১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা ইরানের অস্থিরতায় বেইজিংয়ের সামনে কঠিন সমীকরণ চীন সফরের আগমুহূর্তে ধাক্কা, কানাডা থেকে আমদানি কমিয়ে দিল বেইজিং সাকস গ্লোবালের দেউলিয়া আবেদন, ঋণের ভারে নেমে এল মার্কিন বিলাসবহুল ফ্যাশনের বড় ধস জাপানের ইয়েন দেড় বছরের সর্বনিম্নে, নির্বাচনী জল্পনায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সুদের হার কমার ইঙ্গিত, মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশে নামার পথে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীল মুদ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের অংশীদারত্ব নিম্ন কার্বন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ইঙ্গিত বিএপির ইরান ঘিরে সরবরাহ শঙ্কায় টানা পঞ্চম দিনে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম রায় বহাল, কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না মঞ্জুরুল

পাকিস্তানে ‘নতুন যুগের অভ্যুত্থান’? সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের হাতে সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে চাঞ্চল্য

পাকিস্তানে কোনো ট্যাংক নামেনি, কারফিউও জারি হয়নি—তবু বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, দেশটি প্রথম “২১শ শতকের অভ্যুত্থান”-এর মুখোমুখি হয়েছে। দুর্বল জাতীয় পরিষদ একটি সংশোধনী পাস করে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরকে তিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রেসিডেন্টের মতো আজীবন দায়মুক্তির সুবিধা দিয়েছে। ফলে মুনীর এখন “সংবিধান-সুরক্ষিত সুপার পোস্ট”-এর অধিকারী, যার জবাবদিহি কার্যত শূন্য।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও পশ্চিমা নীরবতা

মুনীরের ক্ষমতাবৃদ্ধি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো তেমন কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ বছর জেনারেল মুনীর দুবার ওয়াশিংটন সফর করেন, যেখানে তিনি খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার থেকে শুরু করে একাধিক বিতর্কিত চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেন। ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে আখ্যা দিয়েছেন নিজের “প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” হিসেবে।

সমর্থকরা বলছেন, যুদ্ধকালের প্রয়োজন; সমালোচকরা দেখছেন বিপদ

লাহোরভিত্তিক বিশ্লেষকেরা দাবি করছেন, এটি কোনো ক্ষমতা দখল নয়; বরং যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত করতে সামরিক কাঠামোর আধুনিকায়ন। ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মুনীরকে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণক্ষমতা দিতে চায় সেনাবাহিনী। তাঁদের মতে, এতে “জনগণের আস্থা বেড়েছে।”
কিন্তু বিরোধী মত বলছে, মুনীর আগের সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের কৌশলে ফিরে গেছেন—আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা, ভারতের ভেতরে প্রক্সি গোষ্ঠী সক্রিয় করা, এমনকি বেপরোয়া পারমাণবিক হুমকি—যা পাকিস্তানকে “কিম জং উন–ধাঁচের রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

গণবিক্ষোভের ঝড়ের মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন

বহু বছর ধরেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী পর্দার আড়ালে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেছে—এখন সেই আড়াল আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাবন্দি হলেও তাঁর রাজনৈতিক দল দেশজুড়ে বিশাল বিক্ষোভর নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে নতুন করে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুনীরের সর্বময় ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা “শিগগিরই ব্যুমেরাং হতে পারে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা

পাকিস্তানে ‘নতুন যুগের অভ্যুত্থান’? সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের হাতে সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে চাঞ্চল্য

১২:৫৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানে কোনো ট্যাংক নামেনি, কারফিউও জারি হয়নি—তবু বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, দেশটি প্রথম “২১শ শতকের অভ্যুত্থান”-এর মুখোমুখি হয়েছে। দুর্বল জাতীয় পরিষদ একটি সংশোধনী পাস করে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরকে তিন বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রেসিডেন্টের মতো আজীবন দায়মুক্তির সুবিধা দিয়েছে। ফলে মুনীর এখন “সংবিধান-সুরক্ষিত সুপার পোস্ট”-এর অধিকারী, যার জবাবদিহি কার্যত শূন্য।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও পশ্চিমা নীরবতা

মুনীরের ক্ষমতাবৃদ্ধি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো তেমন কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ বছর জেনারেল মুনীর দুবার ওয়াশিংটন সফর করেন, যেখানে তিনি খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার থেকে শুরু করে একাধিক বিতর্কিত চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেন। ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে আখ্যা দিয়েছেন নিজের “প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” হিসেবে।

সমর্থকরা বলছেন, যুদ্ধকালের প্রয়োজন; সমালোচকরা দেখছেন বিপদ

লাহোরভিত্তিক বিশ্লেষকেরা দাবি করছেন, এটি কোনো ক্ষমতা দখল নয়; বরং যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত করতে সামরিক কাঠামোর আধুনিকায়ন। ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মুনীরকে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণক্ষমতা দিতে চায় সেনাবাহিনী। তাঁদের মতে, এতে “জনগণের আস্থা বেড়েছে।”
কিন্তু বিরোধী মত বলছে, মুনীর আগের সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের কৌশলে ফিরে গেছেন—আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা, ভারতের ভেতরে প্রক্সি গোষ্ঠী সক্রিয় করা, এমনকি বেপরোয়া পারমাণবিক হুমকি—যা পাকিস্তানকে “কিম জং উন–ধাঁচের রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

গণবিক্ষোভের ঝড়ের মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন

বহু বছর ধরেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী পর্দার আড়ালে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেছে—এখন সেই আড়াল আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাবন্দি হলেও তাঁর রাজনৈতিক দল দেশজুড়ে বিশাল বিক্ষোভর নেতৃত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে নতুন করে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুনীরের সর্বময় ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা “শিগগিরই ব্যুমেরাং হতে পারে।”