১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা ইরানের অস্থিরতায় বেইজিংয়ের সামনে কঠিন সমীকরণ চীন সফরের আগমুহূর্তে ধাক্কা, কানাডা থেকে আমদানি কমিয়ে দিল বেইজিং সাকস গ্লোবালের দেউলিয়া আবেদন, ঋণের ভারে নেমে এল মার্কিন বিলাসবহুল ফ্যাশনের বড় ধস জাপানের ইয়েন দেড় বছরের সর্বনিম্নে, নির্বাচনী জল্পনায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সুদের হার কমার ইঙ্গিত, মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশে নামার পথে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীল মুদ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের অংশীদারত্ব নিম্ন কার্বন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ইঙ্গিত বিএপির ইরান ঘিরে সরবরাহ শঙ্কায় টানা পঞ্চম দিনে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম রায় বহাল, কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না মঞ্জুরুল

ওয়াশিংটন ডিসির গুলিবর্ষণের পর ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অভিবাসনেও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন ডিসিতে থ্যাংকসগিভিংয়ের আগের দিন মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। অভিযুক্ত আফগান শরণার্থী রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল (২৯) এক নারী সৈনিককে হত্যা এবং আরেকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি গুলি রিলোড করার সময় আহত হয়ে আটক হন এবং হাসপাতালের বেড থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে—আফগান নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা, আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আফগানিস্তান থেকে ২০২১-এর প্রত্যাহারের পর যেসব প্রায় দুই লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাদের নাকি “সম্পূর্ণ অযাচাইকৃত” অবস্থায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। যদিও নথি বলছে—লাখানওয়ালকে উভয় প্রশাসনই কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং ট্রাম্প প্রশাসনই তাকে ২০২১ সালে আশ্রয় দেয়।

১৯ দেশ থেকে অভিবাসন বন্ধ, অনুষ্ঠান বাতিল

DHS আফগানিস্তান ছাড়াও ইরান, ভেনেজুয়েলা, হাইতি, সোমালিয়া—সহ ১৯টি দেশের সব অভিবাসন, আশ্রয় ও নাগরিকত্বের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বহু মানুষের শপথ অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে।
ট্রাম্প বিশেষভাবে সোমালিদের আক্রমণ করে বলেন, “ওরা আবর্জনা… তাদের দেশ নোংরা, আমরা তাদের এখানে চাই না।” হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান ক্রিস্টি নোম বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার তালিকা শিগগিরই ৩০ দেশে বাড়বে।

অভিমত: এক ঘটনার পর পুরো সম্প্রদায়কে শাস্তি কি ন্যায্য?

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে—এ হামলা “একটি জাতীয় শোকের ঘটনা”, কিন্তু এক ব্যক্তির অপরাধকে পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো গুরুতর ভুল। সৈনিকদের মোতায়েন বা রাজনৈতিক উত্তাপ নয়—এই ঘটনার জন্য দায়ী শুধুই হামলাকারী।

মেরিন ভেটেরান এলিয়ট অ্যাকারম্যান The Free Press–এ লিখেছেন—গত ২০ বছরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা আফগানরা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও বিশ্বস্ত। তাদের “ডেথ স্কোয়াড” বলা মার্কিন বাহিনীরই অপমান। যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তান ছাড়ে, তখন এদের জীবনে ঝুঁকি তৈরি হয়—তাই আশ্রয় দেওয়া হয়।

অন্যদিকে National Review বলছে—লাখানওয়ালের চার বছরের যুক্তরাষ্ট্রজীবন, বেকারত্ব, মানিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতা ও সম্ভাব্য চরমপন্থায় ঝুঁকে পড়ার বিষয়গুলো তদন্ত করা জরুরি।

সমালোচনা: ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’, ‘জাতীয় নিরাপত্তায় উল্টো ক্ষতি’

ব্লুমবার্গের মতে—ট্রাম্পের এই “চরম প্রতিক্রিয়া” ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রবল ঝুঁকি তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে স্থানীয় সহযোগীদের আস্থা হারাবে যদি পূর্ববর্তী সহযোগীদেরই পরে বহিষ্কার করা হয়।

The Bulwark–এ উইল সালিটান লিখছেন—ট্রাম্পের লক্ষ্য এখন শুধু অনথিভুক্ত নয়, আইনসম্মত অভিবাসী ও এমনকি দেশে জন্ম না নেওয়া ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিককেও সন্দেহের চোখে দেখা। “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” থেকে আগতদের তিনি দোষারোপ করছেন স্কুলব্যর্থতা, অপরাধ এবং নগর অবক্ষয়ের দায়ে। লেখকের ভাষায়—“এখন আর কোনো গোপন সংকেত নেই। মার্কিন সরকার প্রকাশ্যে পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।”

#USImmigration #TrumpPolicy #AfghanRefugees #DHS #MigrationBan #USPolitics #Sarakhon #GlobalNews

জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা

ওয়াশিংটন ডিসির গুলিবর্ষণের পর ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অভিবাসনেও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা

০১:৩২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ওয়াশিংটন ডিসিতে থ্যাংকসগিভিংয়ের আগের দিন মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। অভিযুক্ত আফগান শরণার্থী রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল (২৯) এক নারী সৈনিককে হত্যা এবং আরেকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি গুলি রিলোড করার সময় আহত হয়ে আটক হন এবং হাসপাতালের বেড থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে—আফগান নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা, আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আফগানিস্তান থেকে ২০২১-এর প্রত্যাহারের পর যেসব প্রায় দুই লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাদের নাকি “সম্পূর্ণ অযাচাইকৃত” অবস্থায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। যদিও নথি বলছে—লাখানওয়ালকে উভয় প্রশাসনই কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং ট্রাম্প প্রশাসনই তাকে ২০২১ সালে আশ্রয় দেয়।

১৯ দেশ থেকে অভিবাসন বন্ধ, অনুষ্ঠান বাতিল

DHS আফগানিস্তান ছাড়াও ইরান, ভেনেজুয়েলা, হাইতি, সোমালিয়া—সহ ১৯টি দেশের সব অভিবাসন, আশ্রয় ও নাগরিকত্বের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বহু মানুষের শপথ অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে।
ট্রাম্প বিশেষভাবে সোমালিদের আক্রমণ করে বলেন, “ওরা আবর্জনা… তাদের দেশ নোংরা, আমরা তাদের এখানে চাই না।” হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান ক্রিস্টি নোম বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার তালিকা শিগগিরই ৩০ দেশে বাড়বে।

অভিমত: এক ঘটনার পর পুরো সম্প্রদায়কে শাস্তি কি ন্যায্য?

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে—এ হামলা “একটি জাতীয় শোকের ঘটনা”, কিন্তু এক ব্যক্তির অপরাধকে পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো গুরুতর ভুল। সৈনিকদের মোতায়েন বা রাজনৈতিক উত্তাপ নয়—এই ঘটনার জন্য দায়ী শুধুই হামলাকারী।

মেরিন ভেটেরান এলিয়ট অ্যাকারম্যান The Free Press–এ লিখেছেন—গত ২০ বছরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা আফগানরা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও বিশ্বস্ত। তাদের “ডেথ স্কোয়াড” বলা মার্কিন বাহিনীরই অপমান। যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তান ছাড়ে, তখন এদের জীবনে ঝুঁকি তৈরি হয়—তাই আশ্রয় দেওয়া হয়।

অন্যদিকে National Review বলছে—লাখানওয়ালের চার বছরের যুক্তরাষ্ট্রজীবন, বেকারত্ব, মানিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতা ও সম্ভাব্য চরমপন্থায় ঝুঁকে পড়ার বিষয়গুলো তদন্ত করা জরুরি।

সমালোচনা: ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’, ‘জাতীয় নিরাপত্তায় উল্টো ক্ষতি’

ব্লুমবার্গের মতে—ট্রাম্পের এই “চরম প্রতিক্রিয়া” ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রবল ঝুঁকি তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে স্থানীয় সহযোগীদের আস্থা হারাবে যদি পূর্ববর্তী সহযোগীদেরই পরে বহিষ্কার করা হয়।

The Bulwark–এ উইল সালিটান লিখছেন—ট্রাম্পের লক্ষ্য এখন শুধু অনথিভুক্ত নয়, আইনসম্মত অভিবাসী ও এমনকি দেশে জন্ম না নেওয়া ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিককেও সন্দেহের চোখে দেখা। “তৃতীয় বিশ্বের দেশ” থেকে আগতদের তিনি দোষারোপ করছেন স্কুলব্যর্থতা, অপরাধ এবং নগর অবক্ষয়ের দায়ে। লেখকের ভাষায়—“এখন আর কোনো গোপন সংকেত নেই। মার্কিন সরকার প্রকাশ্যে পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।”

#USImmigration #TrumpPolicy #AfghanRefugees #DHS #MigrationBan #USPolitics #Sarakhon #GlobalNews