ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে পারে।
খামেনির মৃত্যু ও সরকারি ঘোষণা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিজের দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন। একই হামলায় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া খামেনি ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযান ছিল সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। ইসরায়েল এটিকে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
হামলার পর ইরানও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দেয়। ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিস্ফোরণ ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের হরমুজগান প্রদেশে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ জনে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। ইসরায়েলেও প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রাণহানি, ওমানে বন্দর এলাকায় ড্রোন হামলা, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবেও হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ক্ষমতার রদবদল ও অন্তর্বর্তী কাউন্সিল
খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে ইরান দ্রুত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে। এতে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গুলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং আলিরেজা আরাফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে ইরানের লাল রেখা অতিক্রম করা হয়েছে। এর ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। লেবানন ও ইয়েমেনে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোও প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে সীমান্তজুড়ে রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















