অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনার মুখে প্রকাশ্যে সমর্থনে এগিয়ে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চলচ্চিত্র নির্মাতা নাইলা আল খাজা। নিজের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ক্ষোভ নয়, এই কিংবদন্তির প্রাপ্য সম্মানই হওয়া উচিত সবার অগ্রাধিকার।
নতুন চলচ্চিত্র ‘বাব’–এ এ আর রহমানের সঙ্গে কাজ করা নাইলা আল খাজা বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, রহমান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বছরের পর বছর কাটানো সময় থেকেই তাঁর এই বক্তব্য, দূর থেকে দেওয়া কোনো মতামত নয়।
সহযোগিতার অভিজ্ঞতা ও মানবিক দিক
নাইলা আল খাজা লিখেছেন, ‘বাব’ চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় সুর তৈরির প্রতিটি মুহূর্তেই রহমানের উদারতা ও খোলা মন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নতুন ভাবনা নিয়ে তিনি এগিয়ে গেলে কোনো রকম বিচার বা সংকীর্ণতা ছাড়াই রহমান সব কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং কল্পনার স্বাধীনতা দিতেন। তাঁর মতে, এই উদার মানসিকতাই একজন সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মানুষের পরিচয়।
ভ্রমণের একটি স্মৃতি তুলে ধরে নাইলা জানান, একবার রহমান ও তাঁর মেয়ে রহিমার সঙ্গে দুবাই বিমানবন্দরে নামার পর ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও অসংখ্য মানুষের অনুরোধে তিনি বারবার থেমেছেন। প্রতিটি মানুষের জন্য ছিল শান্ত হাসি, নম্র ব্যবহার ও আন্তরিকতা। সেই দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, কীভাবে একজন মানুষ সবাইকে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে পারেন।

পারিবারিক ভালোবাসা ও কিংবদন্তির বোঝা
নাইলা আল খাজার ভাষায়, রহমানের সন্তানদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দেখলেই মানুষটিকে বোঝা যায়। সেই ভালোবাসা কৃত্রিম নয়, স্বাভাবিক ও গভীর। তিনি বলেন, কিংবদন্তি হয়ে উঠলে মানুষকে নিয়ে ধারণা তৈরি করা সহজ হয়, কিন্তু তাঁকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাংস্কৃতিক প্রভাব ও সম্মানের আহ্বান
নাইলা আল খাজা আরও বলেন, এ আর রহমান অসংখ্য মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েছেন, নতুন দরজা খুলেছেন এবং সংস্কৃতিকে মর্যাদার সঙ্গে বহন করেছেন। একজন আরব হিসেবে ভারতীয় সংগীতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় রহমানের সুরের মাধ্যমেই, যেখানে অনুভূতির জন্য অনুবাদ লাগে না। তাঁর মতে, রহমান একজন জাতীয় সম্পদ, আর সম্পদের প্রাপ্য সম্মান শব্দের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
সবশেষে তিনি আহ্বান জানান, কিংবদন্তির কথাবার্তা বিকৃতভাবে না দেখে সহনশীলতা, সম্মান ও ভালোবাসাকে বেছে নেওয়ার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















