগুলোর নারী।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তহবিল ঘোষণা
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তায় ৩০ কোটি হংকং ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি চীনের বড় বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোও অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
#HongKongFire# Wang Food Court #FireDisaster #CorruptionProbe #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















