০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
খুলনা আদালত এলাকায় দিনের বেলায় গুলিতে একজন নিহত, আরেকজন গুরুতর আহত বাধ্যতামূলক আশাবাদ অর্থনৈতিক মন্দার সমাধান নয় ট্রাম্পের মামদানি-সাক্ষাৎ ও মুসলিম ব্রাদারহুড নির্দেশকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক বিচারকদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ কীভাবে ট্রাম্পের ভোটভিত্তি ভেঙে যেতে পারে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক বিপ্লব: ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান ভারতের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা ত্বরান্বিত: পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোপন শান্তি-রোডম্যাপ লুকিয়ে রাখায় ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ কেন চীনের সতর্কবার্তা জাতিসংঘ সংস্কার বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওপেনএআই-এর সামনে বিপুল অর্থসংকট: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজন ২০০ বিলিয়ন ডলার

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এই হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর তালিকা।


উচ্চ মৃত্যু–সংখ্যা হালনাগাদ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবারের পর থেকে আরও ৩০১ জনের মৃত্যুর তথ্য যোগ হওয়ায় এখন মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০,১০০। এর মধ্যে দুইজন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন, বাকিদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল—যা শনাক্ত করে নতুন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা আগেও গাজার দেওয়া সংখ্যার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নিজেদের কোনো আলাদা হিসাব প্রকাশ করেনি।


ধ্বংসস্তূপে মরদেহ শনাক্ত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়, তাতে গাজা উপত্যকার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে সঠিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে হাসপাতালগুলোতে আনা মৃতদেহের তথ্য, নাম এবং পরিচয় নম্বর ধরে গণনা করা হতো।
পরবর্তীতে, হাজারো সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করার আগে ফরেনসিক, চিকিৎসা ও আইনগত যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

১০ অক্টোবর থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধ্বংসস্তুপে আরও অনুসন্ধান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।


যুদ্ধের পটভূমি
হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়—যাদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। ওই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মা করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জবাবে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে অসংখ্য পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।


একটি পরিবারের করুণ গল্প
গাজার বুরেইজ ক্যাম্পের কাছে দু’টি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় মোয়াজ মঘারির পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, তার বাবা-মা, চার ভাইবোনসহ মোট ৬২ জন আত্মীয় নিহত হয়েছেন।

তিনি তখন পাশের একটি দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দেখা যায় আকাশ ধুলোয় ঢেকে গেছে। বাড়ির দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন—সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

তিনি বলেন, “তখনই বুঝতে পারলাম—আমি সবকিছু হারিয়েছি। সবাইকে হারিয়েছি।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য বারবার বলেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।


জাতিসংঘের মূল্যায়ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগে গাজায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় উন্নত জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য-তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল।
জাতিসংঘ প্রায়ই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা আদালত এলাকায় দিনের বেলায় গুলিতে একজন নিহত, আরেকজন গুরুতর আহত

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে

১২:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এই হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর তালিকা।


উচ্চ মৃত্যু–সংখ্যা হালনাগাদ
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবারের পর থেকে আরও ৩০১ জনের মৃত্যুর তথ্য যোগ হওয়ায় এখন মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০,১০০। এর মধ্যে দুইজন সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন, বাকিদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল—যা শনাক্ত করে নতুন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা আগেও গাজার দেওয়া সংখ্যার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নিজেদের কোনো আলাদা হিসাব প্রকাশ করেনি।


ধ্বংসস্তূপে মরদেহ শনাক্ত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়, তাতে গাজা উপত্যকার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে সঠিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে হাসপাতালগুলোতে আনা মৃতদেহের তথ্য, নাম এবং পরিচয় নম্বর ধরে গণনা করা হতো।
পরবর্তীতে, হাজারো সম্ভাব্য মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করার আগে ফরেনসিক, চিকিৎসা ও আইনগত যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

১০ অক্টোবর থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলার পর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধ্বংসস্তুপে আরও অনুসন্ধান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।


যুদ্ধের পটভূমি
হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়—যাদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ। ওই হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মা করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জবাবে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে অসংখ্য পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।


একটি পরিবারের করুণ গল্প
গাজার বুরেইজ ক্যাম্পের কাছে দু’টি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় মোয়াজ মঘারির পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, তার বাবা-মা, চার ভাইবোনসহ মোট ৬২ জন আত্মীয় নিহত হয়েছেন।

তিনি তখন পাশের একটি দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দেখা যায় আকাশ ধুলোয় ঢেকে গেছে। বাড়ির দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন—সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

তিনি বলেন, “তখনই বুঝতে পারলাম—আমি সবকিছু হারিয়েছি। সবাইকে হারিয়েছি।”

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য বারবার বলেছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।


জাতিসংঘের মূল্যায়ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগে গাজায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় উন্নত জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য-তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল।
জাতিসংঘ প্রায়ই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।