০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময় ইউরোপের প্রযুক্তিখাতে নতুন ভোর: বিনিয়োগ, প্রতিভা ও উদ্ভাবনে বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ ‘ধুরন্ধর ২’ পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হতে পারে—তবু চিন্তিত নন পরিচালক আদিত্য ধর জার্মানির শিল্পশক্তি ব্যাডেন-ভুর্টেমবার্গে নির্বাচনী আতঙ্ক, গাড়ি শিল্পের সংকটে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ঝড়ের ইঙ্গিত, শান্ত ঘোষণার আড়ালে বাড়ছে বড় সংকটের আশঙ্কা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন শ্রেণি বিভাজন: মূলধারার দল ছেড়ে জনতার ঝোঁক নতুন শক্তির দিকে ভারতের ‘পিছিয়ে পড়া’ মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর লড়াই, সাফিনা হুসাইনের আন্দোলনে বদলাচ্ছে লক্ষ জীবন শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণরা—চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে মৃত্যুফাঁদ স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার: কৌশলগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিলেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

স্পেনে ফ্রাঙ্কোর মতাদর্শের ‘পুনর্জাগরণ’? ৫০ বছর পরও কর্তৃত্ববাদী অতীতের ছায়া

স্পেনের স্বৈরশাসক জেনারেলিসিমো ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো মারা গেছেন ১৯৭৫ সালে। ৩৬ বছরের লৌহশাসনের পর তার মৃত্যুই দেশটিতে গণতন্ত্রের পথ খুলে দেয়। কিন্তু পাঁচ দশক পরে স্পেনে আবারও মাথা তুলছে ফ্রাঙ্কোবাদী চিন্তা—যা অনেকের জন্য বিস্ময় এবং উদ্বেগের কারণ। El Diario–র বিশ্লেষক আনা লোপেস লিখেছেন, “যে মতাদর্শ অতীতে দমন–পীড়ন, হত্যা ও প্রজন্মকে দাসত্বে রেখেছিল, তা স্বাভাবিক নিয়মে বিলীন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি।”

তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি, ডানপন্থার উত্থান

সাম্প্রতিক জরিপ বলছে—১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ মনে করে ফ্রাঙ্কোর শাসন ছিল “ভালো”, আর এক–চতুর্থাংশ মনে করে “কখনো কখনো গণতন্ত্রের চেয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনই উত্তম।” ডানপন্থী অভিবাসনবিরোধী দল ভক্স–এর জনপ্রিয়তা এই ভাবনার প্রতিফলন।
এমন অবস্থার জন্য ইতিহাসবিদরা দায়ী করছেন স্পেনের তথাকথিত “Pact of Forgetting”–কে—ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর পারস্পরিক শান্তির জন্য গৃহীত ভুলে যাওয়ার নীতি। অপরাধে জড়িত বহু ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়; স্কুল–কলেজেও ফ্রাঙ্কোর নির্যাতন, কারাগার, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, নিখোঁজ মানুষ—এসব নিয়ে খুব কমই পড়ানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, এক প্রজন্ম জানেই না কতটা নির্মম ছিল স্বৈরশাসনের যুগ।
El País–এর লেখক সাস্ত্রে স্বীকার করেন—“আমরা স্কুলে খুব কম শিখেছি, কিন্তু জানার দায়িত্ব আমাদেরই ছিল। একটু খোঁজ নিলেই জানা যেত বয়োজ্যেষ্ঠদের গল্প—দমন, নির্যাতন, ভয় আর ক্রোধের ইতিহাস।”

‘ভুলে যাওয়ার’ ডাক—নাকি সতর্কতার কারণ?

আরেক বিশ্লেষক সের্হিও দেল মোলিনো বলছেন, “ফ্রাঙ্কোকে ঘিরে নীরবতা ছিল—এ দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। বই, গবেষণা, ডকুমেন্টারি, স্মৃতিস্তম্ভ—সবই স্পেনে আছে।” বরং সমস্যাটি হলো—রাজনীতির বিতর্কে ফ্রাঙ্কোর নাম ক্রমাগত তোলা হচ্ছে, ফলে তা তরুণদের কাছে “বিদ্রোহের প্রতীক” হয়ে উঠছে। তার মতে, “সম্ভবত এখন সময় এসেছে ফ্রাঙ্কোকে বাদ দিয়ে সামনে এগোনোর। নামটি উচ্চারণ বন্ধ করলে হয়তো মতাদর্শটিও নিভে যাবে।”

La Vanguardia–র সম্পাদকীয় বলছে—আজকের স্পেন সেই পেছানো দেশ নয়, যেখানে “যা নিষিদ্ধ নয়, তা বাধ্যতামূলক”—এমন ছিল স্বৈরশাসনের সময়কার কৌতুক। গণতন্ত্র স্পেনে এনেছে সম্পূর্ণ বদল—স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই এখন দেশটি আধুনিক ইউরোপের সমতুল্য। ইউরোজোনের চেয়েও দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্পেনকে ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করছে।

পঞ্চাশ বছর পর, প্রশ্নটি এখনো তীক্ষ্ণ: স্পেন কি অতীতকে অতিক্রম করতে পারবে, নাকি ফ্রাঙ্কোর ছায়া নতুন প্রজন্মকে আবারও বিভ্রান্ত করছে?

#Francoism #SpainPolitics #Vox #EuropeanRight #Democracy #Authoritarianism #Sarakhon #GlobalAnalysis

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময়

স্পেনে ফ্রাঙ্কোর মতাদর্শের ‘পুনর্জাগরণ’? ৫০ বছর পরও কর্তৃত্ববাদী অতীতের ছায়া

০১:২১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

স্পেনের স্বৈরশাসক জেনারেলিসিমো ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো মারা গেছেন ১৯৭৫ সালে। ৩৬ বছরের লৌহশাসনের পর তার মৃত্যুই দেশটিতে গণতন্ত্রের পথ খুলে দেয়। কিন্তু পাঁচ দশক পরে স্পেনে আবারও মাথা তুলছে ফ্রাঙ্কোবাদী চিন্তা—যা অনেকের জন্য বিস্ময় এবং উদ্বেগের কারণ। El Diario–র বিশ্লেষক আনা লোপেস লিখেছেন, “যে মতাদর্শ অতীতে দমন–পীড়ন, হত্যা ও প্রজন্মকে দাসত্বে রেখেছিল, তা স্বাভাবিক নিয়মে বিলীন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি।”

তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি, ডানপন্থার উত্থান

সাম্প্রতিক জরিপ বলছে—১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ মনে করে ফ্রাঙ্কোর শাসন ছিল “ভালো”, আর এক–চতুর্থাংশ মনে করে “কখনো কখনো গণতন্ত্রের চেয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনই উত্তম।” ডানপন্থী অভিবাসনবিরোধী দল ভক্স–এর জনপ্রিয়তা এই ভাবনার প্রতিফলন।
এমন অবস্থার জন্য ইতিহাসবিদরা দায়ী করছেন স্পেনের তথাকথিত “Pact of Forgetting”–কে—ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর পারস্পরিক শান্তির জন্য গৃহীত ভুলে যাওয়ার নীতি। অপরাধে জড়িত বহু ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়; স্কুল–কলেজেও ফ্রাঙ্কোর নির্যাতন, কারাগার, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, নিখোঁজ মানুষ—এসব নিয়ে খুব কমই পড়ানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, এক প্রজন্ম জানেই না কতটা নির্মম ছিল স্বৈরশাসনের যুগ।
El País–এর লেখক সাস্ত্রে স্বীকার করেন—“আমরা স্কুলে খুব কম শিখেছি, কিন্তু জানার দায়িত্ব আমাদেরই ছিল। একটু খোঁজ নিলেই জানা যেত বয়োজ্যেষ্ঠদের গল্প—দমন, নির্যাতন, ভয় আর ক্রোধের ইতিহাস।”

‘ভুলে যাওয়ার’ ডাক—নাকি সতর্কতার কারণ?

আরেক বিশ্লেষক সের্হিও দেল মোলিনো বলছেন, “ফ্রাঙ্কোকে ঘিরে নীরবতা ছিল—এ দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। বই, গবেষণা, ডকুমেন্টারি, স্মৃতিস্তম্ভ—সবই স্পেনে আছে।” বরং সমস্যাটি হলো—রাজনীতির বিতর্কে ফ্রাঙ্কোর নাম ক্রমাগত তোলা হচ্ছে, ফলে তা তরুণদের কাছে “বিদ্রোহের প্রতীক” হয়ে উঠছে। তার মতে, “সম্ভবত এখন সময় এসেছে ফ্রাঙ্কোকে বাদ দিয়ে সামনে এগোনোর। নামটি উচ্চারণ বন্ধ করলে হয়তো মতাদর্শটিও নিভে যাবে।”

La Vanguardia–র সম্পাদকীয় বলছে—আজকের স্পেন সেই পেছানো দেশ নয়, যেখানে “যা নিষিদ্ধ নয়, তা বাধ্যতামূলক”—এমন ছিল স্বৈরশাসনের সময়কার কৌতুক। গণতন্ত্র স্পেনে এনেছে সম্পূর্ণ বদল—স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই এখন দেশটি আধুনিক ইউরোপের সমতুল্য। ইউরোজোনের চেয়েও দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্পেনকে ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করছে।

পঞ্চাশ বছর পর, প্রশ্নটি এখনো তীক্ষ্ণ: স্পেন কি অতীতকে অতিক্রম করতে পারবে, নাকি ফ্রাঙ্কোর ছায়া নতুন প্রজন্মকে আবারও বিভ্রান্ত করছে?

#Francoism #SpainPolitics #Vox #EuropeanRight #Democracy #Authoritarianism #Sarakhon #GlobalAnalysis