ভিয়েতনামের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেল। নিং তুয়ান–২ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাপান সরে দাঁড়ানোয় হ্যানয়ের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাপানের সিদ্ধান্তে ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ জোগানে নতুন চাপ
জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো জানিয়েছেন, সময়সীমা অত্যন্ত কম হওয়ায় নিং তুয়ান–২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ২ থেকে ৩.২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বড় পরিকল্পনার অংশ ছিল।
বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং ও অ্যাপল (স্যামসাং, অ্যাপল)–এর বড় কারখানা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে ভিয়েতনামে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এর সঙ্গে খরা ও টাইফুনের মতো চরম আবহাওয়ার প্রভাব মিলে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট তৈরি হচ্ছে।
স্থগিত প্রকল্প পুনরায় চালুর চেষ্টাও ব্যর্থ
২০১০-এর দশকের শুরুতে দুটি পরমাণু কেন্দ্রের কাজ শুরু হলেও নিরাপত্তা ও বাজেট উদ্বেগে ভিয়েতনাম ২০১৬ সালে এগুলো স্থগিত করে। পরে পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় চালুর পর হ্যানয় রাশিয়া ও জাপানকে কাজে ফেরার অনুরোধ জানায়।
রাশিয়ার হাতে থাকা নিং তুয়ান–১-এর কোনো চুক্তি এখনো হয়নি বলে ভিয়েতনামের এক কর্মকর্তা জানান।
জাপান নভেম্বরেই জানায় যে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী নিং তুয়ান–১ এবং নিং তুয়ান–২—দুটোই ২০৩৫ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল।

হ্যানয়–টোকিও সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন
হ্যানয়ের কেন্দ্রীয় এলাকায় পেট্রল মোটরবাইক নিষিদ্ধের পরিকল্পনায় বাজারের শীর্ষ ব্র্যান্ড হোন্ডা (হোন্ডা)-র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাপানি দূতাবাসের পাঠানো চিঠিরও এখনো জবাব মেলেনি। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে।
ফুকুশিমার পর নতুন জনবল তৈরিতে ব্যস্ত জাপান
ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপানের পরমাণু খাতের দক্ষ জনবল পুনর্গঠনে সময় লাগছে। ফলে জাপানি কোম্পানিগুলো ভিয়েতনামের প্রকল্পে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি—এ তথ্য দিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি।
জাপানের বিকল্প ভাবনা: ছোট মডুলার রিয়্যাক্টর
রাষ্ট্রদূত ইতো বলেন, ভবিষ্যতে ছোট মডুলার রিয়্যাক্টর (স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর) স্থাপনের বিষয়ে জাপান ভিয়েতনামের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ খুঁজছে।
এদিকে ফরাসি, দক্ষিণ কোরিয়ান ও মার্কিন (ইউ এস) বিনিয়োগকারীরাও নিং তুয়ান প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















