সারসংক্ষেপ
• সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এশিয়া ও ইউরোপে শত শত ফ্লাইট স্থগিত
• এয়ারবাসের ৬,০০০ A320-পরিবারের বিমান ফিরতি ডাকে
• বহু এয়ারলাইন দ্রুত সফটওয়্যার ঠিক করে জানায়—অপারেশন প্রায় স্বাভাবিক
• জেটব্লুর অক্টোবরের ঘটনায় উন্মোচিত হয় উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যারের দুর্বলতা
বৈশ্বিক এয়ারলাইনগুলোর দৌড়ঝাঁপ
শনিবার বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনগুলো হঠাৎ দেখা দেওয়া সফটওয়্যার সমস্যার কারণে এয়ারবাস A320 বিমানের ত্রুটি মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইউরোপীয় প্রস্তুতকারক এয়ারবাস আংশিক রিকল ঘোষণা করলে এশিয়া ও ইউরোপে শত শত ফ্লাইট থেমে যায়। বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ সময়—যুক্তরাষ্ট্রের থ্যাঙ্কসগিভিং–এর পরে—তাদের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে এয়ারলাইনগুলো রাত জেগে সফটওয়্যার সমস্যা ঠিক করতে কাজ করে। শনিবারই বেশ কয়েকটি কোম্পানি জানায়, তারা প্রায় পুরো বহরেই মেরামত সম্পন্ন করেছে বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, ডেল্টা এবং হাঙ্গেরির উইজ এয়ার।
অনেকেই জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থা তুলনামূলক স্বাভাবিক
যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাঙ্কসগিভিং–এর পর ভ্রমণচাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তবে দেশটির পরিবহন সচিব শন ডাফি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারলাইনগুলো মেরামতে ভালো অগ্রগতি করেছে এবং রোববার রাতের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে।
তিনি যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বড় ধরনের কোনো ভ্রমণ বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।
এশিয়ার বিমানবিশ্লেষক ব্রেনডান সোবি জানান, পরিস্থিতি যতটা অরাজক মনে হয়েছে, বাস্তবে ততটা নয়। তবে অল্প সময়ের জন্য এয়ারলাইনগুলোকে কার্যক্রমে কিছু ঝামেলার মুখে পড়তে হয়েছে।
এয়ারবাসের সিইওর দুঃখপ্রকাশ
এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গুইলোম ফরী ৬,০০০ বিমান ফিরিয়ে আনার ঘটনায় এয়ারলাইন এবং যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন।
A320 সিরিজ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সরবরাহকৃত সিঙ্গল–আইল জেট, যা সম্প্রতি বোয়িং ৭৩৭–কে পেছনে ফেলেছে।
ফরী বলেন, যেসব যাত্রী ও এয়ারলাইন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
জেটব্লু ঘটনার পরই আসে সতর্কতা
এই রিকলের সূত্রপাত অক্টোবরের ৩০ তারিখ জেটব্লুর এক ফ্লাইটে আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনা থেকে। ক্যানকুন থেকে নিউয়ার্কগামী ঐ ফ্লাইটে ১০ জন যাত্রী আহত হন। ফ্রান্সের দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা BEA ঘটনাটি তদন্ত করছে।
রিকলের সময়সূচির সুবাদে কিছু এয়ারলাইন বেঁচে গেল
ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ এয়ারলাইন রাতের বেলায় A320–এর মতো স্বল্প ও মধ্য-দূরত্বের ফ্লাইট চালায় না। ফলে রিকলটি তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত করেনি—রাতে মেরামতের সময় পাওয়া গেছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এটি দিনের বেলায় কার্যক্রমকে আঘাত করে, থ্যাঙ্কসগিভিং–এর ভিড়ের ঠিক আগে।

এশিয়া–ইউরোপে বড় ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত প্রভাব
আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের বহরের ৪৮০টির মধ্যে ২০৯ বিমান সফটওয়্যার আপডেটের প্রয়োজন হয়েছে। তাদের আশা, শনিবারের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানায়, তারা সব বিমানের আপডেট সম্পন্ন করেছে।
উইজ এয়ার রাতারাতি সব মেরামত শেষ করেছে বলে জানায়। এয়ারএশিয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করতে চায়।
ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক জানায়, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া শনিবারের মধ্যেই আপডেট শেষ করবে।
জাপানের এএনএ ৯৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, এতে প্রায় ১৩,৫০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি ফ্লাইএডিলের প্রধান নির্বাহী স্টিভেন গ্রিনওয়ে বলেন, রিকলটি রাতে এসে পড়ায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো গেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি জেটই রাতেই ঠিক করে কাজে ফিরতে পেরেছে।
ত্রুটি কোথায়—এবং ঠিক কতক্ষণে মেরামত
ত্রুটিটি বিমানের নাকের কোণ নির্ধারণে সহায়ক একটি কম্পিউটার সিস্টেমে। এতে সফটওয়্যারকে আগের সংস্করণে ফিরিয়ে নিতে হয়।
কিছু পুরনো বিমানে হার্ডওয়্যারও বদলাতে হয়।
প্রতিটি বিমানে মেরামতে ২–৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
বিশ্বজুড়ে সেবা দেওয়া সিঙ্গল–আইল জেট সংখ্যা প্রায় ১১,৩০০। এর মধ্যে ৬,৪৪০টি A320 মডেল, যা বহু বড় বাজেট এয়ারলাইনের প্রধান ভরসা।
ফ্লাইট ট্র্যাকার সিস্টেমের তথ্য বলছে, বেশিরভাগ বিমানবন্দরে দেরি হয়েছে মাঝারি মাত্রায়।
শনিবারের মধ্যে জানা যায়, প্রায় ১,০০০ বিমানের মধ্যে কম সংখ্যক ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বদলানোর প্রয়োজন হবে। এতে কাজ কিছুটা সহজ হবে।

বৈশ্বিক বিমান খাতে অতিরিক্ত চাপ
শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রাংশ ঘাটতির সময়ে এ ধরনের হঠাৎ রিকল এয়ারলাইন শিল্পের জন্য ব্যয়সাপেক্ষ ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেটব্লু ঘটনার সঙ্গে সূর্যের তীব্র বিকিরণের (solar flare) সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে—যা এখনও তদন্তাধীন।
ব্রিটিশ বিমান বিশেষজ্ঞ জন স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, এত বড় অংশের অপারেশন হঠাৎ বদলানোর নির্দেশ এলে তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















