০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
 অস্ট্রেলিয়া ডে ঘিরে সন্ত্রাস পরিকল্পনার অভিযোগ: পিএইচডি শিক্ষার্থীর জামিন নামঞ্জুর ইয়েমেনের এডেনে কনভয়ে বোমা হামলা: নিহত ৫, আহত কমান্ডার কাবুলের রেস্তোরাঁ হামলায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কড়া নিন্দা ভারত–স্পেনের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা: সন্ত্রাস দমনে নতুন কূটনৈতিক জোট ট্রাম্পের ইঙ্গিত: উত্তরসূরি হিসেবে জেডি ভ্যান্স, মার্কো রুবিও ও স্কট বেসেন্ট প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজারের বেশি ঢাকায় আজও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু—PM2.5 দূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন: ৪০০–৫০০ ঘর ধ্বংস, হাজারো মানুষ আশ্রয়হীন দেড় মাস পর আবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ–আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা, সায়েন্সল্যাবে যান চলাচল বন্ধ মোংলায় পশুর নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এই হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর তালিকা।


উচ্চ মৃত্যু–সংখ্যা হালনাগাদ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবারের পর থেকে আরও ৩০১ জনের মৃত্যুর তথ্য যোগ হওয়ায় এখন মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০,১০০। এর মধ্যে দুইজন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন, বাকিদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল—যা শনাক্ত করে নতুন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা আগেও গাজার দেওয়া সংখ্যার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নিজেদের কোনো আলাদা হিসাব প্রকাশ করেনি।


ধ্বংসস্তূপে মরদেহ শনাক্ত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়, তাতে গাজা উপত্যকার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে সঠিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে হাসপাতালগুলোতে আনা মৃতদেহের তথ্য, নাম এবং পরিচয় নম্বর ধরে গণনা করা হতো।
পরবর্তীতে, হাজারো সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করার আগে ফরেনসিক, চিকিৎসা ও আইনগত যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

১০ অক্টোবর থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধ্বংসস্তুপে আরও অনুসন্ধান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।


যুদ্ধের পটভূমি
হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়—যাদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। ওই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মা করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জবাবে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে অসংখ্য পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।


একটি পরিবারের করুণ গল্প
গাজার বুরেইজ ক্যাম্পের কাছে দু’টি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় মোয়াজ মঘারির পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, তার বাবা-মা, চার ভাইবোনসহ মোট ৬২ জন আত্মীয় নিহত হয়েছেন।

তিনি তখন পাশের একটি দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দেখা যায় আকাশ ধুলোয় ঢেকে গেছে। বাড়ির দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন—সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

তিনি বলেন, “তখনই বুঝতে পারলাম—আমি সবকিছু হারিয়েছি। সবাইকে হারিয়েছি।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য বারবার বলেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।


জাতিসংঘের মূল্যায়ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগে গাজায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় উন্নত জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য-তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল।
জাতিসংঘ প্রায়ই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

 অস্ট্রেলিয়া ডে ঘিরে সন্ত্রাস পরিকল্পনার অভিযোগ: পিএইচডি শিক্ষার্থীর জামিন নামঞ্জুর

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে

১২:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এই হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর তালিকা।


উচ্চ মৃত্যু–সংখ্যা হালনাগাদ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবারের পর থেকে আরও ৩০১ জনের মৃত্যুর তথ্য যোগ হওয়ায় এখন মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০,১০০। এর মধ্যে দুইজন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন, বাকিদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল—যা শনাক্ত করে নতুন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা আগেও গাজার দেওয়া সংখ্যার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নিজেদের কোনো আলাদা হিসাব প্রকাশ করেনি।


ধ্বংসস্তূপে মরদেহ শনাক্ত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়, তাতে গাজা উপত্যকার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে সঠিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে হাসপাতালগুলোতে আনা মৃতদেহের তথ্য, নাম এবং পরিচয় নম্বর ধরে গণনা করা হতো।
পরবর্তীতে, হাজারো সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করার আগে ফরেনসিক, চিকিৎসা ও আইনগত যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

১০ অক্টোবর থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধ্বংসস্তুপে আরও অনুসন্ধান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।


যুদ্ধের পটভূমি
হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়—যাদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। ওই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মা করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জবাবে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে অসংখ্য পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।


একটি পরিবারের করুণ গল্প
গাজার বুরেইজ ক্যাম্পের কাছে দু’টি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় মোয়াজ মঘারির পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, তার বাবা-মা, চার ভাইবোনসহ মোট ৬২ জন আত্মীয় নিহত হয়েছেন।

তিনি তখন পাশের একটি দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দেখা যায় আকাশ ধুলোয় ঢেকে গেছে। বাড়ির দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন—সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

তিনি বলেন, “তখনই বুঝতে পারলাম—আমি সবকিছু হারিয়েছি। সবাইকে হারিয়েছি।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য বারবার বলেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।


জাতিসংঘের মূল্যায়ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগে গাজায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় উন্নত জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য-তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল।
জাতিসংঘ প্রায়ই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।