০২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
কদমতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ান মিন্টুর আবুধাবিতে খোলা থাকবে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কবার্তা ঢাবিতে খামেনির গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভে সরব শিক্ষার্থীরা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ৯ নিহত, নিখোঁজ ১১, আহত শতাধিক ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ৯ নিহত, নিখোঁজ ১১, আহত শতাধিক ইরান–ওমান উত্তেজনা তীব্র: ‘কিছুটা বিচ্ছিন্ন’ সশস্ত্র বাহিনী, ড্রোন হামলার পর কূটনীতির আহ্বান ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত, খামেনির মৃত্যুর পরও শক্ত অবস্থানে তেহরান ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা, খামেনির মৃত্যুর পরও অটল আইআরজিসি—ইরানের ক্ষমতার ভিত কি আরও শক্ত হলো? হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুদ্ধের ছায়া, তেলের দামে বিশ্বজুড়ে ঝড়ের আশঙ্কা উপসাগরে ইরানের পাল্টা হামলা, দুবাই–দোহা–মানামায় বিস্ফোরণ, বাড়ছে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা নিয়ে নিজ দেশেই ভাঙন, মাত্র এক চতুর্থাংশের সমর্থন

ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, মাত্র এক চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক এই হামলার পক্ষে। বিপরীতে উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, আর বড় একটি অংশ এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনি আমেরিকার ভেতরেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। হামলার খবর প্রায় সবাই জানলেও সমর্থনের হার আশানুরূপ নয়—এটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় বার্তা।

Trump cheers death of Iranian leader, says strikes will continue

জনমত জরিপে কী উঠে এল

জরিপে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ নাগরিক হামলাকে সমর্থন করেছেন। ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। ২৯ শতাংশ বলেছেন, তারা নিশ্চিত নন। অর্থাৎ সমর্থনের চেয়ে বিরোধিতা বেশি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী। শুধু বিরোধী শিবিরই নয়, শাসক দলের মধ্যেও এই সংশয় স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বিশাল অংশ ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একই মত প্রকাশ করেছেন।

Thanks be to President Donald J. Trump !! For his quick response and  putting an end to a war without hurting any civilians. Saving the lives of  countless millions And restoring hope

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত, মার্কিন হতাহতের শঙ্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি জনমতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, যদি এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা বাড়ে, তবে তারা এই অভিযানকে সমর্থন থেকে সরে আসতে পারেন। অর্থাৎ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নে সমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে।

BD Today | মধ্যপ্রাচ্য সংকট: বাংলাদেশকে কতটা ভোগাবে?

জ্বালানি দামের চাপ বাড়ার আশঙ্কা

হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জরিপে ৪৫ শতাংশ নাগরিক বলেছেন, যদি তেল বা গ্যাসের দাম বাড়ে, তবে তারা ইরানবিরোধী এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করবেন না।

বিশেষ করে স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি এখনো ভোটারদের প্রধান ইস্যু। ফলে যুদ্ধ ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি-রেমিট্যান্সে নতুন শঙ্কা

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব

এই সামরিক পদক্ষেপের মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার সামান্য কমেছে। সর্বশেষ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশনীতি নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নই আগামী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

সার্বিকভাবে চিত্রটি স্পষ্ট—ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঐকমত্য নেই। বরং সমাজ ও রাজনীতিতে বিভাজনই বেশি দৃশ্যমান।

জনপ্রিয় সংবাদ

কদমতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ান মিন্টুর

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা নিয়ে নিজ দেশেই ভাঙন, মাত্র এক চতুর্থাংশের সমর্থন

১২:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, মাত্র এক চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক এই হামলার পক্ষে। বিপরীতে উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, আর বড় একটি অংশ এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনি আমেরিকার ভেতরেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। হামলার খবর প্রায় সবাই জানলেও সমর্থনের হার আশানুরূপ নয়—এটাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় বার্তা।

Trump cheers death of Iranian leader, says strikes will continue

জনমত জরিপে কী উঠে এল

জরিপে দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ নাগরিক হামলাকে সমর্থন করেছেন। ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। ২৯ শতাংশ বলেছেন, তারা নিশ্চিত নন। অর্থাৎ সমর্থনের চেয়ে বিরোধিতা বেশি।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আগ্রহী। শুধু বিরোধী শিবিরই নয়, শাসক দলের মধ্যেও এই সংশয় স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বিশাল অংশ ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একই মত প্রকাশ করেছেন।

Thanks be to President Donald J. Trump !! For his quick response and  putting an end to a war without hurting any civilians. Saving the lives of  countless millions And restoring hope

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত, মার্কিন হতাহতের শঙ্কা

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযানে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি জনমতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, যদি এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা বাড়ে, তবে তারা এই অভিযানকে সমর্থন থেকে সরে আসতে পারেন। অর্থাৎ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নে সমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে।

BD Today | মধ্যপ্রাচ্য সংকট: বাংলাদেশকে কতটা ভোগাবে?

জ্বালানি দামের চাপ বাড়ার আশঙ্কা

হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জরিপে ৪৫ শতাংশ নাগরিক বলেছেন, যদি তেল বা গ্যাসের দাম বাড়ে, তবে তারা ইরানবিরোধী এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করবেন না।

বিশেষ করে স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি এখনো ভোটারদের প্রধান ইস্যু। ফলে যুদ্ধ ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি-রেমিট্যান্সে নতুন শঙ্কা

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব

এই সামরিক পদক্ষেপের মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার সামান্য কমেছে। সর্বশেষ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশনীতি নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নই আগামী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

সার্বিকভাবে চিত্রটি স্পষ্ট—ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঐকমত্য নেই। বরং সমাজ ও রাজনীতিতে বিভাজনই বেশি দৃশ্যমান।