শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের একটি ইমামবারগাহে আত্মঘাতী হামলায় নিহতদের দাফন শুরু হয়েছে শনিবার। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। শোকাহত স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের আবহ, একই সঙ্গে নতুন হামলার আশঙ্কায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা জোরদার, শহরজুড়ে সতর্কতা
হামলার পর ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিশেষ কমান্ডো সদস্যরা কড়া পাহারায় ছিলেন। সরকার রাজধানীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করে একে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সমবেদনা, দোষীদের বিচারের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী জানান, ইসলামাবাদের এই হৃদয় বিদারক হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে সমবেদনা ও সহানুভূতির বার্তা এসেছে তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। উপপ্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ এবং ইসলামের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
হামলার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
শুক্রবার এক ব্যক্তি রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা ইমাম বারগাহ প্রাঙ্গণে গুলি চালানোর পর বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ নিহত হন এবং শতাধিক আহত হন। শনিবার একুশ বছর বয়সী আরেক আহতের মৃত্যু হলে মোট প্রাণহানি দাঁড়ায় ৩৬ জনে। গুরুতর আহত কয়েকজন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বড় ধরনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শেষ বিদায়ে জনসমুদ্র, রাষ্ট্রীয় সম্মানেও দাফন
শনিবার রাজধানীতে একাধিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন মাযহাবের আলেম, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। কিছু নিহতের গায়েবানা জানাজাও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদায় করা হয়। হামলায় নিহত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। শোকাহত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ, অনেকেই এই ঘটনাকে মানবতার পরিপন্থী নৃশংসতা বলে আখ্যা দেন।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, গ্রেপ্তার চারজন
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা এই হামলাকে দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নস্যাৎ করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন এবং উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক প্রচার রোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পেশোয়ার ও নওশেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















