ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং সভ্য রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
![]()
মস্কোর ক্ষোভ ও কড়া বার্তা
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন—এই ঘটনায় রাশিয়া গভীরভাবে মর্মাহত। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মতো পদ্ধতিকে তারা দৃঢ়ভাবে নিন্দা করেছে।
রাশিয়ার মতে, রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্য করে হামলা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই ভেঙে দেয় না, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেসামরিক প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংস
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চলমান বৈরিতার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি কন্যাশিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতার চিত্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে।
রাশিয়া বলেছে, যুদ্ধের বিস্তার অব্যাহত থাকলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল আরও বড় অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
মস্কো অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে বলে মনে করে রাশিয়া।

একই সঙ্গে উপসাগরীয় সব রাষ্ট্রের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















