এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) যত উন্নত হোক, মানুষের চেতনা নকল করা বা বোঝা তার পক্ষে সম্ভব নয়—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমনই মত দিচ্ছেন দার্শনিক ও প্রযুক্তিবিদরা। তাঁদের মতে, বড় ভাষা মডেল বা এলএলএম কেবল মানব ভাষার বাহ্যিক গঠন অনুসরণ করে; মানুষের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা বা হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ অর্থ—কোনোটাই এআই বুঝতে পারে না।
মানসিক প্রক্রিয়া কি সফটওয়্যার প্যাটার্ন?
ইতিহাসে মানুষের মস্তিষ্ককে বারবার সেই যুগের প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছে। প্লেটো মানুষের মনকে তুলনা করেছিলেন লেখার ফলকের সঙ্গে; ফ্রয়েডের যুগে মস্তিষ্ক কল্পিত হয়েছিল চাপধরা বাষ্পচেম্বারের মতো; সাম্প্রতিক দশকে তা হয়ে ওঠে কম্পিউটারের সফটওয়্যার-চালিত মডেল।
এখন, এআই যুগে, অনেকে দাবি করছেন—চেতনা নাকি আসলে একটি জটিল অ্যালগরিদম। কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্টিফেন ওলফ্রাম বলেছেন, মানুষের চেতনা বুঝতে “অতিরিক্ত রহস্য” দরকার নেই; এলএলএম-ই নাকি শেষ প্রমাণ যে ভাষা মানে কেবল প্যাটার্ন।

ভাষার অর্থ বোঝা আর ভাষা নকল করা এক জিনিস নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই সেই পুরনো ভুল—যন্ত্রকে মানুষ ভেবে নেওয়া। এআই শব্দ সাজাতে পারে, বাক্য নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের ‘অন্তর্জগত’—যাকে প্রাচীন দার্শনিকেরা বলতেন inner logos—তা বোঝার ক্ষমতা এআই-এর নেই।
মানুষ যখন বলে “How do you do?” বা “আমি রাগান্বিত”—তার ভেতরে থাকে আবেগ, অতীত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত। কিন্তু এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কেবল শোনা প্যাটার্নের অনুকরণ করে। কোনো বাক্য উচ্চারণ করলেও এর ভেতরে কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ নেই।
মানুষ শিল্প সৃষ্টি করে, ভালোবাসে, ঘৃণা করে, স্মৃতি বহন করে—এই জৈব, আবেগপূর্ণ, অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক গঠন কোনোভাবেই যন্ত্রের প্রতিলিপি নয়। সমালোচকদের ভাষায়—আমরা যন্ত্র বানাই; তাই যন্ত্র মানুষের মতো হবে—এ ধারণাই ভুল।
মানুষ যদি নিজেরই তৈরি প্রযুক্তিতে চেতনা আর হৃদয়ের স্থান খুঁজতে থাকে, তবে সেই মানবিক গভীরতাই হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। আর তাই গবেষকেরা সতর্ক করছেন—মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা, তার অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া—এই মুহূর্তে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















