০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

আমেরিকায় লেফটোভার বিপ্লব: মুদ্রাস্ফীতির চাপে রান্নাঘরে ফিরে আসছে সৃজনশীলতা

বোন ব্যাগ। পিৎজা এগ। ফ্রিজ ফরেজিং।
মার্কিন রান্নাঘরে এখন শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত, কিন্তু জনপ্রিয় “লেফটোভার অলিম্পিক্স”—যেখানে আগের দিনের অর্ধেক ক্যান টমেটো পেস্ট কিংবা ফ্রিজে পড়ে থাকা হটডগ নতুন জীবনে ফিরে আসে।

মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম আমেরিকানদের অভ্যাস পাল্টে দিয়েছে। যা আগে আবর্জনার ব্যাগে যেত, এখন সেটাই অনেক সময় রাতের প্রধান খাবার।

হাড়ের ব্যাগ থেকে নিখুঁত স্যুপ—নতুন কৌশলের খোঁজে পরিবারগুলো

শিকাগোর অধ্যাপক কেলি বেয়ার নিজের ফ্রিজারে আলাদা ব্যাগে জমিয়ে রাখেন সবজির খোসা, মাংসের হাড়—যা পরে ইনস্টাপটে পানি ও আপেল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু ব্রথ। রেস্তরাঁ থেকেও এখন হাড় সংগ্রহ করেন তিনি।

বেয়ার বললেন, “আমাদের পরিবার এখন প্রশিক্ষিত—গরু, মুরগি বা শূকর—যে হাড়ই থাকুক, সঙ্গে করে বাড়ি আনতেই হবে।” এটি তাঁর জন্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, আবার খাদ্য অপচয় কমানোর উপায়ও।

প্লাইমাউথ, মিনেসোটার সারাহ দ্যুগালের লেফটোভার নীতি আরও কঠোর—
চাইনিজ টেকআউট? অতিরিক্ত ভাত দিয়ে পরদিন ফ্রাইড রাইস।
ঠান্ডা হয়ে যাওয়া পিৎজা? টুকরো করে প্যানে ক্রিস্প করে ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে “পিৎজা এগ”—তাঁর কলেজজীবনের আবিষ্কার।

শিকাগোর নোরা শ্লেসিঙ্গার যা করেন তা আরও এক ধাপ এগিয়ে—তিনি “লেফটোভার নাইট” ঘোষণা করেন, আর পরিবারের চার সদস্য চার ধরনের ভিন্ন খাবার খেয়ে ফেলেন বাকি উপকরণ সাজিয়ে। তাঁর কথায়, “একপ্রকার Beautiful Mind—উপকরণগুলো মাথায় ভেসে উঠে, আর আমি নতুন কিছু বানাই।” এজন্য তাঁর বাড়িতে একাধিক ফ্রিজ আবশ্যক।

মুদ্রাস্ফীতি বদলে দিয়েছে রান্নাঘরের মনস্তত্ত্ব

মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যে ব্যয় তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে ওঠে। কিছু দাম স্থিতিশীল হলেও গরুর মাংস, কফি, চকলেট—সবই আরো ব্যয়বহুল। ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকেরা এখন নিয়মিত মানুষ লেফটোভার কত খায়, তা হিসাব রাখছেন।

মিজুহোর জন বমগার্টনার বলছেন, অক্টোবরের সমীক্ষায় ৪৯% আমেরিকান জানিয়েছে—তারা ছয় মাস আগের তুলনায় বেশি লেফটোভার খাচ্ছে। সাধারণত এ হার মাত্র ২০%। এমনকি বছরে ২ লক্ষ ডলারের বেশি আয়ের পরিবারেও লেফটোভারের ব্যবহার বেড়েছে।

বড় খাদ্য কোম্পানিও এই প্রবণতা ধরেছে। ক্রাফট হেইঞ্জ থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে “Leftover Gravy” নামে টার্কি গ্রেভির নতুন স্কুইজ বোতল বাজারে এনেছে।

নাশভিলের ফুড ব্লগার আমান্ডা ফ্রেডরিকসন ইনস্টাগ্রামে “ফ্রিজ ফরেজিং”—ফ্রিজে যা আছে তাই দিয়ে রান্না—ট্রেন্ডটি ফের জনপ্রিয় করেছেন। তাঁর কথায়, “খাবার ফেলে দিলে আপনি আসলে টাকা ফেলে দিচ্ছেন।”

সীমাবদ্ধতাও আছে—সব খাবারের দ্বিতীয় জীবন নেই

লেফটোভার নিয়ে উচ্ছ্বাস বাড়লেও এর বাস্তব সীমা রয়েছে। বমগার্টনার বলেন, গ্রিলড স্টেক তিনদিন ফ্রিজে থাকলে বৃহস্পতিবার তা খাওয়ার সাহস আর থাকে না।

কৃষি দপ্তরও নির্দেশিকা দিয়েছে—লেফটোভার কীভাবে সংরক্ষণ, গরম, গলানো এবং পুনরায় ব্যবহারের ‘leftover leftovers’ সামলানো যায়।

আর বেয়ার? তাঁর ব্রথ রান্নার দিনের গন্ধে তাঁর মা দুইদিন বাড়িতে আসেন না—তাঁর কাছে তা ‘কলোনোস্কোপি প্রস্তুতি’র তরলের মতোই দুঃসহ। বেয়ার স্বীকার করেন—“গন্ধ সত্যিই ঘর ভরে ফেলে।”

এভাবেই লেফটোভার–নির্ভরতা একদিকে সাশ্রয়, অন্যদিকে সৃজনশীলতার জায়গা তৈরি করছে—যদিও ফ্রিজের গভীরে থাকা কিছু জিনিসের সঙ্গে এখনো বন্ধুত্ব হয়নি অনেকেরই।

#USA #Food #Inflation #Lifestyle #Sarakhon #ThePresentWorld

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

আমেরিকায় লেফটোভার বিপ্লব: মুদ্রাস্ফীতির চাপে রান্নাঘরে ফিরে আসছে সৃজনশীলতা

০৩:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বোন ব্যাগ। পিৎজা এগ। ফ্রিজ ফরেজিং।
মার্কিন রান্নাঘরে এখন শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত, কিন্তু জনপ্রিয় “লেফটোভার অলিম্পিক্স”—যেখানে আগের দিনের অর্ধেক ক্যান টমেটো পেস্ট কিংবা ফ্রিজে পড়ে থাকা হটডগ নতুন জীবনে ফিরে আসে।

মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম আমেরিকানদের অভ্যাস পাল্টে দিয়েছে। যা আগে আবর্জনার ব্যাগে যেত, এখন সেটাই অনেক সময় রাতের প্রধান খাবার।

হাড়ের ব্যাগ থেকে নিখুঁত স্যুপ—নতুন কৌশলের খোঁজে পরিবারগুলো

শিকাগোর অধ্যাপক কেলি বেয়ার নিজের ফ্রিজারে আলাদা ব্যাগে জমিয়ে রাখেন সবজির খোসা, মাংসের হাড়—যা পরে ইনস্টাপটে পানি ও আপেল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু ব্রথ। রেস্তরাঁ থেকেও এখন হাড় সংগ্রহ করেন তিনি।

বেয়ার বললেন, “আমাদের পরিবার এখন প্রশিক্ষিত—গরু, মুরগি বা শূকর—যে হাড়ই থাকুক, সঙ্গে করে বাড়ি আনতেই হবে।” এটি তাঁর জন্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, আবার খাদ্য অপচয় কমানোর উপায়ও।

প্লাইমাউথ, মিনেসোটার সারাহ দ্যুগালের লেফটোভার নীতি আরও কঠোর—
চাইনিজ টেকআউট? অতিরিক্ত ভাত দিয়ে পরদিন ফ্রাইড রাইস।
ঠান্ডা হয়ে যাওয়া পিৎজা? টুকরো করে প্যানে ক্রিস্প করে ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে “পিৎজা এগ”—তাঁর কলেজজীবনের আবিষ্কার।

শিকাগোর নোরা শ্লেসিঙ্গার যা করেন তা আরও এক ধাপ এগিয়ে—তিনি “লেফটোভার নাইট” ঘোষণা করেন, আর পরিবারের চার সদস্য চার ধরনের ভিন্ন খাবার খেয়ে ফেলেন বাকি উপকরণ সাজিয়ে। তাঁর কথায়, “একপ্রকার Beautiful Mind—উপকরণগুলো মাথায় ভেসে উঠে, আর আমি নতুন কিছু বানাই।” এজন্য তাঁর বাড়িতে একাধিক ফ্রিজ আবশ্যক।

মুদ্রাস্ফীতি বদলে দিয়েছে রান্নাঘরের মনস্তত্ত্ব

মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যে ব্যয় তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে ওঠে। কিছু দাম স্থিতিশীল হলেও গরুর মাংস, কফি, চকলেট—সবই আরো ব্যয়বহুল। ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকেরা এখন নিয়মিত মানুষ লেফটোভার কত খায়, তা হিসাব রাখছেন।

মিজুহোর জন বমগার্টনার বলছেন, অক্টোবরের সমীক্ষায় ৪৯% আমেরিকান জানিয়েছে—তারা ছয় মাস আগের তুলনায় বেশি লেফটোভার খাচ্ছে। সাধারণত এ হার মাত্র ২০%। এমনকি বছরে ২ লক্ষ ডলারের বেশি আয়ের পরিবারেও লেফটোভারের ব্যবহার বেড়েছে।

বড় খাদ্য কোম্পানিও এই প্রবণতা ধরেছে। ক্রাফট হেইঞ্জ থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে “Leftover Gravy” নামে টার্কি গ্রেভির নতুন স্কুইজ বোতল বাজারে এনেছে।

নাশভিলের ফুড ব্লগার আমান্ডা ফ্রেডরিকসন ইনস্টাগ্রামে “ফ্রিজ ফরেজিং”—ফ্রিজে যা আছে তাই দিয়ে রান্না—ট্রেন্ডটি ফের জনপ্রিয় করেছেন। তাঁর কথায়, “খাবার ফেলে দিলে আপনি আসলে টাকা ফেলে দিচ্ছেন।”

সীমাবদ্ধতাও আছে—সব খাবারের দ্বিতীয় জীবন নেই

লেফটোভার নিয়ে উচ্ছ্বাস বাড়লেও এর বাস্তব সীমা রয়েছে। বমগার্টনার বলেন, গ্রিলড স্টেক তিনদিন ফ্রিজে থাকলে বৃহস্পতিবার তা খাওয়ার সাহস আর থাকে না।

কৃষি দপ্তরও নির্দেশিকা দিয়েছে—লেফটোভার কীভাবে সংরক্ষণ, গরম, গলানো এবং পুনরায় ব্যবহারের ‘leftover leftovers’ সামলানো যায়।

আর বেয়ার? তাঁর ব্রথ রান্নার দিনের গন্ধে তাঁর মা দুইদিন বাড়িতে আসেন না—তাঁর কাছে তা ‘কলোনোস্কোপি প্রস্তুতি’র তরলের মতোই দুঃসহ। বেয়ার স্বীকার করেন—“গন্ধ সত্যিই ঘর ভরে ফেলে।”

এভাবেই লেফটোভার–নির্ভরতা একদিকে সাশ্রয়, অন্যদিকে সৃজনশীলতার জায়গা তৈরি করছে—যদিও ফ্রিজের গভীরে থাকা কিছু জিনিসের সঙ্গে এখনো বন্ধুত্ব হয়নি অনেকেরই।

#USA #Food #Inflation #Lifestyle #Sarakhon #ThePresentWorld