০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত, খামেনির মৃত্যুর পরও শক্ত অবস্থানে তেহরান ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা, খামেনির মৃত্যুর পরও অটল আইআরজিসি—ইরানের ক্ষমতার ভিত কি আরও শক্ত হলো? হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুদ্ধের ছায়া, তেলের দামে বিশ্বজুড়ে ঝড়ের আশঙ্কা উপসাগরে ইরানের পাল্টা হামলা, দুবাই–দোহা–মানামায় বিস্ফোরণ, বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা গাজীপুরে আসামি ধরতে গিয়ে স্বজনদের হামলা, আহত ৭ পুলিশ, গ্রেফতার ৪ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা: ওপেকের উৎপাদন বাড়লেও কেন থামছে না তেলের দামের আগুন ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে স্টারমারের অনুমতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তীব্র খামেনি হত্যায় রাশিয়ার তীব্র নিন্দা, যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা নিয়ে নিজ দেশেই ভাঙন, মাত্র এক চতুর্থাংশের সমর্থন

পাকিস্তানে রাজনৈতিক বন্দিদের সাক্ষাৎ–বিতর্ক: কারাবিধি আসলে কী বলে

ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় সাক্ষাৎ–সুবিধা সীমিত রাখার অভিযোগ পাকিস্তানে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। সরকার, পিটিআই এবং কারা কর্তৃপক্ষের ভিন্ন অবস্থান সামনে আসায় মূল প্রশ্ন—দেশের কারাবিধি রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য কী নিয়ম নির্ধারণ করে, এবং সেই নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে।


পাকিস্তান সরকার বলছে, আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন। কিন্তু এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহেল আফ্রিদির সাক্ষাৎ দাবি কারাবিধির লঙ্ঘন।
এ মন্তব্যের পর পিটিআই অভিযোগ তোলে—আদালত অনুমোদিত সাক্ষাতের সময়সূচি ইচ্ছাকৃতভাবে মানা হচ্ছে না।

সংসদীয় সচিব ব্যারিস্টার দানিয়াল চৌধুরীর ভাষ্য—একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে রাজনৈতিক পরামর্শ নেওয়া স্পষ্টতই কারাবিধি-বহির্ভূত।
এর পরেই জনমনে প্রশ্ন—রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য পাকিস্তানের কারা-নিয়ম আসলে কী বলে?


সাক্ষাৎ ও ফোন সুবিধা
পাঞ্জাব কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সব বন্দিই সপ্তাহে পাঁচজন আত্মীয় বা আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। পাশাপাশি সপ্তাহে ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহারের অনুমতি থাকে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও সপ্তাহে একবার সাক্ষাৎ ও ফোন সুবিধা পান। আদিয়ালা কারাগারে এ জন্য একাধিক পিসিও চালু রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বন্দিদের ফোনকল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে আলাদা সেল এবং প্রতিদিন ডাক্তারি পরীক্ষার নিয়মও প্রচলিত।


আচরণভিত্তিক সিদ্ধান্ত
কারাবিধি অনুসারে সাক্ষাৎ বা ফোন সুবিধা পুরোপুরিই বন্দির আচরণের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ম মেনে চললে সুবিধা বহাল থাকে, না হলে সুপারিনটেনডেন্ট তা সীমিত বা বাতিল করতে পারেন। ফলে সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে।

গুরুতর অপরাধ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সুবিধা বাতিল হতে পারে।


পিটিআই-এর অভিযোগ ও সরকারি অবস্থান
কারা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—ইমরান খানের দর্শনার্থীরা সাক্ষাৎ শেষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেন। আলিমা খানসহ অনেকে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। এতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা তাদের ভাষায় আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করছে।

পিটিআই অভিযোগ করছে—আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাৎ সীমিত করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সহকারী সেনেটর রানা সানাউল্লাহ মনে করেন—পরিবারের সঙ্গে ইমরান খানের সাক্ষাৎ হওয়া উচিত, তবে শর্তসাপেক্ষে।
তার ভাষায়, এক ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে ৯০ মিনিটের প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ কোনো আইনেই নেই।


অতীতের অভিজ্ঞতা
এক কর্মকর্তা জানান—নওয়াজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজ ও সাফদার আওয়ানের মতো উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক বন্দিরাও ভালো আচরণে ফোন সুবিধা পেয়েছিলেন।
এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন—অতীতে রাজনৈতিক বন্দিদের সাক্ষাৎ কেবল তাদের সম্মতিতেই হতো। অতিথি তালিকা তারা নিজে দিতেন, সুপারিনটেনডেন্ট যাচাই করে তা অনুমোদন করতেন। কখনও সাংবাদিকদের ‘পরিবারের সদস্য’ পরিচয় ব্যবহার করতে হতো সাক্ষাৎ নিশ্চিত করার জন্য।

পিটিআইয়ের ভেতরেও অতিথি তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সালমান আকরাম রাজা ও ব্যারিস্টার আলি জাফরের মধ্যেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।


#পাকিস্তান #ইমরান_খান #কারাবন্দি #কারাবিধি #আদিয়ালা #পিটিআই #রাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত, খামেনির মৃত্যুর পরও শক্ত অবস্থানে তেহরান

পাকিস্তানে রাজনৈতিক বন্দিদের সাক্ষাৎ–বিতর্ক: কারাবিধি আসলে কী বলে

০৫:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় সাক্ষাৎ–সুবিধা সীমিত রাখার অভিযোগ পাকিস্তানে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। সরকার, পিটিআই এবং কারা কর্তৃপক্ষের ভিন্ন অবস্থান সামনে আসায় মূল প্রশ্ন—দেশের কারাবিধি রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য কী নিয়ম নির্ধারণ করে, এবং সেই নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে।


পাকিস্তান সরকার বলছে, আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন। কিন্তু এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহেল আফ্রিদির সাক্ষাৎ দাবি কারাবিধির লঙ্ঘন।
এ মন্তব্যের পর পিটিআই অভিযোগ তোলে—আদালত অনুমোদিত সাক্ষাতের সময়সূচি ইচ্ছাকৃতভাবে মানা হচ্ছে না।

সংসদীয় সচিব ব্যারিস্টার দানিয়াল চৌধুরীর ভাষ্য—একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে রাজনৈতিক পরামর্শ নেওয়া স্পষ্টতই কারাবিধি-বহির্ভূত।
এর পরেই জনমনে প্রশ্ন—রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য পাকিস্তানের কারা-নিয়ম আসলে কী বলে?


সাক্ষাৎ ও ফোন সুবিধা
পাঞ্জাব কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সব বন্দিই সপ্তাহে পাঁচজন আত্মীয় বা আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। পাশাপাশি সপ্তাহে ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহারের অনুমতি থাকে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও সপ্তাহে একবার সাক্ষাৎ ও ফোন সুবিধা পান। আদিয়ালা কারাগারে এ জন্য একাধিক পিসিও চালু রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বন্দিদের ফোনকল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে আলাদা সেল এবং প্রতিদিন ডাক্তারি পরীক্ষার নিয়মও প্রচলিত।


আচরণভিত্তিক সিদ্ধান্ত
কারাবিধি অনুসারে সাক্ষাৎ বা ফোন সুবিধা পুরোপুরিই বন্দির আচরণের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ম মেনে চললে সুবিধা বহাল থাকে, না হলে সুপারিনটেনডেন্ট তা সীমিত বা বাতিল করতে পারেন। ফলে সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে।

গুরুতর অপরাধ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সুবিধা বাতিল হতে পারে।


পিটিআই-এর অভিযোগ ও সরকারি অবস্থান
কারা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—ইমরান খানের দর্শনার্থীরা সাক্ষাৎ শেষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেন। আলিমা খানসহ অনেকে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। এতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা তাদের ভাষায় আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করছে।

পিটিআই অভিযোগ করছে—আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাৎ সীমিত করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সহকারী সেনেটর রানা সানাউল্লাহ মনে করেন—পরিবারের সঙ্গে ইমরান খানের সাক্ষাৎ হওয়া উচিত, তবে শর্তসাপেক্ষে।
তার ভাষায়, এক ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে ৯০ মিনিটের প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ কোনো আইনেই নেই।


অতীতের অভিজ্ঞতা
এক কর্মকর্তা জানান—নওয়াজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজ ও সাফদার আওয়ানের মতো উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক বন্দিরাও ভালো আচরণে ফোন সুবিধা পেয়েছিলেন।
এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন—অতীতে রাজনৈতিক বন্দিদের সাক্ষাৎ কেবল তাদের সম্মতিতেই হতো। অতিথি তালিকা তারা নিজে দিতেন, সুপারিনটেনডেন্ট যাচাই করে তা অনুমোদন করতেন। কখনও সাংবাদিকদের ‘পরিবারের সদস্য’ পরিচয় ব্যবহার করতে হতো সাক্ষাৎ নিশ্চিত করার জন্য।

পিটিআইয়ের ভেতরেও অতিথি তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সালমান আকরাম রাজা ও ব্যারিস্টার আলি জাফরের মধ্যেও এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।


#পাকিস্তান #ইমরান_খান #কারাবন্দি #কারাবিধি #আদিয়ালা #পিটিআই #রাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট