ব্রিটেনের ফার্ন আইল্যান্ডে পাফিন সংখ্যা এক বছরে প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে—বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এটি উদ্বেগজনক সংকেত। একই সময়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বাইরে পাঠানো শেওলার স্পোর ৯ মাস পরও টিকে আছে, যা মহাকাশজীবন গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। আর এস্তোনিয়ায় পাওয়া গেছে ১০,৫০০ বছরের পুরোনো স্টোন এজের ‘চুইংগাম’, যেটিতে মিলেছে এক কিশোরীর দাঁতের দাগ ও লালা।
পাফিন কমছে কেন?
ন্যাশনাল ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রজনন সক্ষম পাফিন জোড়ার সংখ্যা ৩৮,৫০০—গত বছরের ৫০,১০৩ জোড়া থেকে বড় ধরনের পতন। ২০২২–২৩ সালের বার্ড ফ্লু তাদের আঘাত করলেও, গর্তে বাস করা ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভ্যাসের কারণে পাফিন তুলনামূলকভাবে বেঁচে যায়।
কিন্তু ঝড়ের কারণে দ্বীপের মাটি ক্ষয়, খাদ্য হিসেবে স্যান্ড ইলের সংকট এবং ধূসর সিলের সংখ্যা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে প্রজনন পরিবেশ বদলে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, “পাফিন গোনা খুবই কঠিন কাজ”, তাই দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়া কঠিন।
মহাকাশে ৯ মাস—৮০% শেওলা স্পোর টিকে গেল
হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০,000টি শেওলা স্পোর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বাইরের অংশে স্থাপন করেছিলেন। তীব্র রোদে ১২১°C তাপমাত্রা, অন্ধকারে –১৫৭°C শীতলতা, বিকিরণ ও শূন্যাকর্ষণ সত্ত্বেও ৮০ শতাংশের বেশি স্পোর টিকে থাকে।
পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পর বেশিরভাগই অঙ্কুরোদ্গমও করেছে। গবেষকেরা অনুমান করছেন, এরা হয়তো ১৫ বছর পর্যন্ত মহাকাশ পরিবেশে টিকে থাকতে পারত।
গবেষণার প্রধান টোমোমিচি ফুজিতা বলেন, “এগুলো যেন বিবর্তনের তৈরি ছোট ছোট ‘লাইফ পড’—যেগুলো সময় আর মহাকাশ মিলিয়ে বেঁচে থাকার জন্য বানানো।”

স্টোন এজের ‘চুইংগাম’-এ লুকানো মানুষের ইতিহাস
এস্তোনিয়ার প্রাচীন বসতি পুলি থেকে পাওয়া বার্চ টার—স্টোন এজের মানুষের ব্যবহৃত এক ধরনের ‘চুইংগাম’। এতে পাওয়া দাঁতের দাগ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, এটি ছিল এক কিশোরী মেয়ের, যার চোখ ছিল গাঢ়, চুল ছিল বাদামি।
ইতিহাসবিদ বেটানি হিউজ বলেন, “একটি সাধারণ ফেলে দেওয়া জিনিস আমাদের সরাসরি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় অতীতের মানুষের সঙ্গে।”
গবেষকেরা মনে করেন, এটি হয়তো আনন্দের জন্য চিবোনো হয়নি; বরং বার্চ টার নরম করে আঠা বানানোর কাজ করত তরুণেরা, যাদের দাঁত ছিল তুলনামূলকভাবে শক্ত।
#PuffinDecline #ClimateImpact #SpaceResearch #MossInSpace #StoneAgeGum #ScienceNews #Sarakhon #Environment
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















