১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
এ আর রহমানকে ঘিরে বিতর্কে পাশে দাঁড়ালেন নাইলা আল খাজা, ‘শব্দ নয়, প্রাপ্য সম্মান দিন’ জাতিসংঘে পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত হলে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি আল জাজিরার প্রতিবেদন:বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কী এবার ক্ষমতায় যাবে? অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেয় না: বাংলাদেশিদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত যশোরে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা শেয়ারবাজারে দরপতনে লেনদেনের গতি কমল

২০২৬ সালে সোনার দাম কোন পথে যাবে? রেকর্ড গড়ার পর বাজারে অনিশ্চয়তা

২০২৫ সালে সোনার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাজারে আসছে বাড়তি অনিশ্চয়তা। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল বলছে, সামনে স্থিতিশীলতা ও হঠাৎ ওঠানামা—দু’ধরনের সম্ভাবনাই রয়েছে।


২০২৫ সালের রেকর্ড—কেন এত বেড়েছিল সোনার দাম?

২০২৫ সালে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বছরের প্রথমার্ধে দাম ২৬ শতাংশ বাড়ে এবং পুরো বছরে লাভ দাঁড়ায় ৬০ শতাংশেরও বেশি।
বছরের মধ্যে ৫০টিরও বেশি সময়ে সোনা নতুন সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে।

এর মূল কারণ ছিল—
• বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা
• দুর্বল ডলার
• সুদের হার কমানো
• কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক কেনাকাটা

বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল (WGC) জানায়, ২০২৬ সালে দাম স্থিতিশীল থাকলেও বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি রয়ে গেছে।


২০২৬ সালে সোনার বাজার: স্থিতিশীল নাকি অস্থির?

২০২৬ সালে সোনার বাজারের দিকনির্দেশনা এখনো পরিষ্কার নয়। WGC বলছে—
• বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৭–২.৮ শতাংশে থাকতে পারে
• যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কিছুটা কমতে পারে

এতে বাজারে সীমিত স্থিতিশীলতা থাকলেও প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভর করবে চলমান ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক সংকট এবং বাজারচরিত্রের ওপর।


রেকর্ড বৃদ্ধির পর প্রশ্ন: এবার সোনা কোন দিকে?

২০২৫ সালের রেকর্ড বৃদ্ধির পর এখন বড় প্রশ্ন—২০২৬ সালে সোনা কি আরও বাড়বে, নাকি স্থির থাকবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
• বাজার সংকুচিত থাকতে পারে
• খুব সীমিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও দেখা যেতে পারে

WGC তাদের গোল্ড ভ্যালুয়েশন কাঠামো ব্যবহার করে বিশ্লেষণে জানিয়েছে, বড় ধরনের উত্থান বা পতনের উভয় আশঙ্কাই রয়েছে।


অর্থনীতি, সুদের হার ও সম্ভাব্য মন্দার প্রভাব

বাজার পরিস্থিতি নির্ধারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুদের হার বড় ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি ২.৭–২.৮ শতাংশ থাকলে এবং ফেড সুদের হার কমালে তা সোনার জন্য অনুকূল হতে পারে।

তবে—
অর্থনীতি যদি মৃদু মন্দায় পড়ে, তাহলে সোনার দাম ৫–১৫% বাড়তে পারে।
অর্থনীতি যদি বড় ধরনের মন্দায় পড়ে (ডুম লুপ), দাম ১৫–৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।

নির্বাচনী বছর, সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিতিশীলতা এবং চলমান যুদ্ধ বাজারকে আরও অস্থির করতে পারে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা—বাজারে স্থায়ী প্রভাব?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা ২০২৫ সালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উন্নয়নশীল দেশগুলো ডলার-নির্ভরতা কমাতে ব্যাপক সোনা কিনেছে।

WGC মনে করে—
• ২০২৬ সালেও এই কেনাকাটা অব্যাহত থাকতে পারে
• তবে হঠাৎ কেনাকাটা কমে গেলে দামে নিম্নমুখী চাপ পড়তে পারে


ভারত ও চীনের বাজার: অনিশ্চয়তার আরেক স্তর

ভারত ও চীনের বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে।

ভারত—
• প্রায় ২০০ টন সোনার গহনা ঋণ হিসেবে রাখা
• সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে
• তবে মন্দা হলে চাহিদা কমতে পারে

চীন—
• বীমা কোম্পানি, পেনশন ফান্ডসহ নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছে
• এতে বাজারে নতুন প্রবাহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে


সামনে কী দেখা যাচ্ছে?

সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ সালে সোনা একটি অনিশ্চয়তার সময় পার করছে।
দাম এখনই শিখরে পৌঁছেছে কিনা তা নির্ভর করবে—
• বৈশ্বিক অর্থনীতি
• রাজনৈতিক উত্তেজনা
• ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে বাজারের প্রতিক্রিয়া

তবে বিশেষজ্ঞরা একমত—নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদা কমবে না।


#gold #market #economy #WGC #investment


জনপ্রিয় সংবাদ

এ আর রহমানকে ঘিরে বিতর্কে পাশে দাঁড়ালেন নাইলা আল খাজা, ‘শব্দ নয়, প্রাপ্য সম্মান দিন’

২০২৬ সালে সোনার দাম কোন পথে যাবে? রেকর্ড গড়ার পর বাজারে অনিশ্চয়তা

০৭:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৫ সালে সোনার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাজারে আসছে বাড়তি অনিশ্চয়তা। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল বলছে, সামনে স্থিতিশীলতা ও হঠাৎ ওঠানামা—দু’ধরনের সম্ভাবনাই রয়েছে।


২০২৫ সালের রেকর্ড—কেন এত বেড়েছিল সোনার দাম?

২০২৫ সালে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বছরের প্রথমার্ধে দাম ২৬ শতাংশ বাড়ে এবং পুরো বছরে লাভ দাঁড়ায় ৬০ শতাংশেরও বেশি।
বছরের মধ্যে ৫০টিরও বেশি সময়ে সোনা নতুন সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে।

এর মূল কারণ ছিল—
• বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা
• দুর্বল ডলার
• সুদের হার কমানো
• কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক কেনাকাটা

বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিল (WGC) জানায়, ২০২৬ সালে দাম স্থিতিশীল থাকলেও বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি রয়ে গেছে।


২০২৬ সালে সোনার বাজার: স্থিতিশীল নাকি অস্থির?

২০২৬ সালে সোনার বাজারের দিকনির্দেশনা এখনো পরিষ্কার নয়। WGC বলছে—
• বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৭–২.৮ শতাংশে থাকতে পারে
• যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কিছুটা কমতে পারে

এতে বাজারে সীমিত স্থিতিশীলতা থাকলেও প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভর করবে চলমান ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক সংকট এবং বাজারচরিত্রের ওপর।


রেকর্ড বৃদ্ধির পর প্রশ্ন: এবার সোনা কোন দিকে?

২০২৫ সালের রেকর্ড বৃদ্ধির পর এখন বড় প্রশ্ন—২০২৬ সালে সোনা কি আরও বাড়বে, নাকি স্থির থাকবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
• বাজার সংকুচিত থাকতে পারে
• খুব সীমিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও দেখা যেতে পারে

WGC তাদের গোল্ড ভ্যালুয়েশন কাঠামো ব্যবহার করে বিশ্লেষণে জানিয়েছে, বড় ধরনের উত্থান বা পতনের উভয় আশঙ্কাই রয়েছে।


অর্থনীতি, সুদের হার ও সম্ভাব্য মন্দার প্রভাব

বাজার পরিস্থিতি নির্ধারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুদের হার বড় ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি ২.৭–২.৮ শতাংশ থাকলে এবং ফেড সুদের হার কমালে তা সোনার জন্য অনুকূল হতে পারে।

তবে—
অর্থনীতি যদি মৃদু মন্দায় পড়ে, তাহলে সোনার দাম ৫–১৫% বাড়তে পারে।
অর্থনীতি যদি বড় ধরনের মন্দায় পড়ে (ডুম লুপ), দাম ১৫–৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।

নির্বাচনী বছর, সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিতিশীলতা এবং চলমান যুদ্ধ বাজারকে আরও অস্থির করতে পারে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা—বাজারে স্থায়ী প্রভাব?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা ২০২৫ সালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উন্নয়নশীল দেশগুলো ডলার-নির্ভরতা কমাতে ব্যাপক সোনা কিনেছে।

WGC মনে করে—
• ২০২৬ সালেও এই কেনাকাটা অব্যাহত থাকতে পারে
• তবে হঠাৎ কেনাকাটা কমে গেলে দামে নিম্নমুখী চাপ পড়তে পারে


ভারত ও চীনের বাজার: অনিশ্চয়তার আরেক স্তর

ভারত ও চীনের বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে।

ভারত—
• প্রায় ২০০ টন সোনার গহনা ঋণ হিসেবে রাখা
• সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে
• তবে মন্দা হলে চাহিদা কমতে পারে

চীন—
• বীমা কোম্পানি, পেনশন ফান্ডসহ নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছে
• এতে বাজারে নতুন প্রবাহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে


সামনে কী দেখা যাচ্ছে?

সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ সালে সোনা একটি অনিশ্চয়তার সময় পার করছে।
দাম এখনই শিখরে পৌঁছেছে কিনা তা নির্ভর করবে—
• বৈশ্বিক অর্থনীতি
• রাজনৈতিক উত্তেজনা
• ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে বাজারের প্রতিক্রিয়া

তবে বিশেষজ্ঞরা একমত—নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদা কমবে না।


#gold #market #economy #WGC #investment