যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ভেনেজুয়েলার “উপরের এবং আশেপাশের” আকাশপথকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ধরে চলা উচিত। তাঁর এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও এর তাৎপর্য
• ট্রাম্প শনিবার তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, ভেনেজুয়েলার আকাশপথকে সম্পূর্ণ বন্ধ বিবেচনা করা উচিত।
• তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন “এয়ারলাইন, পাইলট, ড্রাগ ডিলার ও হিউম্যান ট্রাফিকারদের” উদ্দেশে—মাদুরোকে নয়।
• হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেনি—এটি নতুন নীতি কি শুধু রাজনৈতিক বার্তা।
এ ঘোষণার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপ প্রয়োগের কৌশল, যার মধ্যে রয়েছে ক্যারিবীয় সাগর ও ইস্টার্ন প্যাসিফিক ওশানে সন্দেহভাজন মাদকবাহী ছোট নৌকার ওপর হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া: ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’
• ভেনেজুয়েলার সরকার ট্রাম্পের দাবি “জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান” করেছে।
• তারা বলেছে, এটি একটি “ঔপনিবেশিক হুমকি”, যা দেশের আকাশসীমা, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
• দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে—ট্রাম্পের বক্তব্য “একতরফা, বৈরী এবং কোনো আইনি ভিত্তি নেই”।
একই সঙ্গে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত দ্বিসাপ্তাহিক ফ্লাইট হঠাৎ একতরফাভাবে স্থগিত করেছে। চলতি বছর দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কারাকাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এয়ারলাইনের উদ্বেগ ও এফ-এ-এ (FAA)-এর সতর্কতা
• আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলা যাওয়া ফ্লাইট বাতিল শুরু করেছে।
• যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন—এফ-এ-এ—পা
• যদিও এফ-এ-এ-এর ক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ, তারা বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল সম্পর্কে নিয়মিত সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে এবং ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আই-সি-এ-ও)-র সঙ্গে সমন্বয় করে।
মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি
• যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নার্কো-টাররিজম-এর অভিযোগ রয়েছে।
• মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী এলাকায় বোম্বার এয়ারক্রাফট পরিচালনা করেছে।
• যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউ-এস-এস জেরাল্ড আর. ফোর্ড অঞ্চলটিতে পাঠানো হয়েছে—যা সাম্প্রতিক দশকে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় মিলিটারি বিল্ডআপ।
• “অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার” নামে পরিচালিত এই মিশনে এখন প্রায় এক ডজন নৌজাহাজ ও প্রায় ১২ হাজার নেভি সেলার ও মেরিনস যুক্ত রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে নজরদারি দাবি
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের নৌকা টার্গেট করার সময় ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ নাকি মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন—সব ক্রু মেম্বারকে হত্যার জন্য। এ খবর প্রকাশের পর:
• রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন—
সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটি এ ঘটনার “পূর্ণাঙ্গ তদন্ত” করবে।
ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার উদ্যোগ
• ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মিলিটারি ও নন-মিলিটারি দুই পথই বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সিআইএ-এর কোভার্ট অ্যাকশন-এর সম্ভাবনাও রয়েছে।
• ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন—তিনি চাইলে মাদুরোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
• নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে—ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে সম্ভবত কথা হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
#যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ডোনাল্ড_ট্রাম্প নিকোলাস_মাদুরো আকাশপথ_সংকট সামরিক_অভিযান সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















