পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি শিয়া ইমামবারগাহে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৮০ জন। ঘটনার পর রাতেই হামলার দায় স্বীকার করেছে দায়েশ সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শোক আর আতঙ্কে ইসলামাবাদ
শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণের পর শনিবার নিহতদের কফিন ঘিরে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। হামলাটি শুধু প্রাণহানি নয়, রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মূল পরিকল্পনাকারীসহ একাধিক গ্রেপ্তার
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানায়, প্রযুক্তিগত ও মানব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পেশোয়ার ও নওশেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মঘাতী হামলাকারীর চার সহযোগীকে ও আটক করা হয়েছে।
অভিযানে পুলিশ নিহত
খাইবার পাখতুনখোয়ার নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় এক অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে এক সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন এবং এক কনস্টেবল আহত হন। তদন্তের সূত্র ধরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলার বিবরণ ও দায় স্বীকার
দায়েশ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শাখা এক বিবৃতিতে দাবি করে, হামলাকারী মসজিদের প্রধান ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ভেতরের প্রবেশদ্বারে পৌঁছে বিস্ফোরক জ্যাকেট বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখছে বলে ও ইঙ্গিত দেয়।
পরিবারের সদস্যসহ আরও আটক
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর অভিযানে হামলাকারীর ভাই, মা ও অন্যান্য স্বজনসহ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ইসলামাবাদ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আটক করা হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, হামলার পরিকল্পনা আফগানিস্তানে করা হয়ে থাকতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















